Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মঙ্গলবারের ভয়াবহ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের রক্তাক্ত তুরস্ক (Turkey Shooting)। বুধবার কাহরামানমারাস প্রদেশ-এর একটি স্কুলে ঢুকে নির্বিচারে গুলিবর্ষণের ঘটনায় মৃত্যু মিছিল দীর্ঘতর হচ্ছে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯-এ। আহত হয়েছেন অন্তত ১৩ জন, যাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুস্তাফা চিফৎসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে ৬ জন আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন। তাঁদের মধ্যে অন্তত ৩ জনের অবস্থা সংকটজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনার পর গোটা এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

বাড়ছে মৃত্যুমিছিল, আশঙ্কাজনক বহু আহত (Turkey Shooting)
স্থানীয় গভর্নর মুকেরেম উনলুয়ার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এই ভয়াবহ হামলার নেপথ্যে রয়েছে মাত্র ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর। সে ওই স্কুলেরই অষ্টম শ্রেণির ছাত্র এবং এক প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিকের ছেলে বলে জানা গিয়েছে। এত কম বয়সে এমন নৃশংস হামলার ঘটনায় হতবাক প্রশাসন থেকে সাধারণ মানুষ—সবাই।
অভিযুক্ত মাত্র ১৩ বছরের কিশোর! (Turkey Shooting)
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ওই কিশোর তার ব্যাগে করে বাবার ৫টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৭টি ম্যাগাজ়িন নিয়ে স্কুলে প্রবেশ করে। এরপর সে পরপর দু’টি শ্রেণিকক্ষে ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। হঠাৎ এই হামলায় সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত পড়ুয়ারা প্রাণ বাঁচাতে ছুটোছুটি শুরু করে।
সংবাদসংস্থা AFP-এর যাচাই করা একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, আতঙ্কিত পড়ুয়ারা প্রাণ বাঁচাতে দোতলার জানালা থেকে লাফিয়ে পড়ছে। কেউ কেউ চিৎকার করতে করতে নিচে নামার চেষ্টা করছে। সেই দৃশ্য কার্যত শিউরে ওঠার মতো।
ব্যাগভর্তি অস্ত্র! উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য (Turkey Shooting)
হামলার কিছুক্ষণের মধ্যেই অভিযুক্ত কিশোরেরও মৃত্যু হয়। তবে তার মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, সে আত্মঘাতী হয়েছে অথবা বিশৃঙ্খলার মধ্যে দুর্ঘটনাবশত নিজের বন্দুক থেকেই গুলি ছুটে তার মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা।
আরও পড়ুন: US Flight: একদিনেই বাতিল হাজারের বেশি উড়ান: ভ্রমণ মরসুমে আমেরিকায় চরম যাত্রী দুর্ভোগ
জানালা থেকে ঝাঁপ পড়ুয়াদের (Turkey Shooting)
এদিকে, তুরস্কের সরকারি সংবাদসংস্থা আনাদোলু সূত্রে জানা গিয়েছে, পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্তের বাবা উগুর মেরসিনলিকে আটক করেছে। কীভাবে এতগুলি আগ্নেয়াস্ত্র কিশোরের হাতে এল এবং নিরাপত্তায় কোথায় গলদ ছিল—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা দেশে। একই সঙ্গে স্কুলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসন কোনও সম্ভাবনাকেই উড়িয়ে দিচ্ছে না।



