Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কেটিভি বাংলা ডিজিটাল: নদীর চর দখল করে বেআইনিভাবে চলছিল রিসর্ট! তৃণমূল আমলের মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠের রিসর্ট বলে দাবি, এবার ভাঙার নির্দেশ প্রশাসনের। ডুয়ার্স জুড়ে জোর চর্চা (Dooars)। নদীর চর দখল করে গড়ে ওঠা বেআইনি রিসর্টের বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ প্রশাসনের। তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তির মালিকানাধীন বলে দাবি করা একটি রিসর্ট ভেঙে ফেলার নির্দেশ ঘিরে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে ডুয়ার্স জুড়ে।
ছবিই দেখা যাবে? (Dooars)
এর জেরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে সরকারি জমি ও নদীর চর দখল করে গড়ে ওঠা অন্যান্য রিসর্টের বিরুদ্ধেও কি এবার একই ধরনের অভিযান চলবে? দক্ষিণবঙ্গে যেভাবে বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে, উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্সেও কি এবার সেই ছবিই দেখা যাবে? এই প্রশ্ন এখন জোরালো হয়েছে পর্যটন মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে।
গোয়ালডাঙ্গা এলাকার (Dooars)
ঘটনাটি মেটেলি ব্লকের ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের গোয়ালডাঙ্গা এলাকার। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট রিসর্ট কর্তৃপক্ষকে নোটিস দিয়ে আগামী ১০ জুলাইয়ের মধ্যে সমস্ত জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপর প্রশাসন জমির দখল নিয়ে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে বলে জানা গিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি (Dooars)
প্রায় ১০-১২ বছর আগে এলাকার একটি আদিবাসী পরিবারের কাছ থেকে জমিটি ক্রয় করা হয়। পরে সেখানে একটি বিলাসবহুল রিসর্ট গড়ে তোলা হয়। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, রিসর্টটি নদীর চর ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহের খুব কাছাকাছি সরকারি জমির উপর নির্মিত হয়েছে।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে
সংশ্লিষ্ট জমি এক নম্বর খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত, অর্থাৎ সরকারি জমি হিসেবে নথিভুক্ত। সেই কারণেই তদন্তের পর রিসর্ট কর্তৃপক্ষকে নোটিস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে দাবি (Dooars)
রিসর্টটির মালিক নীল মালাকার, যিনি অতীতে তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে কাজ করতেন। তবে এই দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রিসর্ট মালিকের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ করেন (Dooars)
রিসর্টের কেয়ারটেকার মালতি বর্মনের দাবি, “রিসর্ট অবৈধ নয়। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নোটিস দেওয়া হয়েছে।” অন্যদিকে, বিজেপি নেতা দীপঙ্কর ধড় অভিযোগ করেন, অতীতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মদতে এলাকায় একাধিক বেআইনি নির্মাণ হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রশাসন এখন সেগুলি চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
আরও পড়ুন: Diabetes Cure Temple: মন্দিরে গেলেই সারবে সুগার! কোথায় জানেন?
গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র
ডুয়ার্সের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র লাটাগুড়ি, মূর্তি-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় নদীর ধার ও চর সংলগ্ন বহু রিসর্ট রয়েছে। ফলে প্রশাসনের এই পদক্ষেপের পর পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মহলে উদ্বেগ ও জল্পনা দুই-ই তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, এই অভিযান শুধুমাত্র একটি রিসর্টেই সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি সরকারি জমি ও নদীর চর দখল করে গড়ে ওঠা অন্যান্য নির্মাণের বিরুদ্ধেও একই ধরনের কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।



