Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই অভিজ্ঞ, প্রবীণ নেতাদের আধিপত্য দেখা গিয়েছে (Afreen Shilpi)। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন প্রজন্মও নিজেদের জায়গা করে নিতে শুরু করেছে। সেই ধারারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ ২৯ বছরের তরুণী আফরিন শিল্পী। বামপন্থী রাজনীতির ময়দানে প্রথমবার নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেই তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন বালিগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে।

ছাত্র রাজনীতি থেকেই পথচলা (Afreen Shilpi)
আফরিনের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল কলেজ জীবনে। ২০১৫ সালে, যখন তিনি প্রথম বর্ষের ছাত্রী, তখন ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সমস্যায় তিনি পাশে পেয়েছিলেন ছাত্র সংগঠন SFI-কে। সেই সময় থেকেই বামপন্থী আদর্শ তাঁর মনে গভীর প্রভাব ফেলে।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী হিসেবে ছাত্র রাজনীতির অভিজ্ঞতা তাঁকে ধীরে ধীরে মূলধারার রাজনীতির দিকে নিয়ে আসে।
হেভিওয়েটদের বিরুদ্ধে কঠিন লড়াই (Afreen Shilpi)
বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র এমন একটি আসন, যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সবসময়ই তীব্র। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, অন্যদিকে বিজেপির প্রার্থী শতরূপা এই দুই অভিজ্ঞ প্রার্থীর বিরুদ্ধে লড়াই করছেন আফরিন। রাজনৈতিকভাবে এত শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে প্রচারে কোনওরকম পিছপা হননি তিনি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বালিগঞ্জের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে ঘুরে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখছেন।

প্রসেনজিতের বাড়িতে প্রচার (Afreen Shilpi)
সম্প্রতি প্রচারের সময় আফরিন পৌঁছে যান বিশিষ্ট অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়-এর বাড়িতে। এই সাক্ষাৎ তাঁর প্রচারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি শেয়ার করে তিনি জানান, অভিনেতার আশীর্বাদ তাঁর লড়াইকে আরও শক্তিশালী করবে। যদিও এটি নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ, তবুও জনসংযোগের ক্ষেত্রে এর প্রভাব যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।
আত্মবিশ্বাসই প্রধান শক্তি (Afreen Shilpi)
আফরিন নিজের জয়ের ব্যাপারে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী। তাঁর বক্তব্য, বালিগঞ্জের মানুষ পরিবর্তন চাইছেন এবং নতুন করে লাল পতাকার প্রতি আস্থা রাখছেন। তিনি বলেন, “আমি ১০০ শতাংশ আশাবাদী। মানুষ আমাদের সঙ্গে আছেন, তাঁরা লড়াইয়ের পাশে রয়েছেন।”
আরও পড়ুন: Record Vote Percentage: বঙ্গে ভোট শতাংশ ৯০% ছুঁইছুঁই! ভাঙল ২০১১ সালের রেকর্ড
আদর্শ বনাম বাস্তবতা
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বামেদের শক্তি আগের মতো না থাকলেও, আদর্শের ভিত্তিতে রাজনীতি করার যে প্রয়াস, তা এখনও অনেক তরুণকে আকৃষ্ট করছে। আফরিন সেই ধারার প্রতিনিধিত্ব করেন, যেখানে রাজনীতি শুধুই ক্ষমতার জন্য নয়, বরং সংগ্রাম ও বিশ্বাসের জায়গা।



