Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: অবশেষে মুম্বই শহরের আকাশপথে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো (Navi Mumbai International Airport)। বৃহস্পতিবার থেকে নবি মুম্বই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্যিক উড়ান পরিষেবা চালু করেছে। এই নতুন বিমানবন্দরটি শহরের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে পরিচিতি পেল, ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পর। দেশের বিমান পরিকাঠামোর উন্নয়নে এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রথম বাণিজ্যিক উড়ান হিসেবে বেঙ্গালুরু থেকে আসা ইন্ডিগোর 6E460 বিমানটি সকাল ৮টায় নবি মুম্বইয়ে অবতরণ করে। বিমান অবতরণের সঙ্গে সঙ্গে জলকামানের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী স্বাগত জানানো হয়। এর প্রায় ৪০ মিনিট পর হায়দরাবাদগামী ইন্ডিগোর 6E882 উড়ান যাত্রী নিয়ে উড়ে যায়, যা বাণিজ্যিক পরিষেবার সূচনার প্রতীক।
পরিকল্পনা ও নির্মাণের দীর্ঘ ইতিহাস (Navi Mumbai International Airport)
নবি মুম্বই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিকল্পনা প্রথম নেওয়া হয় ১৯৯৭ সালে। মহারাষ্ট্র সরকারের সংস্থা সিডকো নবি মুম্বই এলাকায় আধুনিক গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর গড়ার প্রস্তাব দেয়। তবে জমি অধিগ্রহণ, পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং পরবর্তীতে কোভিড-১৯ মহামারির মতো বাধার কারণে প্রকল্পটি বারবার পিছিয়ে যায়। অবশেষে ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই প্রকল্পের শিলান্যাস করেন। ২০২১ সালে আদানি এয়ারপোর্টস হোল্ডিংস লিমিটেডের দায়িত্বে বিমানবন্দর নির্মাণ ও পরিচালনা কার্যক্রম শুরু হয়।
বিনিয়োগ ও পরিকাঠামো (Navi Mumbai International Airport)
প্রথম পর্যায়ে এই বিমানবন্দর নির্মাণে প্রায় ১৯,৬৫০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। ১,১৬০ হেক্টর জমির উপর বিস্তৃত এই আধুনিক বিমানবন্দর বর্তমানে একটি রানওয়ে এবং একটি যাত্রী টার্মিনাল নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে যাত্রী টার্মিনালের বার্ষিক ধারণক্ষমতা প্রায় ২ কোটি। পরবর্তী ধাপে পাঁচটি পর্ব সম্পূর্ণ হলে বছরে প্রায় ৯ কোটি যাত্রী পরিবহন সম্ভব হবে। নবি মুম্বই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই থাকবে পৃথক কার্গো টার্মিনাল, লজিস্টিক হাব এবং আধুনিক মাল্টিমোডাল যোগাযোগ ব্যবস্থা।

পরিচালনা ও শেয়ারহোল্ডিং (Navi Mumbai International Airport)
বিমানবন্দরটি পরিচালনা করছে নবি মুম্বই ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট লিমিটেড। এই সংস্থায় আদানি গোষ্ঠীর অংশীদারিত্ব ৭৪ শতাংশ, এবং মহারাষ্ট্র সরকারের সংস্থা সিডকোর অংশ ২৬ শতাংশ। প্রথম দিনে শুধু ঘরোয়া উড়ান চালু হয়েছে। ইন্ডিগো, এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস, আকাসা এয়ার এবং স্টার এয়ার এই চারটি বিমান সংস্থা মিলিয়ে দেশের ৯টি শহরের সঙ্গে সরাসরি বিমান যোগাযোগ শুরু করেছে। প্রথম দিনে মোট ১৫টি নির্ধারিত উড়ান চলাচল করবে।
পরিষেবা ও প্রযুক্তি (Navi Mumbai International Airport)
নবি মুম্বই বিমানবন্দর প্রথম দিনে সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। দিনে সর্বাধিক ২৪টি উড়ান এবং প্রতি ঘণ্টায় ১০টি বিমান ওঠানামার ক্ষমতা রয়েছে। আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে ধাপে ধাপে ২৪ ঘণ্টার পরিষেবা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। যাত্রী পরিষেবায় আধুনিক ডিজি-যাত্রা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। চেক-ইন, নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং বোর্ডিং প্রায় সব ধাপে কন্ট্যাক্টলেস ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। খাবার ও কেনাকাটার ক্ষেত্রে স্থানীয় সংস্কৃতির ছোঁয়া এবং সাধারণ যাত্রীদের জন্য গ্রহণযোগ্য মূল্যবোধে জোর দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: Thailand Cambodia Border: থাইল্যান্ড–কম্বোডিয়া সংঘাতে ভারতের উদ্বেগ
পরিবেশ বান্ধব নকশা
বিমানবন্দরের স্থাপত্য নকশায় অনুপ্রেরণা হিসেবে রাখা হয়েছে ভারতের জাতীয় ফুল পদ্ম। আধুনিক পরিকাঠামোর সঙ্গে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি এবং ভারতীয় সাংস্কৃতিক উপাদান মিলিয়ে তৈরি করা হয়েছে টার্মিনাল। নবি মুম্বই বিমানবন্দর চালু হওয়ায় ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উপর যাত্রী ও উড়ানের চাপ অনেকটাই কমবে। একই সঙ্গে মুম্বই মহানগরী একটি পূর্ণাঙ্গ মাল্টি-এয়ারপোর্ট ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাবে।



