Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পাকিস্তানে ক্রীড়াবিদদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আবারও চরম প্রশ্নের মুখে (Pakistani Footballers)। এবার বালোচিস্তান প্রদেশে ডাকাত দলের কবলে পড়ল করাচির একটি আঞ্চলিক ফুটবল দল। চিফ মিনিস্টার গোল্ড কাপে অংশ নিতে করাচি পশ্চিম ফুটবল দলটি বাসে করে করাচি থেকে কোয়েটা যাচ্ছিল। যাত্রাপথে মাস্তুং ও সারিয়াবের মধ্যবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মুখে মাস্ক পরা একদল সশস্ত্র দুষ্কৃতী বাসটিকে জোরপূর্বক থামায়। এরপর ফুটবলারদের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে তাঁদের কাছে থাকা সমস্ত টাকা-পয়সা, মোবাইল ফোন এবং মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়। প্রতিবাদ করায় কয়েকজন খেলোয়াড়কে মারধরও করে ডাকাত দল।
অসহায় অবস্থায় কোয়েটায় পৌঁছানো (Pakistani Footballers)
সর্বস্ব হারানোর পর দলটি কোনওমতে কোয়েটায় গিয়ে পৌঁছায়। সেখানে পৌঁছানোর পর খেলোয়াড়দের কাছে খাওয়া-দাওয়া বা থাকার মতো ন্যূনতম অর্থও ছিল না। পরবর্তীতে পরিস্থিতি জানতে পেরে বালোচিস্তানের ক্রীড়ামন্ত্রী এগিয়ে আসেন এবং দলটির জন্য জরুরি আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করেন। পিটিআই-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হওয়া সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত দলটি গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।
উপেক্ষিত ছিল আগাম সতর্কবার্তা (Pakistani Footballers)
এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি এড়ানো যেত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সিন্ধু ফুটবল সংস্থার পক্ষ থেকে সফর শুরু করার আগেই ফুটবল দলটিকে বাস বা ট্রেনে কোয়েটায় না যাওয়ার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বালোচিস্তানের নিরাপত্তার নাজুক অবস্থার কথা ভেবে পাঞ্জাব ও খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশ এই প্রতিযোগিতায় কোনো দলই পাঠায়নি। বিশেষ করে মাস্তুং অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরেই চরম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত; কিছু দিন আগেই বুগতি এলাকা থেকে দুই ক্রিকেটার অপহরণের শিকার হয়েছিলেন। তবে সমস্ত আগাম সতর্কতা এবং নির্দেশিকা উপেক্ষা করেই করাচির দলটি সড়কপথে যাত্রা করেছিল।
আরও পড়ুন: Raphinha: অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েও স্বস্তি নেই ব্রাজিল শিবিরে, চিন্তায় ভারতের ফুটবলপ্রেমীরা
উত্তপ্ত বালোচিস্তান (Pakistani Footballers)
বালোচিস্তান প্রদেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতা বিরাজ করছে (Pakistani Footballers)। পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্নতার দাবিতে ‘বালোচ লিবারেশন আর্মি’-সহ একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠী সেখানে সক্রিয়। সম্প্রতি পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী কালাতের কাছে এন-২৫ করাচি-চামান মহাসড়কে অভিযান চালিয়ে পাঁচজন জঙ্গিকে খতম এবং ২৩ জন অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে। একদিকে বিচ্ছিন্নতাবাদী দমনে সেনাবাহিনীর কঠোর অবস্থান, আর অন্যদিকে সশস্ত্র গোষ্ঠীর পাল্টা আক্রমণের মাঝে সাধারণ মানুষ এবং ক্রীড়াবিদদের নিরাপত্তাও এখন গুরুতর হুমকির মুখে পড়েছে।



