Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আবারও উঠে এল উত্তেজনা ও অভিযোগের ছবি (Krishna Kalyani )। উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জে ভোটগ্রহণ চলাকালীন শিল্পীনগর এলাকার শিশুকল্যান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৩২ ও ১৩৩ নম্বর বুথকে ঘিরে তৈরি হয় চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি। অভিযোগ, বুথের নির্ধারিত ১০০ মিটারের মধ্যে রাজনৈতিক দলের কর্মীরা ভিড় জমিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছিলেন, যা সরাসরি নির্বাচন বিধির লঙ্ঘন।

নির্বাচনী বিধি ভাঙছে বিরোধীরা (Krishna Kalyani )
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরব হন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী কৃষ্ণ কল্যানী। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি কর্মীরা বুথের একেবারে কাছাকাছি অবস্থান করে ভোটারদের উপর প্রভাব বিস্তার করছিলেন। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ১০০ মিটারের নিয়ম মানা হয়নি প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশন বিষয়টি জেনেও কার্যত কোনও পদক্ষেপ নেয়নি তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, এই ঘটনাকে তিনি শুধুমাত্র নিয়মভঙ্গ নয়, বরং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ না কি পক্ষপাত? (Krishna Kalyani )
ঘটনার জেরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি সামাল দিতে নামে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। কিন্তু এখানেই নতুন বিতর্কের জন্ম। তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, তাদের কর্মীদের উপরই নির্বিচারে লাঠিচার্জ করা হয়েছে। কৃষ্ণ কল্যানী দাবি করেন, “যেখানে নিয়ম ভাঙছে অন্য পক্ষ, সেখানে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টে আমাদের কর্মীদের উপর বলপ্রয়োগ করা হচ্ছে।” এই অভিযোগ ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কি সত্যিই নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে, নাকি কোনও পক্ষকে সুবিধা দিচ্ছে?

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক (Krishna Kalyani )
নির্বাচনের সময় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু রায়গঞ্জের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, পুলিশ বিজেপির কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি, বরং তাদেরই কর্মীদের সরাতে কঠোরতা দেখিয়েছে। এই ধরনের অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। এর আগেও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ভোটের দিন পুলিশি ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফলে এই ঘটনাও বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব পাচ্ছে।
বিজেপির পাল্টা জবাব (Krishna Kalyani )
অন্যদিকে, বিজেপির প্রার্থী সুজাতা বিশ্বাস সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূলই পরিকল্পিতভাবে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছে, বিজেপির কর্মীরা নির্বাচন বিধি মেনেই কাজ করছে, তিনি দাবি করেন, তৃণমূলের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভোটের পরিবেশকে প্রভাবিত করার কৌশল।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন (Krishna Kalyani )
এই ঘটনাকে ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে। ভোটের দিনে বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে কোনও রাজনৈতিক কার্যকলাপ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। তবুও যদি এমন অভিযোগ ওঠে, তাহলে কেন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হল না? নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। তাই এই ধরনের অভিযোগ কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতার উপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

গণতন্ত্রের বাস্তব চিত্র
ভোটকে গণতন্ত্রের উৎসব বলা হলেও, বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই তা উত্তেজনা, সংঘর্ষ এবং অভিযোগে ভরে ওঠে। রায়গঞ্জের এই ঘটনা সেই বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। একদিকে রাজনৈতিক দলগুলির পারস্পরিক দোষারোপ, অন্যদিকে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন সব মিলিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। অথচ গণতন্ত্রের মূল শক্তি সেই সাধারণ মানুষই।



