Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রিমিক মাঝি: ‘খাম’ প্রতীক ফেরত চেয়ে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)-এর বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীর করা মামলা খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Naushad Siddiqui)। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চে মামলার চূড়ান্ত শুনানি আগেই শেষ হয়েছিল। রায়দান স্থগিত ছিল। বুধবার সেই মামলায় আদালতের সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসে। ফলে আসন্ন উপনির্বাচনে আইএসএফ-কে নির্বাচন কমিশনের বরাদ্দ করা ‘আলমারি’ প্রতীকেই লড়তে হবে। অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস ‘খাম’ প্রতীকেই নির্বাচনে লড়বে।

কেন তৈরি হয়েছিল প্রতীক নিয়ে বিতর্ক? (Naushad Siddiqui)
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও আইএসএফ ‘খাম’ প্রতীক ব্যবহার করেছিল। কিন্তু উপনির্বাচনের আগে সেই প্রতীক গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসকে বরাদ্দ করে নির্বাচন কমিশন। আইএসএফকে দেওয়া হয় ‘আলমারি’। এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেই আদালতের দ্বারস্থ হন নওশাদ সিদ্দিকী। তাঁর বক্তব্য ছিল, দলের নির্বাচনী পরিচয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত প্রতীকটি অন্য একটি দলকে দেওয়া হলে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
শুনানিতে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন (Naushad Siddiqui)
মামলার শুনানির সময় নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত জানতে চেয়েছিল, কমিশনের হাতে বহু মুক্ত প্রতীক থাকা সত্ত্বেও কেন আগে ব্যবহৃত ‘খাম’ প্রতীকটি অন্য দলকে দেওয়া হল। আদালতের পর্যবেক্ষণে কমিশনের সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা ও পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্নও উঠে আসে।
শেষ পর্যন্ত বদলাল না প্রতীক (Naushad Siddiqui)
তবে সেই পর্যবেক্ষণের পরও আইএসএফের আবেদন মঞ্জুর হয়নি। বুধবার মামলা খারিজ হওয়ায় উপনির্বাচনে ‘খাম’ ফেরত পাওয়ার আইনি লড়াইয়ে ইতি পড়ল। অর্থাৎ ভোটারদের সামনে আইএসএফের প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে থাকবে ‘আলমারি’, আর গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক থাকবে ‘খাম’।
নন্দীগ্রামে মিলন প্রধানকে ঘিরেও আইনি টানাপোড়েন
অন্যদিকে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনকে ঘিরে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি লড়াই চলছে। মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে ২০০৭ সালের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের ছয়টি মামলায় অন্তর্বর্তী জামিন দেন। ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনে প্রচারের সুযোগ করে দিতেই তাঁকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত এই অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের চ্যালেঞ্জ (Naushad Siddiqui)
হাইকোর্টের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছে রাজ্য। দ্রুত শুনানির আবেদন জানিয়ে রাজ্যের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা যুক্তি দেন, মামলাগুলির মধ্যে খুনের অভিযোগ রয়েছে এবং ৬ অক্টোবর ভোট হওয়ায় সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ বৃহস্পতিবার জরুরি শুনানি না করে ৫ অক্টোবর, সোমবার মামলাটি শুনতে রাজি হয়।
আরও পড়ুন: Delhi Temperature Drop: বৃষ্টি-মেঘে কমল পারদ, দিল্লিতে ২১°! শীত কী এবার আগেই?
ভোটের আগে আদালতেই একের পর এক সিদ্ধান্ত
ফলে উপনির্বাচনের ঠিক আগে একদিকে আইএসএফের প্রতীক-সংক্রান্ত মামলা শেষ হল, অন্যদিকে মিলন প্রধানের জামিন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে নতুন আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। ৬ অক্টোবরের ভোটের আগে প্রতীক, প্রার্থীর জামিন এবং নির্বাচন পরিচালনা—সব মিলিয়ে আইনি সিদ্ধান্তগুলিও এখন নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।



