Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপ যেন প্রকৃতির কাছে অবিরত পরীক্ষার মঞ্চ (Ring of Fire)। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, পাহাড়ধসের ক্ষত এখনো তাজা; ঠিক সেই সময়েই ফের কেঁপে উঠল আচেহ প্রদেশ। বুধবার সকালে ৬.৩ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প মুহূর্তে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয় দেশজুড়ে। এই ঘটনা শুধু সাম্প্রতিক দুর্যোগের তালিকায় নতুন একটি লাইন যোগ করেনি, বরং পুনরায় মনে করিয়ে দিয়েছে ‘রিং অব ফায়ার’-এ বাস মানেই চিরন্তন প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা।

কীভাবে অনুভূত হল কম্পন? (Ring of Fire)
ইন্দোনেশিয়া ভূতাত্ত্বিকভাবে অতি সক্রিয় অঞ্চল। এবার যে কম্পন অনুভূত হয়েছে, তার উৎস ছিল সিনাবাং আগ্নেয়গিরির পশ্চিমে প্রায় ৬৩ কিলোমিটার দূরে। গভীরতা: মাত্র ১০ কিলোমিটার অগভীর হওয়ায় কম্পনের তীব্রতা বেশি অনুভূত হয়। সময়: স্থানীয় সময় বুধবার সকাল। প্রভাব: বাড়িঘর কেঁপে ওঠে, মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে আসে আতঙ্কে। এখনও পর্যন্ত বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর মেলেনি, যা কিছুটা স্বস্তির কথা। তবে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, অগভীর কম্পনের প্রকৃতি ঝুঁকিপূর্ণ এর ধাক্কা সাধারণত বেশি ভয়াবহ হতে পারে।
‘সেনিয়ার’-এর তাণ্ডবে বিধ্বস্ত উত্তর সুমাত্রা (Ring of Fire)
ভূমিকম্পের আগেও উত্তর সুমাত্রা ভয়াবহ অবস্থায় ছিল ঘূর্ণিঝড় সেনিয়ার আঘাতে। প্রবল বৃষ্টি, পাহাড়ধস, ব্যাপক বন্যা, এগুলোর কারণে ইতিমধ্যে ২৫ জনেরও বেশি প্রাণহানি হয়েছে এবং নিখোঁজ অন্তত ১০ জন। হাজারো মানুষ ঘরছাড়া, অনেকে বিচ্ছিন্ন এলাকায় আটকে রয়েছেন। সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎ সংযোগ বহু ক্ষতি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন ভূমিকম্প উদ্ধারকাজ এবং ত্রাণপ্রক্রিয়াকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

প্রশান্ত রিং অব ফায়ারের নির্মম চেহারা (Ring of Fire)
ইন্দোনেশিয়া এমন একটি অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে পৃথিবীর সর্বাধিক ভূমিকম্প ঘটে ‘রিং অব ফায়ার’। USGS ও ভলকানো ডিসকভারি জানায়, গত ৩০ দিনে: ১,৪৪০টিরও বেশি ভূমিকম্প, তীব্রতা: সর্বোচ্চ ৬.৪ মাত্রা, মাঝারি মাত্রার (৪.৫+) কম্পন: প্রায় ২৫০টি, গত ৬ মাসে: ২,৩০০টিরও বেশি মাঝারি ভূমিকম্প, এটাই প্রমাণ করে ইন্দোনেশিয়ার টেকটোনিক প্লেটের ওপর চাপ কতটা বিপজ্জনকভাবে জমা হচ্ছে।
সুমাত্রা কেন এত বিপজ্জনক? (Ring of Fire)
সুমাত্রা সাবডাকশন জোনের অন্যতম সক্রিয় অংশে অবস্থিত। টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষ, ইন্দো-অস্ট্রেলিয়ান প্লেট, ইউরেশিয়ান প্লেট, প্রতি বছর ৫–৭ সেন্টিমিটার করে একটি প্লেট অন্যটির নিচে ডুবে যাচ্ছে। এই সাবডাকশনের ফলে ভূত্বকের নিচে প্রচণ্ড শক্তি জমা হয়, যা ভূমিকম্পে রূপ নেয়। ২০০৪ সালের ভয়াবহ স্মৃতি সুমাত্রার উপকূলে ৯.১ মাত্রার ভূমিকম্প এবং সুনামিতে প্রাণ হারিয়েছিল ২.৩ লক্ষেরও বেশি মানুষ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এ ধরনের বড় কম্পন ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে।
আরও পড়ুন: Sholay Screening Cancelled: শেষমুহূর্তে কেন থেমে গেল ‘শোলে’-র গোল্ডেন জুবিলি স্ক্রিনিং?
অগভীর ভূমিকম্প কেন বেশি বিপজ্জনক?
এই ভূমিকম্পের গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার।, অল্প গভীর কম্পন ভূমিতে বেশি দোলন সৃষ্টি করে। ভবন, সেতু, রাস্তা সবই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে মানুষের প্রাণহানির ঝুঁকি দ্রুত বাড়ে। যদিও এবারের কম্পনে সুনামির হুমকি দেখা যায়নি, বিশেষজ্ঞরা সতর্ক সুমাত্রায় যেকোনো সময় সমুদ্রতলে বড় কম্পন হলে সুনামি তৈরি হতে পারে।



