Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
বিশেষ প্রতিবেদন: দেবযানী সরকার: কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর নতুন বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেটকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে শুধুমাত্র অর্থনীতি বা পরিকাঠামো নয়, সাংস্কৃতিক জগতের প্রতিনিধিরাও এই বাজেটকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। অভিনেতা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রুদ্রনীল ঘোষ এই বাজেটকে “ডাবল ইঞ্জিন সরকারের ম্যাজিক” বলে উল্লেখ করেছেন এবং দাবি করেছেন যে দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত বিভিন্ন ক্ষেত্র এবার নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে (Rudranil Ghosh)।

ডাবল ইঞ্জিন সরকারের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি (Rudranil Ghosh)
রুদ্রনীল ঘোষের মতে, পশ্চিমবঙ্গে অতীতে এমন সরকার ছিল যারা কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাতের রাজনীতিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে (Rudranil Ghosh)। ফলে কেন্দ্রের বহু উন্নয়নমূলক প্রকল্প সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারেনি। তিনি মনে করেন, বর্তমান সরকার সেই বাধা দূর করে কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে উন্নয়নের নতুন পথ খুলে দিয়েছে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট যে এই বাজেটকে তিনি শুধুমাত্র অর্থনৈতিক দলিল হিসেবে দেখছেন না, বরং উন্নয়নের একটি বৃহত্তর রূপরেখা হিসেবে মূল্যায়ন করছেন।
সংস্কৃতি ক্ষেত্রের জন্য উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ
রুদ্রনীল ঘোষের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে সংস্কৃতি জগতের জন্য প্রায় ৮১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তাঁর মতে, এটি শুধুমাত্র চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য নয়, গোটা সাংস্কৃতিক পরিসরের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি মনে করেন, এই বরাদ্দের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত বিভিন্ন শিল্পমাধ্যম নতুন করে বিকাশের সুযোগ পাবে।

শুধু ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি নয় (Rudranil Ghosh)
রুদ্রনীল ঘোষ বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন যে সংস্কৃতি মানেই শুধুমাত্র সিনেমা নয়। এই বাজেটের সুবিধা পৌঁছাবে— চলচ্চিত্র শিল্পে টেলিভিশন জগতে, থিয়েটার শিল্পে, যাত্রা শিল্পে, সঙ্গীত জগতে, চিত্রকলা ও চারুশিল্পে, বিভিন্ন লোকশিল্প ও লোকসংস্কৃতির ক্ষেত্রে, তাঁর মতে, বাংলার সংস্কৃতির মূল শক্তি এই বহুমাত্রিক শিল্পচর্চা। তাই বাজেটেও সেই সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়েছে। লোকশিল্পীদের জন্য নতুন সম্ভাবনা, বাংলার গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা হাজার হাজার লোকশিল্পী দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করছেন। রুদ্রনীল ঘোষ মনে করেন, নতুন বরাদ্দের ফলে এই শিল্পীদের জন্য সরকারি সহায়তা, প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনের সুযোগ এবং আর্থিক নিরাপত্তা বাড়তে পারে।লোকসংস্কৃতির সংরক্ষণ ও প্রসারের ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
শিল্প ও সংস্কৃতির মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা
সংস্কৃতি খাতকে শুধুমাত্র বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে না দেখে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র হিসেবেও দেখার আহ্বান জানিয়েছেন রুদ্রনীল। তাঁর মতে, চলচ্চিত্র, টেলিভিশন, নাটক, সঙ্গীত এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে হাজার হাজার মানুষের জীবিকা জড়িয়ে রয়েছে। বাজেটের বরাদ্দ যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে এই খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

আরও পড়ুন: Bus Problem Howrah: সোমবার সাতসকালে বাস বিভ্রাট! নাজেহাল নিত্য যাত্রীরা
মুখ্যমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ
রুদ্রনীল ঘোষ এই বাজেটের জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং অর্থমন্ত্রী ড. স্বপন দাসগুপ্তকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তাঁর মতে, সুপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের যে রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে, তা আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক রাজ্যে পরিণত করতে সাহায্য করবে।



