Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: টানা চার দিন ধরে শ্বাসরুদ্ধকর (Delhi Air Pollution) অবস্থায় রয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি। দূষণের মাত্রা একটুও কমছে না, বরং দিন দিন বেড়েই চলেছে- এমনটাই বলছে পরিবেশ পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলির তথ্য। মঙ্গলবার দিল্লির গড় একিউআই (AQI) ছিল ৩১১, যা সোমবারের ৩০৯-এর তুলনায় সামান্য হলেও বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ রাজধানীর বাতাস এখনো ‘খুব খারাপ’ (very poor) স্তরেই আটকে আছে।
পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক (Delhi Air Pollution)
আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক (Delhi Air Pollution) হতে পারে। কারণ, বাতাসের গতি ক্রমশ কমে যাচ্ছে। পশ্চিমি ঝঞ্ঝা ঢোকার ফলে বুধবার থেকে বাতাস আরও স্থির হয়ে পড়বে, ফলে বায়ুতে ভাসমান ধূলিকণা ও ধোঁয়ার কণাগুলি উপরে না উঠে নিচেই থেকে যাবে। এই স্থির অবস্থাই দূষণকে আরও ঘনীভূত করে তুলবে।
ভয়াবহ ছবি (Delhi Air Pollution)
কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (CPCB)-এর পরিসংখ্যান আরও ভয়াবহ (Delhi Air Pollution) ছবি তুলে ধরেছে। রাজধানীর একাধিক এলাকায় একিউআই ইতিমধ্যেই ‘ভয়ানক’ (severe) পর্যায় অতিক্রম করেছে। বুরাড়ীতে একিউআই রেকর্ড করা হয়েছে ৪০০, ওয়াজিরপুরে ৩৯০, আর আলিপুরে সেই মাত্রা পৌঁছেছে ৪২১-এ। একইভাবে আনন্দ বিহার (৪১২) ও বাওয়ানা (৪০২)-এর মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলিও গুরুতর দূষণের কবলে। রাজধানীর ২৩টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের বেশিরভাগেই একিউআই ‘খুব খারাপ’ বা ‘ভয়ানক’ স্তরে রয়েছে।
দূষণের মাত্রা বাড়াবে
সিপিসিবি-র তথ্যভাণ্ডার ও ‘সমীর’ অ্যাপ-এর সর্বশেষ রিপোর্ট বলছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দূষণের এই স্তর বজায় থাকতে পারে। কারণ, আগামী তিন দিন দিল্লি অঞ্চলে তাপমাত্রা সামান্য কমলেও বাতাসের গতিবেগ বাড়বে না। ফলে বায়ুতে থাকা বিষাক্ত উপাদানগুলি স্থবির হয়ে থেকে দূষণের মাত্রা বাড়াবে।
আরও পড়ুন: Bihar Assembly Election 2025: ভোটে জিতলেই ৩০ হাজার! নয়া ঘোষণা তেজস্বীর
আবহাওয়াবিদ নভদীপ দাহিয়া জানিয়েছেন, পশ্চিমি ঝঞ্ঝার প্রভাবে উত্তর-পশ্চিম ভারতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। পঞ্জাব ও হরিয়ানার কিছু অঞ্চলে মঙ্গলবার রাত থেকে হালকা বৃষ্টি হতে পারে, কিন্তু দিল্লি ও সংলগ্ন রাজ্য উত্তরপ্রদেশে বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে ধোঁয়া ও ধূলিকণাকে ধুয়ে দেওয়ার মতো প্রাকৃতিক সহায়তাও মিলছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দিল্লির এই ধোঁয়াশা একদিকে যেমন স্থানীয় যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণকাজের ধূলিকণার ফল, অন্যদিকে পঞ্জাব-হরিয়ানায় খেত পোড়ানোর ধোঁয়া বড় ভূমিকা রাখছে। পশ্চিমি হাওয়া সেই ধোঁয়াকে রাজধানীর দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যা শহরের বায়ুমণ্ডলকে আরও ভারী করে তুলছে।


