Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: অসমের কোকরাঝাড় জেলায় সোমবার রাত থেকে যে অশান্তির সূত্রপাত, তা ক্রমে ভয়াবহ জনজাতিগত সংঘর্ষের রূপ নিয়েছে (Assam)। বোড়ো জনগোষ্ঠী এবং অন্য এক জনজাতি গোষ্ঠীর মধ্যে এই সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনকে সেনা ও র্যাফ নামাতে হয়েছে, বন্ধ রাখা হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা।

কীভাবে শুরু হল অশান্তি (Assam)
ঘটনার সূত্রপাত হয় সোমবার রাতে কোকরাঝাড় থানার কারিগাঁও ফাঁড়ি এলাকার মানসিংহ রোডে। একটি স্করপিও গাড়ি রাস্তার ধারে থাকা স্থানীয় দুই জনজাতি ব্যক্তিকে ধাক্কা মারে। গাড়িটিতে চালক-সহ মোট তিন জন ছিলেন, যাঁরা সকলেই বোড়ো জনগোষ্ঠীর বলে জানা গিয়েছে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, বিক্ষুব্ধ জনতা চলন্ত গাড়িটিতে পাথর ছুঁড়তে শুরু করে। এর ফলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি রাস্তার পাশের একটি গর্তে পড়ে যায়।
গণপিটুনিতে চালকের মৃত্যু (Assam)
দুর্ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অভিযোগ, গাড়ি থেকে টেনে বের করা হয় চালক শিখনা জওয়ালাও বিস্মিতকে। উত্তেজিত জনতা তাঁকে বেধড়ক মারধর করে। গণপিটুনিতেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ। গাড়িতে থাকা অন্য দুই যাত্রীর উপরেও হামলা চালানো হয়। শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তারক্ষীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে তাঁদের উদ্ধার করে।

আহত ব্যক্তির মৃত্যুতে নতুন করে উত্তেজনা (Assam)
অন্যদিকে, দুর্ঘটনায় আহত দু’জনের মধ্যে একজন সুনীল মুর্মুর মৃত্যু হয় মঙ্গলবার সকালে। এই মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই পরিস্থিতি আবার নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ক্ষুব্ধ জনতা স্থানীয় থানা ঘেরাও করে এবং জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। এর জেরে গুরুত্বপূর্ণ ওই রাস্তায় যান চলাচল সম্পূর্ণ ব্যাহত হয়।
পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস (Assam)
বিক্ষোভ ক্রমে হিংসাত্মক রূপ নেওয়ায় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করে এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোঁড়ে। তাতেও জনতার ক্ষোভ পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি বলে জানা গিয়েছে। একাধিক সূত্রের দাবি, এলাকার বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি ও একটি সরকারি অফিসে আগুন লাগিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা।
সেনা ও র্যাফ মোতায়েন, ইন্টারনেট বন্ধ (Assam)
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি রুখতে অসম প্রশাসন এলাকায় র্যাফ ও সেনা মোতায়েন করেছে। ঘৃণা ছড়ানো ও গুজব রুখতে সাময়িকভাবে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আনতে সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।

আটক ২৯, চলছে ধরপাকড়
হিংসার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ২৯ জনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের চিহ্নিত করে ধরপাকড় চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।



