Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজ্য রাজনীতিতে ফের তীব্র হল দলবদল, সাংসদদের অবস্থান এবং রাজনৈতিক আনুগত্য নিয়ে বিতর্ক (NCPI)। একদিকে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি ‘NCPI’-র কোনও গুরুত্ব নেই এবং সংশ্লিষ্ট ২০টি আসনে উপনির্বাচন হলে বাংলার মানুষ তাঁদের প্রত্যাখ্যান করবে। অন্যদিকে দলীয় নেত্রী তথা সাংসদ শতাব্দী রায় পাল্টা জানিয়েছেন, সময়ই প্রমাণ করবে কে ঠিক আর কে ভুল। ফলে দুই পক্ষের বক্তব্য ঘিরে নতুন করে সরগরম রাজনৈতিক মহল।
সরাসরি আক্রমণ কল্যাণের (NCPI)
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, NCPI-কে নিয়ে এত আলোচনা করার কোনও প্রয়োজন নেই। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল যদি ওই ২০টি আসনে উপনির্বাচন হয়, তাহলে ফলাফলের মাধ্যমেই প্রকৃত জনসমর্থন স্পষ্ট হয়ে যাবে। কল্যাণের কথায়, ওই ২০ জন সাংসদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ সংক্রান্ত আইনি পদক্ষেপের প্রক্রিয়াও এগোচ্ছে। তাঁর দাবি, ২০টি আসনে উপনির্বাচন হলে বাংলার মানুষ তাঁদের প্রত্যাখ্যান করবেন। তবে তিনি একইসঙ্গে স্পষ্ট করে দেন, এর জন্য বিজেপিকে তিনি দায়ী করছেন না। তাঁর আক্রমণের মূল নিশানা ছিল সংশ্লিষ্ট সাংসদদের রাজনৈতিক অবস্থান এবং তাঁদের সিদ্ধান্ত।
‘না ঘরকা, না ঘাটকা’, আবু তাহেরকে ঘিরে বিস্ফোরক দাবি
আবু তাহেরের কংগ্রেসের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ নিয়েও তীব্র মন্তব্য করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, আবু তাহের কংগ্রেস নেতা গৌরব গগৈয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এই প্রসঙ্গেই কল্যাণের কটাক্ষ এই ধরনের নেতারা এখন ‘না ঘরকা, না ঘাটকা’ অবস্থায় রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক ও মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়ার প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। এ নিয়ে কল্যাণের মন্তব্য, দীর্ঘদিন দিল্লিতে থেকেও অনেকে দিল্লিকে ভালোভাবে দেখার সুযোগ পাননি, তাই এখন তাঁরা সুযোগটি উপভোগ করুন।
দেবকে নিয়েও প্রশ্ন, ‘ডিফেকশন পিটিশন’ সুপ্রিম কোর্টে
অভিনেতা তথা সাংসদ দেবের অবস্থান নিয়েও সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। দেব তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন কি না, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে জানান, কে কার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন তা তাঁর জানা নেই। তবে দেবের বিরুদ্ধেও দলত্যাগ সংক্রান্ত পিটিশন দায়ের হওয়ার দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টেও পৌঁছেছে। এখানেই রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, সংশ্লিষ্ট সাংসদদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিতর্ক এখন শুধুমাত্র রাজনৈতিক মঞ্চে সীমাবদ্ধ নেই; আইনি ক্ষেত্রেও তা গড়িয়েছে।
সুভাষ দেশাই মামলার প্রসঙ্গ টেনে আইনি যুক্তি (NCPI)
দলত্যাগ সংক্রান্ত বিতর্কে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের সুভাষ দেশাই মামলার পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চের পর্যবেক্ষণের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্যের সারমর্ম হল, কোনও বিধায়ক বা সাংসদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের তুলনায় রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্তের গুরুত্ব বেশি। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা মূলত রাজনৈতিক দলের প্রতীক, কর্মসূচি এবং ঘোষিত নীতির ভিত্তিতেই নির্বাচিত হন এমনটাই তাঁর যুক্তি। কল্যাণের দাবি, লেজিসলেটিভ পার্টির নেতৃত্বের কাজ হল রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা। ব্যক্তিগতভাবে আলাদা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ কতটা রয়েছে, সেই প্রশ্নেই তিনি সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী রায়ের উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে ‘প্রমাণ ছাড়া কথা নয়’ (NCPI)
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক মন্তব্যের পর সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর শোনা যায় দলীয় নেত্রী তথা সাংসদ শতাব্দী রায়ের বক্তব্যে। ২০টি আসনে উপনির্বাচন হলে সংশ্লিষ্ট সাংসদরা পরাজিত হবেন কল্যাণের এই মন্তব্যের প্রসঙ্গে শতাব্দী রায় বলেন, ‘‘ওনাকে স্যালুট! সময় প্রমাণ দেবে।’’ অর্থাৎ, পাল্টা রাজনৈতিক আক্রমণে না গিয়ে সময়ের ওপরই বিষয়টি ছেড়ে দেওয়ার বার্তা দেন তিনি।
‘প্রমাণ ছাড়া অভিযোগ করা ঠিক নয়’ (NCPI)
আবু তাহের, খলিলুর রহমান-সহ কয়েকজন সাংসদ কংগ্রেসের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন কল্যাণের এই অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন করা হয় শতাব্দী রায়কে। জবাবে তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণ ছাড়া করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, সময়ই প্রমাণ করবে কে সঠিক এবং কে ভুল। শতাব্দী রায়ের মতে, সংশ্লিষ্ট সাংসদরা নিজেদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন এবং সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান করা উচিত। একইভাবে তাঁরাও যেন অন্য পক্ষের সিদ্ধান্তকে সম্মান করেন এই আবেদনই করেন তিনি।
‘বিদ্রোহী’ নয়, নিজেদের সিদ্ধান্তে অবস্থান—শতাব্দীর ব্যাখ্যা
সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হয়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন সাংসদকে কি দলের ‘বিদ্রোহী’ বলা যায়? শতাব্দী রায় সেই ব্যাখ্যা মানতে চাননি। তাঁর বক্তব্য, তাঁরা বারবার জানিয়েছেন যে তাঁরা বিজেপির সঙ্গে থাকছেন এবং নিজেদের অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন। তাই তাঁদের শুধুমাত্র ‘বিদ্রোহী’ বলে চিহ্নিত করা ঠিক হবে না। তাঁদের নিজস্ব ভাবনা ও সমস্যা রয়েছে এবং তাঁরা নিজেদের অবস্থান থেকে সেই বিষয়গুলি তুলে ধরছেন এমনটাই ব্যাখ্যা দেন তিনি।
দেব কেন বৈঠকে ছিলেন না? উঠল প্রশ্ন (NCPI)
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকে দেবের অনুপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এই প্রসঙ্গে শতাব্দী রায় জানান, দেব শুটিংয়ের কাজে লাদাখে ছিলেন। তাঁর কাজের সময়সূচি আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে এবং দলের সব কর্মসূচি বা বৈঠকের সঙ্গে তাঁর শুটিংয়ের সময়সূচি সবসময় মেলানো সম্ভব নয়। অর্থাৎ, তাঁর অনুপস্থিতিকে রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন বা বিদ্রোহের সঙ্গে যুক্ত করা ঠিক হবে না এমনটাই বোঝাতে চান শতাব্দী।
সংখ্যাতত্ত্বের অঙ্কও গুরুত্বপূর্ণ (NCPI)
এদিকে এনডিএ-র সঙ্গে রাজনৈতিক সমীকরণ, সংসদে বিল পাশ এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতার অঙ্ক নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যদি কোনও পক্ষের কয়েকজন সাংসদ নির্দিষ্ট অবস্থানে না থাকেন, তাহলে সংসদে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংখ্যাতত্ত্বের প্রভাব পড়তে পারে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শতাব্দী রায় বলেন, এই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সাংসদরা যেমন বুঝবেন, তেমনই সরকারও বুঝবে। তাঁর সংক্ষিপ্ত মন্তব্যের মধ্যেই অবশ্য রাজনৈতিক সমীকরণের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে যায়।
আরও পড়ুন: Kolkata Metro: CMS পরীক্ষার্থীদের জন্য রবিবার ভোর থেকেই বিশেষ মেট্রো পরিষেবা
একই সঙ্গে এনটিএ-র প্রশ্নেও বিস্ফোরক অভিযোগ
অন্য একটি প্রসঙ্গে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে উঠে আসে জাতীয় স্তরের নিয়োগ পরীক্ষা নিয়েও অভিযোগ। তাঁর বক্তব্য, বিশেষজ্ঞদের মতে কোনও প্রিন্টিং প্রেস থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি; বরং বাড়িতে বসে মুখে মুখে প্রশ্ন ও উত্তর বলে দেওয়ার মতো অভিযোগ সামনে এসেছে। এই প্রসঙ্গেই তিনি বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে আরও বড় অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, সরকারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতি রয়েছে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও বিষয় সামনে আসবে।



