Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আফগানিস্তানের খোস্ত প্রদেশে সোমবার গভীর রাতে পাকিস্তানের তরফে চালানো এয়ার-স্ট্রাইকে নিহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন নিরীহ আফগান নাগরিক (Pakistan Bombs)। হতাহতদের মধ্যে রয়েছে নয়জন শিশু ও একজন মহিলা। রাতের অন্ধকারে মুঘলগাই এলাকার একটি বাড়ির উপর বোমাবর্ষণের এই ঘটনা আবারও উত্তপ্ত করে তুলেছে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত পরিস্থিতি। তালিবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদের দাবি “গত রাতে পাক সেনাবাহিনী খোস্তের গুরবুজ জেলার মুঘলগাই এলাকায় একটি বাড়িতে বিমান হামলা চালিয়েছে। নিহত হয়েছে সম্পূর্ণ নিরপরাধ মানুষ।” একইসঙ্গে তিনি জানান, কুনার ও পাকটিকা প্রদেশেও পাকিস্তানি বাহিনী হামলা চালিয়েছে, যাতে আরও অন্তত চার জন আহত হয়েছেন।

মুঘলগাইয়ে ধ্বংসস্তূপ (Pakistan Bombs)
মুজাহিদের এক্স পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে সোমবার রাত ১২টা নাগাদ জেরবাজ জেলার মুঘলগাইয়ের কাজী মীরের ছেলে উইলায়াত খানের বাড়িতে সরাসরি বোমা ফেলে পাকিস্তানি বাহিনী। ভয়াবহ বিস্ফোরণে ধ্বংস হয়ে যায় পুরো বাড়ি। নিহতদের অধিকাংশই ছিলেন ঘুমন্ত শিশু। এই ঘটনায় পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
হামলায় নাড়া খেল পাকিস্তান (Pakistan Bombs)
অন্যদিকে একই দিনে পাকিস্তান কেঁপে ওঠে একটি ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলায়। পেশোয়ারে পাক প্যারামিলিটারি ফোর্সের সদর দপ্তরে আত্মঘাতী জঙ্গির বিস্ফোরণে অন্তত তিনজন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হন। হামলার দায় স্বীকার করেছে পাকিস্তান তালিবানের বিভক্ত গোষ্ঠী জামাত-উল-আহরার, যা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (TTP)-এরই একটি শাখা।

ডুরান্ড লাইনের বিস্তৃত উত্তেজনা (Pakistan Bombs)
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি ডুরান্ড লাইন বরাবর TTP এবং জামাত-উল-আহরারের বেশ কয়েকটি ঘাঁটি রয়েছে। সেই ঘাঁটিগুলিকেই নিশানা করেই পাকিস্তান আফগানিস্তানের মাটিতে এই বিমান হামলা চালিয়েছে। বিদেশি সংস্থার খবর অনুযায়ী, পাক হামলার প্রধান কেন্দ্র ছিল পাকটিকার বারমাল এলাকা, যা দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গি সংগঠনের কার্যক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, পেশোয়ারের আত্মঘাতী হামলার “প্রত্যাঘাত” হিসেবেই পাকিস্তান আফগানিস্তানের উপর এই রাতের আক্রমণ চালিয়েছে।
ইসলামাবাদেও সাম্প্রতিক হামলার রেশ (Pakistan Bombs)
এই মাসের শুরুতেই পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ঘটে যায় আরও একটি ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলা, যাতে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছিল। পাকিস্তান দাবি করে এই হামলা পরিচালনা করেছে আফগানিস্তানে অবস্থিত তালিবান নেতৃত্বাধীন একটি সন্ত্রাসী সেল। ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালিবানের ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনের পর থেকেই পাকিস্তান-আফগান সম্পর্ক তিক্ত হয়ে ওঠে। চলতি বছরের অক্টোবরে সীমান্তে তীব্র সংঘর্ষে উভয় পক্ষের প্রায় ৭০ জন নিহত হন। সেই থেকেই দু’দেশের সম্পর্ক ক্রমাগত অবনতির দিকে।
আরও পড়ুন: Midnapore News: সপ্তাহের প্রথম দিনেই আগুন! কীভাবে অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন রোগীরা?
অশান্ত ভূরাজনীতি
পাকিস্তানের এয়ার-স্ট্রাইক এবং আফগানিস্তানের অভিযোগ এই দু’দেশের দীর্ঘদিনের উত্তেজনাকে আবারও সামনে এনে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর উপস্থিতি ও পারস্পরিক অবিশ্বাস পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আফগানিস্তানের দিক থেকে বারবার বলা হচ্ছে পাকিস্তান সীমান্তকে অজুহাত করে তাদের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ করছে। অন্যদিকে পাকিস্তান দাবি করছে আফগানিস্তানের মাটিতে থাকা জঙ্গি সংগঠনগুলিই পাকিস্তানে হামলার নেপথ্যে। দু’পক্ষের এই সংঘাতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিপন্ন হয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষ যাদের ঘরছাড়া, নিরাপত্তাহীনতা ও মৃত্যুর মাশুল দিতে হচ্ছে দোষহীন হয়েও।



