Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মহালয়া মানেই বাঙালির মনে দুর্গাপুজোর আগমনী সুর। কাকভোরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের উদাত্ত কণ্ঠে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ পাঠের সঙ্গে সঙ্গেই যেন শুরু হয়ে যায় শারদোৎসবের কাউন্টডাউন (Mahalaya)। আর সেই পবিত্র সকালেই পিতৃপুরুষের উদ্দেশে তর্পণ করতে কলকাতার গঙ্গার ঘাটগুলিতে দেখা গেল মানুষের ঢল। শনিবার সকাল থেকেই বাবুঘাট থেকে জাজেস ঘাট, নিমতলা থেকে আহিরীটোলা—বিভিন্ন ঘাটে ভিড় করেন অসংখ্য পুণ্যার্থী।
বাজে কদমতলা ঘাটে বিশেষ আয়োজন (Mahalaya)
মহালয়ার সকালে বাজে কদমতলা ঘাটে ছিল বিশেষ আয়োজন। ঘাটজুড়ে সাজানো হয়েছিল আলোকসজ্জা। পাশাপাশি বসানো হয়েছে বড় আকারের রেডিওর প্রতিকৃতি। কলকাতার পাঁচটি প্রধান ঘাট—বাবুঘাট, বাজে কদমতলা ঘাট, জাজেস ঘাট, নিমতলা ঘাট এবং আহিরীটোলা ঘাটেও দেখা যায় একই ধরনের আয়োজন।
বড় রেডিওয় ফিরল চেনা মহালয়ার আবহ (Mahalaya)
বড় রেডিওর প্রতিকৃতির মাধ্যমে লাউডস্পিকারে বাজানো হয় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের চিরপরিচিত ‘মহিষাসুরমর্দিনী’। ভোরের গঙ্গার জল, ধূপের গন্ধ এবং স্তোত্রপাঠের আবহে ঘাটগুলিতে তৈরি হয় এক অন্যরকম পরিবেশ। অনেকের কাছেই এই মুহূর্ত ছিল শৈশবের মহালয়ার স্মৃতি ফিরে পাওয়ার মতো।
পিতৃপুরুষের উদ্দেশে জল নিবেদন (Mahalaya)
হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, মহালয়ার দিনে পিতৃপুরুষের উদ্দেশে তর্পণ করার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। ‘তর্পণ’ শব্দটি এসেছে ‘তৃপ’ থেকে, যার অর্থ সন্তুষ্ট করা। পূর্বপুরুষের আত্মার উদ্দেশে জল নিবেদন করে তাঁদের শান্তি ও কল্যাণ কামনা করাই এই আচার। তর্পণের সময় জল, তিল, চন্দন, তুলসিপাতা-সহ বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করা হয়।
কড়া নিরাপত্তায় ঘাটে ঘাটে নজরদারি (Mahalaya)
ভিড় সামলাতে কলকাতার বিভিন্ন গঙ্গার ঘাটে ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। জলপথেও চলেছে নজরদারি। ঘাট সংলগ্ন রাস্তাগুলিতে নিয়ন্ত্রিত হয়েছে যান চলাচল। ভিড়ের মধ্যে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেদিকেও ছিল প্রশাসনের বিশেষ নজর।
আরও পড়ুন: Nandigram Election: গণনাকেন্দ্রে কড়া নিরাপত্তা, শুরুতেই পদ্মের দাপট
মহালয়া থেকে শুরু উৎসবের আবহ
তর্পণের পাশাপাশি এদিন কলকাতাজুড়ে শুরু হয়েছে দুর্গাপুজোর আবহ। মহালয়ার বিকেলে ইডেন গার্ডেন্সে দুর্গোৎসবের সূচনা পর্বের বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। উপস্থিত থাকার কথা রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রী-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের। ফলে পিতৃস্মরণ আর আগমনী সুরের মধ্য দিয়েই শনিবার কলকাতায় একদিকে শেষ হল পিতৃপক্ষ, অন্যদিকে শুরু হল বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসবের প্রতীক্ষা।



