Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: চৈত্র সংক্রান্তির আগের দিন (Nil Sasthi 2026) গ্রামবাংলায় খুবই পরিচিত একটি ব্রত ও উৎসব হল নীলষষ্ঠী। অনেকেই ভাবেন, এটি সাধারণ ষষ্ঠী তিথি, কিন্তু পঞ্জিকা অনুযায়ী বিষয়টি একটু আলাদা। এখানে ‘নীল’ বলতে বোঝানো হচ্ছে ভগবান শিবকে, যিনি বিষ পান করে নীলকণ্ঠ নাম ধারণ করেছিলেন। এই দিনটিতে লোকবিশ্বাস অনুযায়ী শিবের সঙ্গে নীলাবতী বা নীলচণ্ডিকার প্রতীকী বিবাহ সম্পন্ন হয়।
গ্রামবাংলার ভিন্ন রীতি (Nil Sasthi 2026)
গ্রামবাংলায় এই উৎসবের একটি আলাদা (Nil Sasthi 2026) রীতি রয়েছে। নিমকাঠের তৈরি নীলের প্রতিমা সাজিয়ে শোভাযাত্রা করে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিশেষ পুজো, গান, পালা-সব মিলিয়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। আগের রাতে ‘হাজরা পুজো’ হয়, যেখানে অন্যান্য দেবদেবীদের নিমন্ত্রণ জানানো হয়।

নীলষষ্ঠীর ব্রতকথা (Nil Sasthi 2026)
নীলষষ্ঠীর সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি ব্রতকথাও। বলা হয়, এক ব্রাহ্মণ দম্পতি বহু চেষ্টা করেও সন্তানের মুখ দেখতে পারছিলেন না। একদিন তারা জীবন শেষ করতে গেলে এক বৃদ্ধা তাদের থামান। পরে জানা যায়, তিনি মা ষষ্ঠী। তিনি বলেন, অন্য শিশুদের প্রতি তাদের বিরূপ মনোভাবের কারণেই তারা সন্তানের আশীর্বাদ পাননি। এরপর মা ষষ্ঠীর নির্দেশে নীলষষ্ঠী ব্রত পালন করলে তাদের সংসারে সন্তানের আগমন ঘটে।
আরও পড়ুন: Shahid Kapoor: সাউথকে রিপ্লেস বলিউডের, নয়া ভূমিকায় শাহিদ কাপুর
কেন করা হয় উপোস?
এই ব্রত মূলত সন্তানের মঙ্গল কামনায় পালন করা হয়। মায়েরা সারাদিন উপোস থেকে শিবের পুজো করেন। বেলপাতা, ধুতরো ফুল, আকন্দ মালা, ফল ইত্যাদি দিয়ে সহজ উপাচারে এই পুজো সম্পন্ন হয়। সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালিয়ে ব্রত শেষ করা হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই ব্রত খুব জাঁকজমক না থাকলেও ঘরোয়া ভাবে পালন করা যায়। ভক্তি ও আন্তরিকতাই এখানে আসল। ছেলে বা মেয়ে-সব সন্তানের মঙ্গল কামনায় এই ব্রত করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, নিষ্ঠা ও বিশ্বাস থাকলে ভগবান শিব সকলের মনোবাসনা পূরণ করেন। হর হর মহাদেব।



