Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ত্রয়ণ চক্রবর্তী: রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই গ্রেফতারির (WB Police) কবলে পড়ছেন তৃনমূলের একের পর এক নেতা নেত্রীরা। শুধু গ্রেফতারিই নয় সেই সঙ্গে জনরোষের মুখেও পড়তে হচ্ছে ওই নেতাদের। তাদের লক্ষ্য করে ছোঁড়া হচ্ছে ডিম। কিন্তু গোল বাঁধছে অন্য জায়গায়। লক্ষ্যভ্রষ্ট ডিম অনেক সময়ই অভিযুক্তের বদলে গিয়ে পড়ছে তাদের সঙ্গে থাকা পুলিশ আধিকারিকদের গায়ে। ফলে সেই সমস্ত পুলিশ আধিকারিকদের বাড়িতেও শুরু হয়েছে অশান্তি।
পুলিশের শাঁখের করাত দশা (WB Police)
উভয় সংকটে পুলিশ কর্মীরা (WB Police)। একদিকে কর্ম অন্যদিকে সংসার ধর্ম। এই দুয়ের মাঝে পড়ে এখন শাঁখের করাত অবস্থা। আর তাদের এই সমস্যার অনুঘটক নিছক নিরীহ ডিম। সুষম খাদ্যের তালিকায় যার স্থান একদম প্রথমের সারিতে।
আসলে শুরুটা হয়েছিল যেদিন অভিষেক (WB Police) বন্দ্যোপাধ্যায়ের সোনারপুর গিয়েছিলেন সেদিন। জনরোষের মুখে পড়েন তিনি। তাকে লক্ষ্য করে রীতিমত ডিমবৃষ্টি করতে শুরু করে ক্ষিপ্ত জনতা। এরপর থেকে তৃনমূলের ছোটো বড় নেতারা গ্রেফতার হলেই তাদের আদালতে তোলার সময় হোক কিংবা অভিযুক্তের শারীরিক পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময়, তিরের মতো ধেয়ে এসেছে ডিম। আর সবাই তো অর্জুনের মতো লক্ষ্য ভেদে পারদর্শী নন, ফলে অধিকাংশ সময়ই সেই লক্ষভ্রষ্ট ছোড়া ডিম হজম করতে হয়েছে অভিযুক্তের সঙ্গে থাকা পুলিশ কর্মীদের। আর তাতেই কর্মক্ষেত্রের সমস্যা সোজাসুজি তাদের সংসার ধর্মে ধর্মসংকট তৈরি করেছে।
আরও পড়ুন : Jennifer Winget: নতুন জীবনের পথে জেনিফার? জোর চর্চা বিনোদন মহলে
লক্ষ্যভ্রষ্ট ডিমে ‘গৃহযুদ্ধ’ ! (WB Police)
কাঁচা ডিমের গন্ধ এমনিতেই প্রাণ ওষ্ঠাগত করার পক্ষে যথেষ্ট, তারপর (WB Police) জোষ্ঠের গরমে তা শুকিয়ে আরও বিভীষিকাময় পরিস্থিতি তৈরি করছে, দিন শেষে সেই পোশাক যখন সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকের বাড়ি পৌছাচ্ছে তখনই চরমে উঠছে অশান্তি। কারণ বাড়ির লোকেরা সেই ডিমের গন্ধ মাখা পোশাক কাঁচতে গিয়ে বিদ্রোহ করে উঠছে। বিষয়টি নিয়ে কে-টিভির প্রতিনিধি কথা বলেছিলেন প্রাক্তন পুলিস কর্তা বুদ্ধদেব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে, তিনিও মানছেন সমস্যা শুধু জটিলই নয়, গুরুতরও বটে।
প্রাক্তন পুলিশ কর্তা বুদ্ধদেব মুখোপাধ্যায় এই বিষয়ে আরও জানান, “পুলিশে চাকরি করতে গেলে যা যা করতে হয় সেখানে পুলিশের সাথেই একটা আন্দোলন করছে তাদের সম্মুখ সমর ছিল। সেই ক্ষেত্রে আন্দোলনকারীরা ডিমও ছুঁড়েছে ও টমেটোও ছুঁড়েছে। আমার সেই অভিজ্ঞতা নেই। কিন্তু কিছু কিছু পুলিশ জায়গায় জায়গায় ডিম ডিঅ্যাক্টিভেট করেছে। এটা নিয়ে খুব হাসাহাসিও হত। একটা মিছিল যাচ্ছিল, সেখানে খবর পাওয়া গেছিল যে টমেটো মজুত ছিল সেগুলো নামানো হল, দিয়ে ফেলে দেওয়া হল। আমি কন্ট্রোল রুমে ছিলাম, ঘটনার পরে বললাম, “টমেটোস আর ডি-অ্যাক্টিভেটেড” .আগে পুলিশের বিরুদ্ধে ছিল আন্দোলনকারীরা তৃতীয় পক্ষ কেউ ছিল না। এখন পুলিশের বিরুদ্ধে কারোর ক্ষোভ নেই। পুলিশ দুর্নীতি গ্রস্তদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে, শান্তিপূর্ণ ভাবে যে নিয়ে চলে আসবে তার উপায় নেই। চোর চোর স্লোগান পর্যন্ত ঠিক ছিল, কিন্তু ডিম ছুঁড়ছে মানুষ। আর কেউ তো টার্গেট করে ডিম ছুঁড়ছে না যে আসামীর গায়ে লাগবেই। ডিম তো দু-চারটে লাগবেই পুলিশের গায়ে। এতে তো পুলিশ বিরক্ত হচ্ছেই। আনইন্টেনশনালি পুলিশের গায়ে ডিম লাগছে, গায়ে গন্ধ হচ্ছেই আর জামাকাপড়ও নোংরা হচ্ছে। এসব যদি হয় বাড়ির লোকজন তো ক্ষেপে যাবেই। জামাই ষষ্ঠীর আগে এই অবস্থা বাড়ির লোক তো রাগ করবেই। আর ডিম একটু পুরোনো হলে তো কদাকার গন্ধ হয়। সব জায়গায় তো আর এসেই স্নান করার বা জামাকাপড় কাচার ব্যবস্থা থাকে না।”
এছাড়া এক পুলিশ কর্মী জানান যে গ্রীষ্মের এই দাবদাহে কাঁচা ডিমের গন্ধ যেন সহ্য করা দায়। এর জেরে আর ও অস্বস্তিতে পড়ছেন তারা।
আরও পড়ুন : Mimi Chakraborty: মিমি-তনয় বিতর্কে বাড়ছে জটিলতা, নেটপাড়ায় মিমির হুঁশিয়ারি!
সমাধানের সন্ধানে উর্দিধারীরা
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক নাজেহাল পুলিশ কর্মীই বলছেন, কীভাবে যে কর্মক্ষেত্রের এই সমস্যা থেকে তৈরি গৃহদাহ বন্ধ করবো জানি না। সামনেই আবার জামাইষষ্ঠী, সেদিন যদি কোনও গ্রেফতারির ঘটনা ঘটে আর ডিমবৃষ্টি হয়, সেই ডিমমাখা পোশাক পড়ে শ্বশুরবাড়ি যেতে হলে সেদিনই সংসার করার শেষ দিন হয়ে যাবে। কাজেই এখন সমস্যা গুরুতর হলেও আশু সমাধান পুলিশকুলের কাছে এখনও অজানা।


