Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল : অংশুমান চক্রবর্ত্তী: নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে বিতর্কিত বা আপত্তিকর মন্তব্যের বিরোধিতা করে এবার কড়া বার্তা দিলেন রাজ্য বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বোস (Rathindra Bose)। বৃহস্পতিবার কার্শিয়াংয়ের গিদ্দা পাহাড়ে নেতাজী মিউজিয়াম পরিদর্শনে গিয়ে তিনি স্পষ্ট করে দেন, নেতাজী শুধু একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী নন, তিনি বাঙালি তথা সমগ্র ভারতবাসীর গর্ব ও আবেগের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা এক ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে নেতাজীর প্রতি মানুষের গভীর শ্রদ্ধা এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর অসামান্য ভূমিকার কথা।

‘নেতাজী আমাদের মননে, নয়নে, হৃদয়ে’ (Rathindra Bose)
নেতাজীকে নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্পিকার বলেন, “নেতাজী আমাদের মননে, নয়নে, আমাদের হৃদয়ে।” তাঁর মতে, ভারতের স্বাধীনতা অর্জনের ইতিহাসে নেতাজীর ভূমিকা এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে তাঁকে বাদ দিয়ে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস কল্পনা করা কঠিন। তাঁর নেতৃত্ব, সাহস, আত্মত্যাগ এবং দেশপ্রেম আজও কোটি কোটি ভারতবাসীকে অনুপ্রাণিত করে। তাই নেতাজীর মতো জাতীয় বীরকে নিয়ে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে সকলেরই দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
বিতর্কিত মন্তব্যে সমাজে বিরূপ প্রভাবের আশঙ্কা (Rathindra Bose)
বর্তমান সময়ে নেতাজীকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য ও বিতর্কের প্রেক্ষাপটে স্পিকারের বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এমন কোনও কথা বলা উচিত নয়, যা সমাজের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। নেতাজীকে নিয়ে মানুষের আবেগ অত্যন্ত গভীর। ফলে তাঁকে ঘিরে কোনও আপত্তিকর মন্তব্য শুধু একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে অসম্মান করার প্রশ্ন নয়, তার সামাজিক প্রতিক্রিয়াও তৈরি হতে পারে। তাই রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা ব্যক্তিগত মত প্রকাশের ক্ষেত্রেও নেতাজীর মতো জাতীয় ব্যক্তিত্বকে নিয়ে সংযত থাকার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
অন্যায় হলে সরকার ব্যবস্থা নেবে (Rathindra Bose)
কেউ যদি নেতাজীকে নিয়ে অন্যায় বা আপত্তিকর মন্তব্য করে থাকেন, তাহলে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন বিধানসভার স্পিকার। তাঁর কথায়, অন্যায় হয়ে থাকলে সরকার অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে। তবে এই বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে তিনি একই সঙ্গে আইন, সামাজিক সম্প্রীতি এবং জাতীয় ইতিহাসের প্রতি সম্মান বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন। নেতাজীর প্রতি সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধাকে সম্মান জানিয়ে দায়িত্বশীল বক্তব্য রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
গিদ্দা পাহাড়ে নেতাজীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা (Rathindra Bose)
এদিন গিদ্দা পাহাড়ের নেতাজী মিউজিয়াম পরিদর্শন করেন রথীন্দ্রনাথ বোস। নেতাজীর স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন বিষয় ঘুরে দেখার পাশাপাশি স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের নানা দিকের সঙ্গে পরিচিত হন তিনি। কার্শিয়াংয়ের পাহাড়ি পরিবেশে নেতাজীর স্মৃতিবিজড়িত এই স্থান দীর্ঘদিন ধরেই ইতিহাসপ্রেমী এবং পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র। মিউজিয়াম পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে নেতাজীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি তাঁর ঐতিহাসিক অবদানকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার গুরুত্বও উঠে আসে।
আরও পড়ুন : Abhishek Banerjee PA: শালবনি জমি মামলায় ফের সিআইডি-র জেরার মুখে সুমিত রায়
আগামী প্রজন্মের প্রেরণা নেতাজীর আদর্শ
রথীন্দ্রনাথ বোসের বক্তব্যে বারবার ফিরে এসেছে নেতাজীর আদর্শ ও আত্মত্যাগের প্রসঙ্গ। তিনি মনে করেন, সময় বদলালেও নেতাজীর প্রাসঙ্গিকতা কখনও শেষ হওয়ার নয়। দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ, সাহস এবং স্বাধীনতার জন্য লড়াই করার মানসিকতা আগামী প্রজন্মকেও অনুপ্রাণিত করতে পারে। নেতাজীকে কোনও বিতর্কের কেন্দ্রে না এনে তাঁর জীবন, সংগ্রাম ও আদর্শ থেকে শিক্ষা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাই নেতাজীকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের পরিবর্তে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা ও ঐতিহাসিক সত্যের প্রতি দায়বদ্ধতাই হওয়া উচিত সকলের প্রধান দায়িত্ব।



