Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: জম্মু ও কাশ্মীরের রাজৌরি জেলায় প্রবল বর্ষণের জেরে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা। ১৯ জুলাই রবিবার সকাল থেকেই টানা বৃষ্টির কারণে জেলার একাধিক এলাকায় জলস্তর দ্রুত বাড়তে শুরু করে (Rajouri) । পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে, বহু এলাকায় মেঘভাঙা বৃষ্টির ঘটনাও ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে নদী ও নালাগুলি ফুলে-ফেঁপে ওঠে এবং বিস্তীর্ণ এলাকা জলের তলায় চলে যায়। প্রশাসনের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে বহু বাড়িঘর, যানবাহন, গবাদি পশু এবং বিভিন্ন ধরনের পরিকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে উদ্ধার ও ত্রাণকাজ শুরু হয়েছে।
বেলা কলোনিতে ঢুকে পড়ল রাজৌরি নদীর জল (Rajouri)
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজৌরির বেলা কলোনি। প্রবল স্রোতে রাজৌরি নদীর জল উপচে কলোনির ভিতরে ঢুকে পড়ে। অল্প সময়ের মধ্যেই গোটা এলাকা জলমগ্ন হয়ে যায়। বহু পরিবারের ঘরে কোমর সমান জল ঢুকে পড়ায় বাসিন্দারা কার্যত আটকে পড়েন। স্থানীয়দের দাবি, বন্যার জল এত দ্রুত বাড়তে শুরু করে যে, ঘর থেকে নিরাপদ স্থানে যাওয়ারও সুযোগ পাননি অনেকেই। প্রশাসনের তরফে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে উদ্ধারের জন্য বিশেষ দল মোতায়েন করা হয়েছে।
বাসস্ট্যান্ড থেকে ভেসে গেল একাধিক গাড়ি (Rajouri)
বেলা বাসস্ট্যান্ডে পার্ক করে রাখা একাধিক গাড়ি প্রবল জলের তোড়ে ভেসে যায়। কয়েকটি গাড়ি সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে বাসস্ট্যান্ডটি জলমগ্ন হয়ে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনও করা সম্ভব হয়নি। জল নেমে গেলে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।
গবাদি পশুরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি (Rajouri)
বেলা কলোনি ও সংলগ্ন এলাকায় বহু পরিবার এখনও জলবন্দি অবস্থায় রয়েছে। উদ্ধারকারী দল নৌকা ও অন্যান্য সরঞ্জামের সাহায্যে আটকে পড়া মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এছাড়াও বহু গবাদি পশু বন্যার জলে ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত বহু পরিবারের কাছে এই ক্ষতি অত্যন্ত বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
থানা মান্ডি এলাকায় শ্রমিকরা আটকে পড়েছেন
রাজৌরির থানা মান্ডি মহকুমার চুরুঙ, রাজধানি এবং বেহরোট এলাকাও আকস্মিক বন্যার কবলে পড়েছে। বিশেষ করে বেহরোটে একটি স্টোন ক্রাশার ইউনিটে কর্মরত কয়েকজন শ্রমিক বন্যার জলে আটকে পড়েছেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের নিরাপদে বের করে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে।
মেঘভাঙা বৃষ্টিতে ভেসে গেল কবরস্থান (Rajouri)
মানজাকোট তহসিলের কোটলি কালাবান ও গোলিনারি এলাকায় মেঘভাঙা বৃষ্টির ফলে আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি হয়। প্রবল জলের তোড়ে স্থানীয় কবরস্থান সম্পূর্ণভাবে পাশের জলধারায় ভেসে যায়। বহু কবর ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এলাকায় গভীর শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনাকে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক বলে বর্ণনা করেছেন।
আগেই সতর্ক করেছিল আবহাওয়া দফতর (Rajouri)
ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD) একদিন আগেই জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল। সেই সঙ্গে আকস্মিক বন্যা এবং ভূমিধসের আশঙ্কার কথাও জানানো হয়েছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই আশঙ্কাই বাস্তবে রূপ নেয়। প্রবল বর্ষণের ফলে পাহাড়ি এলাকায় জলধারাগুলির জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে এই বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে।
উদ্ধার ও ত্রাণকাজে প্রশাসন (Rajouri)
জেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং অন্যান্য উদ্ধারকারী সংস্থাগুলি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। আটকে পড়া মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি খাদ্য, পানীয় জল ও জরুরি চিকিৎসা পরিষেবার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদীর ধারে এবং নিচু এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাড়ির বাইরে না বেরোনো এবং প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার আবেদনও জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: Weather Update: রাজ্য জুড়ে দুর্যোগের মেঘ! উত্তরবঙ্গে জারি লাল সতর্কতা, দক্ষিণেও নামবে তুমুল বৃষ্টি
প্রকৃতির রুদ্ররূপে বিপর্যস্ত রাজৌরি
বর্ষাকালে পাহাড়ি অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও মেঘভাঙা বৃষ্টির ঘটনা নতুন নয়। তবে এদিনের দুর্যোগ রাজৌরির বহু মানুষের স্বাভাবিক জীবনকে সম্পূর্ণভাবে বিপর্যস্ত করে দিয়েছে। বহু পরিবার ঘরছাড়া, বহু মানুষের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত এবং অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।



