Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দিল্লির পুরনো শহর এলাকার তুর্কমান গেট সংলগ্ন ফাইজ-ই-ইলাহি মসজিদ চত্বরকে কেন্দ্র করে বুধবার ভোররাতে যে উচ্ছেদ অভিযান ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, তা শুধু একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপে সীমাবদ্ধ নেই (Ramleela Ground)। এই ঘটনা ফের সামনে এনেছে রাজধানীর বেআইনি দখল, ধর্মীয় স্থাপনার আইনি অবস্থান এবং আদালতের নির্দেশ কার্যকর করার পদ্ধতি নিয়ে একাধিক জটিল প্রশ্ন।
ভোররাতের অভিযানে হঠাৎ উত্তেজনা (Ramleela Ground)
বুধবার (৭ জানুয়ারি) ভোরে দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (এমসিডি) রামলিলা ময়দানের কাছে তুর্কমান গেট এলাকায় বেআইনি নির্মাণ উচ্ছেদের অভিযান শুরু করে। প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, ফাইজ-ই-ইলাহি মসজিদের আশপাশে দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ দখল ও নির্মাণ চলছিল। সেই কারণেই আদালতের নির্দেশ মেনে এই অভিযান চালানো হয়। কিন্তু ভোরের অন্ধকারে অভিযান শুরু হতেই পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের দাবি, কিছু দুষ্কৃতী ইচ্ছাকৃতভাবে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়।
আহত অন্তত পাঁচজন (Ramleela Ground)
পাথর ছোড়ার ঘটনায় অন্তত পাঁচজন পুলিশকর্মী আহত হন বলে দিল্লি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। দিল্লি পুলিশের সেন্ট্রাল রেঞ্জের যুগ্ম কমিশনার মাধুর ভার্মা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ অত্যন্ত সীমিত শক্তি প্রয়োগ করেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, “ভাঙচুর চলাকালীন কয়েকজন দুষ্কৃতী পাথর ছুঁড়ে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করে। তবে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।” ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
১৭টি বুলডোজার (Ramleela Ground)
এমসিডি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই অভিযানের জন্য প্রায় ১৭টি বুলডোজার নামানো হয়েছিল। প্রশাসনের দাবি, সংঘর্ষ এড়াতে আগেই ‘আমান কমিটি’ এবং স্থানীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও অভিযান শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এই বিষয়টিই প্রশাসনের প্রস্তুতি ও বাস্তব পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিভিন্ন মহলে।

আদালতে বিচারাধীন বিষয় (Ramleela Ground)
এই ঘটনার সবচেয়ে বিতর্কিত দিক হল বিষয়টি ইতিমধ্যেই দিল্লি হাই কোর্টে বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও উচ্ছেদ অভিযান কেন চালানো হল। মসজিদ সয়েদ ফাইজ এলাহির ম্যানেজিং কমিটি এমসিডির জারি করা উচ্ছেদ নির্দেশের বিরুদ্ধে আদালতে আবেদন করেছে। তাঁদের দাবি, তুর্কমান গেট এলাকার মসজিদ ও কবরস্থানের সংলগ্ন জমিকে বেআইনিভাবে দখল বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে দিল্লি হাই কোর্ট মন্তব্য করে, “বিষয়টি বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে।” আদালত নগর উন্নয়ন মন্ত্রক, এমসিডি এবং দিল্লি ওয়াকফ বোর্ডকে চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে আগামী ২২ এপ্রিল।
জমির পরিমাপ নিয়ে বিরোধ (Ramleela Ground)
এমসিডির ২২ ডিসেম্বর ২০২৫-এর নির্দেশ অনুযায়ী, ০.১৯৫ একরের বেশি জমিতে নির্মিত সব কাঠামো ভাঙা হবে। প্রশাসনের দাবি, এই অতিরিক্ত জমির উপর মসজিদ পরিচালন কমিটি বা দিল্লি ওয়াকফ বোর্ড কোনও বৈধ মালিকানার নথি দেখাতে পারেনি। অন্যদিকে, আবেদনকারীদের বক্তব্য মূল মসজিদটি ০.১৯৫ একর জমির মধ্যেই অবস্থিত এবং তার বাইরের অংশ নিয়ে যে দাবি করা হচ্ছে, তা যথাযথ যাচাই ছাড়াই করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: Ananya Guha: বিয়ের দু’মাস আগেই গায়ে হলুদের সাজে অনন্যা
পুরনো আদালতের নির্দেশ
প্রসঙ্গত, গত ১২ নভেম্বর ২০২৫-এ দিল্লি হাই কোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ এমসিডি এবং পূর্ত দপ্তরকে তুর্কমান গেট সংলগ্ন রামলিলা গ্রাউন্ড এলাকায় প্রায় ৩৮,৯৪০ বর্গফুট জমি থেকে তিন মাসের মধ্যে বেআইনি দখল সরানোর নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশের ভিত্তিতেই ২২ ডিসেম্বর এমসিডি উচ্ছেদ সংক্রান্ত আদেশ জারি করে। কিন্তু সেই আদেশ কার্যকর করার সময় আদালতে চলমান মামলার বিষয়টি কতটা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।



