Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ফুটবল মাঠে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা (Jesus Owono)। ম্যাচ চলাকালীন গোলকিপারের সঙ্গে সংঘর্ষে বুকে গুরুতর আঘাত পান স্প্যানিশ স্ট্রাইকার জেসুস দে মিগুয়েল। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। মাত্র ৩০ বছর বয়সে প্রয়াত হন তিনি। এই ঘটনার পর থেকেই মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত এফসি অ্যান্ডোরার গোলকিপার জেসুস ওয়োনো। ঘটনার পর প্রথমবার মুখ খুলে নিজের মানসিক অবস্থার কথা জানালেন ২৫ বছরের এই গোলরক্ষক।
কীভাবে ঘটল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা? (Jesus Owono)
স্পেনের দ্বিতীয় ডিভিশন লিগ সেগুন্ডা ডিভিশনে মুখোমুখি হয়েছিল এফসি অ্যান্ডোরা ও সিডি তেনেরিফে। ম্যাচটি ২-২ গোলে শেষ হওয়ার পথে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ঘটে যায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা। নিজেদের অর্ধ থেকে তেনেরিফের এক ফুটবলার বল বাড়িয়ে দেন স্ট্রাইকার জেসুস দে মিগুয়েলের উদ্দেশে। তাঁর সামনে তখন একমাত্র বাধা ছিলেন অ্যান্ডোরার গোলকিপার জেসুস ওয়োনো।
বল আটকাতে গোল ছেড়ে অনেকটা এগিয়ে আসেন ওয়োনো। সেই সময় তাঁর হাঁটু সরাসরি গিয়ে লাগে মিগুয়েলের বুকে। সঙ্গে সঙ্গে মাঠে লুটিয়ে পড়েন স্প্যানিশ স্ট্রাইকার। প্রথমে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে না পারলেও পরে দ্রুত ছুটে আসেন মেডিক্যাল স্টাফরা। মাঠেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন দুই দলের ফুটবলাররা। মিগুয়েলকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর ম্যাচের ১০৮ মিনিটে খেলা বাতিল করে দেওয়া হয়। দুর্ঘটনার ভিডিয়োও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
হাসপাতালে মৃত্যু মিগুয়েলের (Jesus Owono)
চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও বাঁচানো যায়নি মিগুয়েলকে। মাঠেই জ্ঞান হারিয়েছিলেন তিনি। পরে হৃদরোগে আক্রান্ত হন স্প্যানিশ এই ফুটবলার। স্পেনের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ৮টায় তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। মাত্র ৩০ বছর বয়সে তাঁর এমন আকস্মিক প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ফুটবল মহলে।
কী বললেন ওয়োনো? (Jesus Owono)
এই দুর্ঘটনার পর বুধবার এফসি অ্যান্ডোরার তরফে প্রকাশিত বিবৃতিতে নিজের মনের অবস্থার কথা জানান ওয়োনো। তিনি বলেন, “আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন দিন। কী বলব, বুঝে উঠতে পারছি না। যা ঘটেছে, তা মেনে নেওয়া আমার পক্ষে খুবই কঠিন। জেসুসকে হারিয়ে অসীম যন্ত্রণার মধ্যে রয়েছি। কেবল ওকে আর ওর পরিবার নিয়েই ভাবছি। ওকে যাঁরা ভালোবাসতেন, তাঁদের কথাও ভাবছি। জানি, এই ঘটনা নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠবে। যথাযথ সম্মানের সঙ্গেই সব কিছুর মুখোমুখি হব। কিন্তু এই মুহূর্তে খুব যন্ত্রণার মধ্যে আছি। শান্তিতে থেকো, জেসুস।”
আক্রমণের মুখে গোলকিপার (Jesus Owono)
দুর্ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র আক্রমণের মুখে পড়তে হয় ওয়োনোকে। কিছু নেটিজেন তাঁকে ‘খুনি’ বলেও আক্রমণ করেন। এই পরিস্থিতিতে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করে দেন অ্যান্ডোরার গোলকিপার। তবে সতীর্থদের কাছ থেকে সমর্থন পেয়েছেন তিনি। তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন এফসি অ্যান্ডোরার ফুটবলার লাউতারো স্পাৎজ।
আরও পড়ুন: Anwar Ali: চেন্নাইয়িন ম্যাচের আগে বড় ধাক্কা ইস্টবেঙ্গলে, নেই আনোয়ার আলি
ওয়োনোর পাশে সতীর্থ (Jesus Owono)
সোশ্যাল মিডিয়ায় স্পাৎজ লেখেন, ওয়োনো তাঁর সতীর্থ, গোলকিপার এবং বন্ধু (Jesus Owono)। এই ঘটনায় তিনি গভীর ভাবে ভেঙে পড়েছেন। যাঁরা ওয়োনোকে চেনেন, তাঁরা জানেন তিনি কেমন মানুষ। ইচ্ছাকৃত ভাবে কাউকে আঘাত করার কথা তাঁর পক্ষে ভাবাও সম্ভব নয়। ফুটবলে দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটতে পারে, কিন্তু তার পরিণতি যে এতটা মর্মান্তিক হবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি। পাশাপাশি মিগুয়েলের পরিবার, বন্ধু এবং তেনেরিফের সমর্থকদের প্রতিও সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে স্পেনের জাতীয় পুলিশ। অন্যদিকে, এই দুর্ঘটনার জেরে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত ক্লাবের সদস্যদের পাশে দাঁড়াতে মনোবিদের সাহায্যের ব্যবস্থা করেছে এফসি অ্যান্ডোরা। ওয়োনোর পাশে দাঁড়িয়েছে ইকোয়েটোরিয়াল গিনির ফুটবল ফেডারেশনও।



