Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাংলাদেশের হাওড়-বাওড় বেষ্টিত জেলা কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া গ্রাম। এই গ্রামেই ১৮৬৩ সালের ১২ মে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বিশিষ্ট প্রযুক্তিবিদ, শিশুসাহিত্যিক ও শিল্পী উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী। বিশ্ববরেণ্য চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের (Satyajit Ray) পৈতৃক স্মৃতিবিজড়িত এই ঐতিহাসিক বাড়িটি দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন অসংখ্য পর্যটক। কিন্তু এখানে এসে রাত্রিযাপন ও পরিষেবা নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাঁদের।
পর্যটকদের এই দুর্ভোগ মেটাতে ২০১১ সালে রায়চৌধুরী ভিটার (Ray Chowdhury VITA) পাশেই ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি দোতলা অতিথিশালা নির্মাণের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন। ২০১২ সালের মাঝামাঝি সময়ে মহাসমারোহে ভবনটির উদ্বোধনও হয়। তবে উদ্বেগের বিষয় হল, উদ্বোধনের পর দীর্ঘ ১৪ বছর পার হয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত সেখানে একজন পর্যটকও রাত কাটাননি।
কেন এই ভূতুড়ে দশা? (Satyajit Ray)
জানা গেছে, কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও অতিথিশালা পরিচালনার জন্য আজ অবধি কোনও জনবল নিয়োগ করা হয়নি। ম্যানেজার, কেয়ারটেকার, রাঁধুনি কিংবা পরিচ্ছন্নতাকর্মী, একটি পদেও লোক দেয়নি পর্যটন কর্পোরেশন। ফলে উদ্বোধনের পর থেকেই দীর্ঘ দিন দিন-রাত তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে ছিল পুরো ভবনটি। দেখভালের অভাবে একসময় জানালার গ্রিল ও বিদ্যুতের তার চুরি হয়ে যায়, বিকল হয় জল সরবরাহ ব্যবস্থা এবং নষ্ট হয়ে যায় মূল্যবান আসবাবপত্র। ভবনের পেছনে গড়ে ওঠে মাদকসেবীদের আড্ডা।
আরও পড়ুন: Donald Trump: AI-এর নিরাপত্তায় বড় পদক্ষেপ, ‘নৈতিক অঙ্গীকার’-এ সই টেক জায়ান্টদের
বর্তমানে মসূয়া ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের ঝাড়ুদার সঞ্জিৎ চন্দ্র দাস ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছুটা দেখাশোনা করেন। সম্প্রতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কটিয়াদী সফরকে কেন্দ্র করে ভবনটিতে (Satyajit Ray) নতুন করে রং করা হয় এবং আইপিএস ও ইন্টারনেট সংযোগসহ প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র সাজানো হয়।
ক্ষুব্ধ স্থানীয় ও দর্শনার্থীরা
সম্প্রতি ঘুরতে আসা পর্যটক (Tourism) কবির মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “হাতের কাছে এক গ্লাস খাবার জল পাওয়ার যেখানে উপায় নেই, সেখানে মানুষ থাকবে কীভাবে? অবকাঠামো বানালেই হয় না, পরিষেবা দেওয়ার মানসিকতা থাকতে হয়।”
আরও পড়ুন:Nepal Landslide: প্রবল বৃষ্টিতে নেপালে হুড়মুড়িয়ে ভাঙল পাহাড়
স্থানীয় মসূয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিকের মতে, ভবন চালাবার জন্য লোকবল যে দরকার, তা কর্তৃপক্ষের না জানাটা চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা। যদিও কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামিমা আফরোজ জানান, মেরামত শেষে অতিথিশালাটি এখন থাকার উপযোগী এবং সম্প্রতি কয়েকজন সাংবাদিক সেখানে থেকেছেন (Satyajit Ray) । তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের দাবি, স্থায়ী কর্মী নিয়োগ না হলে ৭০ লাখ টাকার সরকারি সম্পদ শেষ পর্যন্ত অর্থহীন হয়েই পড়ে থাকবে।


