Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ট্রেনে তুমুল ঝগড়া। তার মাঝেই একজন (National Language) বলে উঠলেন, “হিন্দুস্থান মে রেহেতে হ্যায় না? হিন্দি বলিয়ে” এই ধরণের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল ভাইরাল। কিন্তু আসল সত্যি কি সবার জানা? একটা প্রশ্ন থেকেই যায়। ভারতের রাষ্ট্রীয় ভাষা কি হিন্দি?
ভারতবর্ষের “রাষ্ট্রীয় ভাষা” (National Language)
বাস্তবে কিন্তু ভারতবর্ষের কোনও একক “রাষ্ট্রীয় ভাষা” (National Language) নেই। ভারত একটি বহুভাষিক ও বহুসাংস্কৃতিক দেশ, যেখানে শতাধিক ভাষা ও উপভাষার ব্যবহার রয়েছে। সেই বৈচিত্র্যকে সম্মান জানাতেই সংবিধান প্রণেতারা কোনও একটিমাত্র ভাষাকে রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে ঘোষণা করেননি।

সরকারি ভাষা, রাষ্ট্রীয় নয় (National Language)
ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকারের দাপ্তরিক (National Language) কাজকর্মের জন্য দুটি ভাষা ব্যবহৃত হয়-হিন্দি ও ইংরেজি। সংবিধানের ৩৪৩ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, দেবনাগরী লিপিতে লেখা হিন্দি হবে কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যতম সরকারি ভাষা। পাশাপাশি, ইংরেজিকেও সহ-সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে প্রশাসনিক ও আইনি কাজে। তাই হিন্দি গুরুত্বপূর্ণ হলেও তাকে রাষ্ট্রীয় ভাষা বলা আইনত সঠিক নয়।
সংবিধানের অষ্টম তফসিল
এছাড়াও সংবিধানের অষ্টম তফসিলে বর্তমানে ২২টি ভাষাকে স্বীকৃত ভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলা, তামিল, তেলুগু, মারাঠি, উর্দু, গুজরাতি, মালয়ালম, পাঞ্জাবি সহ বহু আঞ্চলিক ভাষা রয়েছে। প্রতিটি রাজ্য নিজেদের প্রশাসনিক ভাষা নির্ধারণের অধিকার রাখে, ফলে ভাষাগত স্বাধীনতাও বজায় থাকে।

আরও পড়ুন: Kolkata Metro Rail: কলকাতা মেট্রোয় এবার রিটার্ন টিকিটের সুবিধা
ভাষা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হলেও মনে রাখা জরুরি, ভারত কোনও এক ভাষার দেশ নয়। এই দেশের শক্তি তার বৈচিত্র্যে। একাধিক ভাষার সহাবস্থানই ভারতীয় গণতন্ত্র ও সংস্কৃতির অন্যতম মূল ভিত্তি। তাই হিন্দি ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভাষা হলেও, রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে তাকে চিহ্নিত করা ঠিক নয়। তাই নিজের ভাষা নিজে সগর্বে বলুন।


