Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ব্রততী সরকার: ১৯৬০ সালে জাপানের যুবরাজকে উপহার হিসাবে দেওয়া হয়েছিল “ব্লুগিল মাছ” (Blue gill)। কে জানতো একদিন এই উপহারই দেশের জন্য ডেকে আনবে বিপদ। এইবছর শিকাগো থেকে জাপানে গিয়েছিল মাত্র ১৫টি ব্লুগিল মাছ। উদ্দেশ্য ছিল একটি নতুন খাদ্যসম্পদ বাড়ানোর। কিন্তু কয়েক দশক পর সেই ১৫টি মাছই হয়ে উঠলো জাপানের জন্য ভয়াবহ পরিবেশগত সমস্যার কারণ। মাছের সংখ্যা পৌঁছেছে প্রায় আড়াই কোটিতে।
খাদ্যসম্পদের পরিকল্পনা অসফল (Blue gill)
প্রথমে পরিকল্পনা ছিল ব্লুগিলকে জাপানের খাদ্যসম্পদ হিসাবে গড়ে তোলা। কিন্তু সেই উদ্যোগ সফল হয়নি। ইতি মধ্যেই কিছু মাছ বিভিন্ন হ্রদ ও পুকুরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। এরপর আমেরিকান স্টাইলের মাছ ধরার জনপ্রিয়তার জন্য এক জলাশয় থেকে অন্য জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়তে থাকে ব্লুগিল।
জাপানের স্থানীয় মাছেদের জন্য বিপদ! (Blue gill)
ব্লুগিল খুব তাড়াতাড়ি সংখ্যা বৃদ্ধি করে। এদের খাবার নিয়ে সেরকম সমস্যা নেই। যেকোনো পরিবেশে এরা মানিয়ে নিতে পারে এবং দ্রুত বংশবিস্তার করতে পারে। ফলে স্থানীয় ছোট মাছেদের অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। বাস্তুতন্ত্রের একাধিক প্রজাতির মাছ চাপের মুখে পরে। ২০০৬ সালের জিনগত গবেষণায় দেখা যায়, জাপানের অধিকাংশ ব্লুগিলের জন্ম সেই ১৫টি মাছের থেকেই।
পরিবেশগত সমস্যা (Blue gill)
২০০৭ সালের হিসাব অনুযায়ী কর্মকর্তারা অনুমান করেন, জাপানে ব্লুগিলের সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৫০ লক্ষ্য। ২০০৫ সালে সরকার তাদের প্রজনন নিষিদ্ধ করে। পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে দুঃখও প্রকাশ করেন সম্রাট আকিহিতো।
আরও পড়ুন: Durga Puja 2026: মহালয়ায় ইডেনে মোদী, বিদেশের মাটিতেও দুর্গাপুজোর প্রচার
মাছ রান্না করার উৎসাহ
সমস্যা সামলাতে সিগা প্রিফেকচারে শুরু হয় ব্লুগিল সরানোর উদ্যোগ। স্থানীয় মানুষকে মাছ ধরার পর সেটি রান্না করে খাওয়ার উৎসাহ দেওয়া হয়। তৈরী করা হয় বার্গার থেকে অন্যান্য পদের খাবারও। মাত্র ১৫টি মাছের সেই গল্প আজ একটি বড় পরিবেশগত শিক্ষা: প্রকৃতিতে কোনও নতুন প্রজাতি ছেড়ে দেওয়ার আগে তার ভবিষ্যৎ প্রভাব বোঝা অনেকটা জরুরি।



