Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর স্কুলের পাঠ্যক্রমে বড়সড় পরিমার্জনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে (WBBSE)। ২০২৭ সালের শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রস্তাবিত পরিবর্তনে একদিকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যবইয়ে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও কর্মের বিষয় যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে, অন্যদিকে অষ্টম শ্রেণির ইতিহাস থেকে বাদ পড়তে চলেছে ‘সিঙ্গুর আন্দোলন’। একই সঙ্গে পাঠ্যসূচি থেকে ‘কন্যাশ্রী’ প্রকল্পের উল্লেখও সরানোর সিদ্ধান্তের কথা সামনে এসেছে।
সিঙ্গুর আন্দোলন কেন গুরুত্বপূর্ণ? (WBBSE)
২০০৬ সালে সিঙ্গুরে টাটা গোষ্ঠীর শিল্পপ্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরবর্তী সময়ে এই আন্দোলনই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে ওঠে। ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর অষ্টম শ্রেণির ইতিহাসের পাঠ্যবইয়ে সিঙ্গুর আন্দোলনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের প্রসঙ্গও ছিল ইতিহাসে (WBBSE)
সিঙ্গুর জমি অধিগ্রহণ নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০১৬ সালে সুপ্রিম কোর্ট অধিগ্রহণকে আইনসঙ্গত নয় বলে রায় দেয় এবং জমি কৃষকদের ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। ফলে সিঙ্গুর পর্ব শুধু রাজনৈতিক আন্দোলন নয়, জমি অধিগ্রহণ ও কৃষকদের অধিকার সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ঘটনাও হয়ে ওঠে।
এবার কেন বাদ পড়ছে সিঙ্গুর? (WBBSE)
সিলেবাস কাম কারিকুলাম কমিটির চেয়ারম্যান দেবাশিস চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য অনুযায়ী, এটি সম্পূর্ণ পাঠ্যক্রম বদলে ফেলার উদ্যোগ নয়, বরং প্রয়োজনীয় ‘পরিমার্জন’ ও ‘সংশোধন’। জানুয়ারির ২ তারিখের মধ্যে নতুন বই স্কুলে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। সেই সময়সীমার মধ্যেই বিভিন্ন বিষয়ের পরিবর্তন চূড়ান্ত করা হচ্ছে।
শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন এবার পাঠ্যে
অন্যদিকে, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন, শিক্ষাবিদ হিসেবে তাঁর ভূমিকা এবং পশ্চিমবঙ্গ গঠনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কিত ঐতিহাসিক ঘটনাগুলি পাঠ্যক্রমে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে স্কুল ও উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন স্তরে তাঁর জীবন ও অবদান অন্তর্ভুক্ত করার সরকারি উদ্যোগের কথাও প্রকাশ্যে এসেছে।
কন্যাশ্রী ও ভাষার পরিবর্তনও নজরে (WBBSE)
শুধু সিঙ্গুর নয়, তৃণমূল সরকারের অন্যতম পরিচিত প্রকল্প ‘কন্যাশ্রী’-র উল্লেখও নতুন বইয়ে না রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ‘পানি’, ‘আব্বা’, ‘আম্মু’-র মতো কিছু শব্দও পাঠ্যবই থেকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: Jadavpur University: যাদবপুরে পাঁচ নিয়োগ নিয়ে তদন্ত কমিশন, সামনে এল একাধিক প্রশ্ন
ইতিহাস বদল নয়, না কি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন?
সিলেবাস কমিটির বক্তব্য, উদ্দেশ্য ইতিহাস মুছে ফেলা নয়, বরং প্রয়োজন অনুযায়ী বিষয়বস্তু সংশোধন করা। তবে একই সময়ে সিঙ্গুর আন্দোলনের মতো সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি অধ্যায় বাদ দেওয়া এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও ভূমিকা যুক্ত হওয়ার ফলে পাঠ্যক্রমের পরিবর্তন ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ আবার প্রশ্ন তুলেছেন, ইতিহাসে একাধিক রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বের ভূমিকা সমানভাবে তুলে ধরা উচিত কি না।



