Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রবিবার বিশ্ব যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে সমস্ত রাজ্য সরকারের কর্মীদের যোগদান বাধ্যতামূলকের সরকারি নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া মামলায় বিচারপতি অমৃতা সিনহা জানিয়ে দিলেন, ‘আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মচারীদের হাজিরা বাধ্যতামূলক নয়(Yoga Dibas HC)।’
মামলা খারিজ কলকাতা হাইকোর্টের (Yoga Dibas HC)
মামলা খারিজ করে বিচারপতি সিনহার পর্যবেক্ষণ ‘কোথাও বলা হয়নি যে নির্দিষ্ট কোথাও যেতেই হবে। কেউ চাইলে নিজের সুবিধাজনক জায়গা থেকে এই অনুষ্ঠানে নিজেকে যুক্ত করতে পারেন। তবে এই মামলার কোনও দরকার ছিল না।
২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপনে সমস্ত সরকারি কর্মী ও আধিকারিকদের যোগ দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। গত ১৪ জুন এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করেছেন মুখ্যসচিব। রাজ্য সরকারের স্থায়ী, অস্থায়ী সমস্ত কর্মীদের যোগ দিবসে যোগ দেওয়া জন্য পোর্টালে নাম রেজিস্ট্রেশনেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে সরকারি কর্মচারীদের বামপন্থী সংগঠন রাজ্য কো-অর্ডিনেশন কমিটি।
শুক্রবার সেই মামলায় শুনানি ছিল বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে। মামলাকারীদের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, ‘যোগ দিবসের মত একটি কর্মসূচিতে সরকারি কর্মচারীদের যোগদান সম্পূর্ণ ‘স্বেচ্ছায়’ করার অনুমতি দেওয়া হোক। জোর করে বা বাধ্যতামূলকভাবে এই ধরণের কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকতে বাধ্য করা সরকারি নিয়মের পরিপন্থী। রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা সরকারের ক্রীতদাস নয়। যোগ ব্যায়াম বা শরীরচর্চা অত্যন্ত ইতিবাচক বিষয় হলেও, এভাবে সরকারি ফতোয়া জারি করে বাধ্যতামূলক করা যায় না। বিশেষ করে ছুটির দিনে কর্মীদের এভাবে নির্দিষ্ট কর্মসূচিতে যোগ দিতে বাধ্য করা তাঁদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার শামিল। যাদের ইচ্ছা হবে আসবেন, যাদের ইচ্ছা হবে না আসবেন না। এতে অসুবিধা কোথায়!’
যদিও রাজ্যের আইনজীবী তথা অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য আদালতে মৌখিকভাবে জানান রবিবার সকালে সমস্ত রাজ্য সরকারি কর্মীদের যোগ দিবসে যোগ দেওয়ার জন্য সরকার অনুরোধ করেছে। এটাকে কোনও ভাবেই বাধ্যতামূলক বলা হয়নি।
তখন মামলাকারীদের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, ‘পোর্টালে নাম রেজিস্ট্রেশন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সমস্ত কর্মচারীদের। এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে এটা বাধ্যতামূলক। রাজ্য বলে দিক যে যোগদান বাধ্যতামূলক নয়, তাহলে আমাদের কোনও অসুবিধা নেই।’ সব পক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারপতি অমৃতা সিনহা রাজ্যকে এ ব্যাপারে তাদের নির্দিষ্ট অবস্থান আদালতে জানানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন(Yoga Dibas HC)।
আরও পড়ুন: Telegram Order: দিল্লি হাইকোর্টের বড় সিদ্ধান্ত: ফের নিট পরীক্ষার আগে টেলিগ্রাম নিষেধাজ্ঞা বহাল
শুক্রবার শুনানিতে রাজ্যের আইনজীবী তথা অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য আদালতে রাজ্যের অবস্থান স্পষ্ট করে আদালতকে জানান, ২১ তারিখ যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মচারীদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নয়(Yoga Dibas HC)। কেউ উপস্থিত না হলে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কোনও কড়া পদক্ষেপও করা হবে না। সব পক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারপতি অমৃতা সিনহা মামলা খারিজ করে জানান উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নয়।



