Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কেটিভি বাংলা ডিজিটাল: শিলিগুড়ি মহাকুমা পরিষদের অন্তর্গত ঘোষপুকুর অঞ্চলের তিতলিগুড়ি গ্রামে এখন সবচেয়ে বড় সংকটের নাম শিলিগুড়ি মহাকুমা পরিষদের অন্তর্গত ঘোষপুকুর অঞ্চলের তিতলিগুড়ি গ্রামে এখন সবচেয়ে বড় সংকটের না বিশুদ্ধ পানীয় জল। গত প্রায় দু’বছর ধরে এই গ্রামের কয়েকশো পরিবার প্রতিদিন জল সংগ্রহের জন্য চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। আধুনিক সময়ে দাঁড়িয়েও নিরাপদ পানীয় জলের জন্য হাহাকার করতে হচ্ছে গ্রামের মানুষকে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, শুধু দৈনন্দিন জীবনই নয়, সামাজিক জীবনেও তার গভীর প্রভাব পড়েছে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, পানীয় জলের অভাবের কারণে বহু যুবকের বিয়ের সম্বন্ধ ভেঙে যাচ্ছে (Siliguri)।

বিশুদ্ধ পানীয় জল। গত প্রায় দু’বছর ধরে এই গ্রামের কয়েকশো পরিবার প্রতিদিন জল সংগ্রহের জন্য চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। আধুনিক সময়ে দাঁড়িয়েও নিরাপদ পানীয় জলের জন্য হাহাকার করতে হচ্ছে গ্রামের মানুষকে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, শুধু দৈনন্দিন জীবনই নয়, সামাজিক জীবনেও তার গভীর প্রভাব পড়েছে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, পানীয় জলের অভাবের কারণে বহু যুবকের বিয়ের সম্বন্ধ ভেঙে যাচ্ছে।
৫০০ থেকে ৬০০ পরিবারের নিত্যদিনের লড়াই (Siliguri)
তিতলিগুড়ি গ্রামের প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০টি পরিবার বর্তমানে তীব্র জলসংকটের মধ্যে বসবাস করছে। বিশেষ করে গ্রীষ্মের সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অধিকাংশ কুয়ো শুকিয়ে গিয়েছে, এলাকার বেশিরভাগ চাপাকল বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। ফলে প্রতিদিন বিশুদ্ধ জল সংগ্রহ করাই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বাইরের উৎস থেকে টাকা দিয়ে পানীয় জল কিনে আনছেন। যাঁদের সেই সামর্থ্য নেই, তাঁরা দূর-দূরান্ত থেকে জল সংগ্রহ করছেন। প্রতিদিনের এই সংগ্রাম তাঁদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।
বিয়ের সম্বন্ধেও বড় বাধা জলসংকট (Siliguri)
জলসংকটের প্রভাব শুধু দৈনন্দিন জীবনে সীমাবদ্ধ নেই। গ্রামবাসীদের দাবি, তিতলিগুড়িতে পানীয় জলের অভাবের কথা জানাজানি হওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রেই বিয়ের সম্বন্ধ ভেঙে যাচ্ছে। বাইরের পরিবারগুলি এমন গ্রামে মেয়ে দিতে বা ছেলের বিয়ে করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না, যেখানে ন্যূনতম পানীয় জলের নিশ্চয়তা নেই। ফলে গ্রামের বহু যুবক-যুবতীর ব্যক্তিগত জীবনেও এই সংকট গভীর প্রভাব ফেলছে। সামাজিক মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।

কল আছে, কিন্তু জল নেই (Siliguri)
গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় পানীয় জলের কল বসানো থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেগুলি কার্যত অচল। দীর্ঘদিন ধরে সেই কলগুলিতে জল আসে না। ফলে সরকারি পরিকাঠামো থাকলেও তার কোনও বাস্তব সুবিধা পাচ্ছেন না গ্রামবাসীরা। বর্তমানে পুরো গ্রামের ভরসা একটি মাত্র চাপাকল। কিন্তু সেই চাপাকলের জলেও রয়েছে অতিরিক্ত আয়রন এবং দুর্গন্ধ। বাধ্য হয়েই সেই জল ব্যবহার করতে হচ্ছে পানীয় ও রান্নার কাজে।
স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে প্রতিদিন (Siliguri)
আয়রনযুক্ত ও দূষিত জল ব্যবহারের ফলে গ্রামে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবাই এই সমস্যার শিকার। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিল রান্নার কাজেও এই একই জল ব্যবহার করতে হচ্ছে। রাধুনীদের বক্তব্য, বিকল্প কোনও ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই এই জল দিয়ে রান্না করতে হচ্ছে। ফলে স্কুলপড়ুয়া শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
সরকারি প্রকল্পের ট্যাংক আজ অচল (Siliguri)
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, কয়েক বছর আগে রাজ্য সরকারের জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের উদ্যোগে একটি পানীয় জলের ট্যাংক নির্মাণ করা হয়েছিল। আশা ছিল, সেই প্রকল্প চালু হলে দীর্ঘদিনের জলসংকট দূর হবে। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বর্তমানে সেই জলাধার ও সংশ্লিষ্ট পরিকাঠামো কার্যত অচল হয়ে পড়ে রয়েছে। ফলে বহুদিন ধরেই বন্ধ রয়েছে গ্রামে সরকারি জল সরবরাহ। স্থানীয় পাম্প অপারেটরের দাবি, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতির অভাবেই প্রকল্পটি কার্যকর রাখা সম্ভব হয়নি।
নদীর ঘোলা জলই এখন শেষ ভরসা (Siliguri)
পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে নিকটবর্তী নদী থেকে বালতি ভরে ঘোলা জল নিয়ে আসছেন। পর্যাপ্ত পরিশোধনের সুযোগ না থাকায় সেই জলই ব্যবহার করতে হচ্ছে পানীয় ও অন্যান্য গৃহস্থালির কাজে। এতে জলবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আরও বেড়ে চলেছে। শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
বারবার আবেদন, তবুও মেলেনি সমাধান (Siliguri)
গ্রামবাসীদের দাবি, বহুবার প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে সমস্যার কথা জানানো হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে প্রশাসনিক দপ্তর—সব জায়গাতেই আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত স্থায়ী কোনও সমাধান মেলেনি। তাঁদের একটাই দাবি—যে পানীয় জল প্রকল্প ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে, সেটিকে দ্রুত সংস্কার করে চালু করা হোক এবং প্রতিটি পরিবারের কাছে নিরাপদ পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া হোক।
আরও পড়ুন: Diabetes Cure Temple: মন্দিরে গেলেই সারবে সুগার! কোথায় জানেন?
এখন নজর প্রশাসনের দিকে
বিশুদ্ধ পানীয় জল কোনও বিলাসিতা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। অথচ তিতলিগুড়ির শত শত মানুষ আজও সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত। জলসংকটের কারণে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অর্থনীতি, এমনকি সামাজিক সম্পর্কও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।



