Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে বিপর্যস্ত অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার বিস্তীর্ণ এলাকা (Cyclone Arnab)। সংবাদসূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার গভীর রাতে পুদুচেরির ইয়ানাম উপকূলের কাছে আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড়টি। সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে থাকায় উপকূলবর্তী এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের একাধিক এলাকায় গাছ উপড়ে পড়েছে, বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে এবং ভারী বৃষ্টির জেরে বিভিন্ন জায়গায় জল জমেছে। ওড়িশার গজপতি, গঞ্জাম, রায়গড়া, কোরাপুট, নবরংপুর ও মালকানগিরি-সহ একাধিক জেলায় ঝোড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

আছড়ে পড়তেই তাণ্ডব, লণ্ডভণ্ড উপকূলবর্তী এলাকা (Cyclone Arnab)
স্থলভাগে প্রবেশের পরই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের একাধিক এলাকায় শুরু হয় প্রবল ঝড়-বৃষ্টি। বহু জায়গায় গাছ উপড়ে পড়েছে, বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে বলে খবর। ভারী বৃষ্টির জেরে বিভিন্ন নিচু এলাকায় জল জমে জনজীবনও ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে প্রশাসনের তরফে উপকূলবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে। অন্যদিকে, ওড়িশার গজপতি, গঞ্জাম, রায়গড়া, কোরাপুট, নবরংপুর এবং মালকানগিরি-সহ একাধিক জেলায় প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা জারি রয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনিক স্তরেও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
অর্ণবের প্রভাব কি পড়বে বাংলায়? বাড়ছে বৃষ্টির সম্ভাবনা (Cyclone Arnab)
ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি প্রভাব বাংলায় না পড়লেও এর প্রভাবে আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী এবং পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বুধবার থেকে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত উপকূলবর্তী এলাকায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বজায় থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ উপকূলবর্তী এলাকায় বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়ার প্রভাব দেখা যেতে পারে। কোথাও কোথাও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মৎস্যজীবীদের সতর্কতা, সুন্দরবনেও বাড়ছে নজরদারি (Cyclone Arnab)
পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। উপকূলবর্তী এলাকায় সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সুন্দরবনের বিভিন্ন থানা এলাকায় মাইকিং করে বাসিন্দাদের সচেতন করা হচ্ছে। প্রশাসনের তরফে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার বেশ কিছু এলাকায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে স্কুল বন্ধ রাখার খবরও সামনে এসেছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে রেল ও যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও প্রভাব পড়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: Bank Fraud: নিয়মমাফিক লেনদেনের আড়ালে কোটি কোটি টাকা উধাও! সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কে চাঞ্চল্যকর কাণ্ড
আগামী কয়েক দিন গুরুত্বপূর্ণ, নজরে আবহাওয়ার গতিপথ
ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ স্থলভাগে আছড়ে পড়লেও এর প্রভাব পুরোপুরি কাটতে সময় লাগতে পারে। ফলে আগামী কয়েক দিন অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী এলাকার আবহাওয়ার দিকে বিশেষ নজর থাকবে। বিশেষত মৎস্যজীবী, উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দা এবং পর্যটকদের প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



