Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মুম্বইয়ের হয়ে ডি ককের সেঞ্চুরি কাজে এল না, মুম্বইকে হেলায় হারিয়ে টেবিল শীর্ষে শ্রেয়স আইয়াররা (Punjab Kings)।
পাঞ্জাবের দুরন্ত জয় (Punjab Kings)
মহাভারতে কুরুক্ষেত্রে কৌরব এবং পান্ডব যখন মুখোমুখি তখন আকাশে বাতাসে শুধু যুদ্ধের দামামা। মুখোমুখি দুই দল। একদিকে জয়দ্রথ জানতেন যে মহাদেবের আশীর্বাদে তিনি একদিক পাণ্ডবের আটকে রাখতে পারবেন বা পাণ্ডবরা তাঁকে পরাস্ত করতে পারবেন না যদিও সেটা অর্জুন ব্যতীত। আর সেটাই কাজে লাগলেন দুর্যোধন সহ কৌরবরা। আবার জয়দ্রথকে মারার সময় কৃষ্ণ জানতেন যে কৌরব পক্ষের হয়ে লড়াই করা এই যোদ্ধার অভিশাপসম আশীর্বাদের কথা। যে তাঁকে মস্তকহীন করবেন সেও টুকরো হয়ে যাবেন আর তাই কৃষ্ণের নির্দেশে অর্জুনের তিরে জয়দ্রথের মাথা গিয়ে পড়ে তাঁরই বাবার কোলে। সুতরাং যেকোন যুদ্ধে শুধু বীরত্ব দিয়ে জয় আসে না বরং জয় আসে বিপক্ষের শক্তি এবং দুর্বলতা মাথায় রেখে সঠিক সিদ্ধান্তে। সেই দিকে থেকে পাঞ্জাব এগিয়ে গেলেও কলকাতা পিছিয়েই থাকল (Punjab Kings)।
একদিকে পাঞ্জাব আর অন্যদিকে কলকাতা নাইট রাইডার্স। কিন্তু পাঞ্জাব পারলেও পারে না কেকেআর। একদিকে পাঞ্জাব অনায়সে রান তাড়া করে ম্যাচ জিতে যাচ্ছে আর কেকেআর জেতা ম্যাচ বিপক্ষকে উপহার দিয়ে আসছে। যদিও বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর আজও কলকাতা দিতে পারবে না। যার মধ্যে অন্যতম ২০২৪ সালের আইপিএল খেতাব জয়ের পর ঠিক কোন বিশেষ কারণে শ্রেয়স আইয়ারকে ছাড়া হল সেটা বোধহয় গণনা করা হবে অষ্টম আশ্চর্যে। সেই শ্রেয়স পাঞ্জাবকে নিয়ে যাচ্ছেন অন্য উচ্চতায়। একের পর এক ম্যাচ শুধু জয় নয় খেলছেন অধিনায়োকোচিত ইনিংসও। আর কলকাতা গ্রিনকে নিয়ে হাত কামড়াচ্ছে।
গত মরশুমের ফর্ম এই মরশুমেও ধরে রেখেছে পাঞ্জাব কিংস। চলতি আইপিএল-এ একটিও ম্যাচ এখনও হারেনি পাঞ্জাব। বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে দাপুটে জয় ছিনিয়ে নিয়ে তারা এখন অপরাজিত। হাই স্কোরিং ম্যাচে রান তাড়া করাটা এখন যেন তাদের নখদর্পণে। এই দিনের ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ৬ উইকেট হারিয়ে মুম্বইয়ের স্কোর ১৯৫। এই ম্যাচেই প্রথম দলে সুযোগ পান প্রোটিয়া তারকা ডি কক আর সেই ম্যাচেই দুরন্ত সেঞ্চুরি করে নিজের জাত চিনিয়ে দিয়েছেন এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। তবে শেষ পর্যন্ত পাঞ্জাব ব্যাটারদের দাপটে তাঁর শতরান জলে গেল (Punjab Kings)।
একজন সেনাপতি বারবার দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন। কিন্তু তিনি শুধু দিক নির্দেশ দিয়েই যে ক্ষান্ত হন টা নয় বরং সঠিক সময় বোলার পরিবর্তন, পিচ এবং আবহাওয়ার কথা বিবেচনা করে বোলার নির্বাচন থেকে দাপুটে ব্যাটিং। সব মিলিয়ে একদিকে শ্রেয়স যেমন পাঞ্জাবের বড় ভরসা আর অন্যদিকে শ্রেয়সকে ছেড়ে দেওয়া কলকাতার ঐতিহাসিক ভুলগুলির মধ্যে অন্যতম। এই মুহূর্তে পাঞ্জাব টেবিলের শীর্ষে আর কলকাতা লাস্ট বয়।

টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন শ্রেয়স। এই ম্যাচে চোটের কারণে খেলতে পারেননি রোহিত শর্মা। তাঁর জায়গায় দলে সুযোগ পান কুইন্টন ডি কক। শুরুতেই ধাক্কা মুম্বই শিবিরে। ১২ রানের মধ্যে আউট হয়ে ফেরেন রায়ান রিকেলটন এবং সূর্যকুমার যাদব। এখান থেকে খেলার হাল ধরেন ডি কক এবং নমন ধীর। নমন ধীর ৫০ করে আউট হলেও এক কুম্ভ তখন প্রোটিয়া তারকা। হার্দিক, তিলক, রাদারফোর্ডও সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন এই দিন (Punjab Kings)।

দলের হয়ে একা লোরে যাচ্ছেন ডি কক। ২৮ বলে হাফ সেঞ্চুরি। উল্টো দিক পথ হারিয়ে যখন গোলকধাঁধায় হারিয়ে যাচ্ছে তখন নিজের রাস্তা বের করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান। ৬০ বলে ১১২ রানের রূপকথা রচনা করলেন তিনি। তাঁর ইনিংসে রয়েছে ৮টি চার এবং ৭টি ছক্কা। এটি টি-২০ কেরিয়ারে তাঁরনবম সেঞ্চুরি। তাঁর রানের দাপটে মুম্বই থামে ১৯৫ রানে।

আরও পড়ুন: Kolkata Police: জোড়াসাঁকোয় পুলিশের বড় সাফল্য: উদ্ধার ১৮ লক্ষাধিক টাকা, আটক ৩
স্কোর বোর্ডে বড় রান। সেই সময় তার লক্ষ্যে ছুটতে গিয়ে শুরুতেই দুই উইকেট হারিয়ে বসে পাঞ্জাব। তখন পাঞ্জাবের স্কোর ৫০। কিন্তু ‘পিকচার আভি বাকি হ্যায় মেরে দোস্ত’। তখন ক্রিজে রয়েছেন শ্রেয়স ও প্রভসিমরন। জুটিতে তাঁরা করেন ১৩৯ রান। আর এই দুজন ছেলেখেলা করলেন মুম্বইয়ের বুমরা, হার্দিক, শার্দুলদের নিয়ে। ২৩ বলে হাফ সেঞ্চুরিতে পৌঁছন প্রভসিমরন। ৩১ বল নেন শ্রেয়স (Punjab Kings)।
দলের স্কোর যখন ১৮৫, তখন আউট হন শ্রেয়স কিন্তু ততক্ষণে ম্যাচ পাঞ্জাবের পকেটে। ৩৫ বলে ৬৬ রানের ক্যাপ্টেন্স নক খেলে ফেরেন। বাকি কাজটা করে দেন প্রভসিমরন। ৩৯ বলে ৮০ রানে অপরাজিত থাকেন এই ব্যাটার। ২০৫ স্ট্রাইক রেটে খেলা এই ইনিংসে ছিল ১১টি চার ও দুটো ছয়। ২১ বল বাকি থাকতেই মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচ জিতে নেয় পাঞ্জাব (Punjab Kings)। পাঞ্জাবের হয়ে দুরন্ত বোলিং করেছেন অর্শদীপ সিং। তিন উইকেট নিয়ে তিনি হয়েছেন ম্যাচ সেরা।


