Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ফর্ম আসা যাওয়া করলেও ক্লাস চির স্থায়ী। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচে দলকে জিতিয়ে নিন্দুকদের মুখের উপর জবাব দিলেন রোনাল্ডো (Portugal vs Uzbekistan)।
রোনাল্ডোর দাপটে প্রথম জয় পর্তুগালের (Portugal vs Uzbekistan)
বিশ্বে এমন কয়েকজন প্লেয়ার আছেন যাঁরা মাঠে নামলে তাঁদের নিয়ে চর্চা চলে বিশ্বের সব প্রান্তে। ছোটবেলায় একটা প্রবাদ লোক মুখে ঘুরত শচীন ব্যাট করার সময় নাকি দেশের অর্থনীতি থেমে যায় কারণ সবাই তখন ক্রিকেটের ‘ঈশ্বরের’ ব্যাটিং দেখে। সত্যিকারের এমন হয় বলে কোনও তথ্য না থাকলেও কোনও কোনও প্লেয়ারকে নিয়ে উন্মাদনা সত্যিই এমন হয়। ক্রিকেটে শচীন, কোহলি হোক বা ফুটবলের মেসি-রোনাল্ডো। দুই দশক ধরে ফুটবলে রাজত্ব করছেন এই দুই তারকা (Portugal vs Uzbekistan)।
বিশ্বকাপের শুরু হয়ে গেছে বেশ কয়েকদিন হয়ে গেছে। ইতিমধ্যেই বেজে গেছে বিদায়ের সুর। হাইতি এবং তুরষ্ক বিদায় নিয়েছে আবার অন্যদিকে বইছে গোলের বন্যা। পরপর ম্যাচে গোল পাচ্ছেন মেসি, এমবাপেরা কিন্তু রোনাল্ডো? কোথায় সেই দাপট? অনেকেই প্রশ্ন তুলছিল আর সেই সব প্রশ্নের উত্তর আজে তিনি দিলেন।
রোনাল্ডো মানেই কোটি কোটি সমর্থকের প্রত্যাশা। কিন্তু সেই ক্রিস্তিয়ানো রোনাল্ডো গোল পেলেন ১০ ম্যাচ পর। দেশের জার্সিতে উজ়mবেকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলতে নেমে ৬ মিনিটে চোখ ধাঁধানো শটে গোল করেন এই পর্তুগীজ তারকা। আর গোল করে রেকর্ড তৈরি করলেন তিনি এবং ভেঙে দিলেন লিওনেল মেসির রেকর্ড (Portugal vs Uzbekistan)।
এই ম্যাচে প্রথম গোলটা করে রোনাল্ডো হলেন প্রথম ফুটবলার যিনি ৬টি বিশ্বকাপে গোল করলেন। লিওনেল মেসি পাঁচটি বিশ্বকাপে গোল করেছেন। ২০১০ সাললের বিশ্বকাপে গোল পাননি আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। কিন্তু রোনাল্ডো প্রতিটা বিশ্বকাপেই পেলেন গোল।
আরও পড়ুন: Nitish Kumar Reddy: হার্দিকের বিকল্প তারকাও ছিটকে গেলেন দল থেকে
এই দুই তারকাই ২০০৬ সালে বিশ্বকাপে অভিষেক করেন। এটাই দুই তারকার ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। এই বিশ্বকাপটা মেসি হ্যাটট্রিক দিয়ে শুরু করলেও রোনাল্ডো শুরু করেন সাদামাটা, গোলহীন ভাবে। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে জ্বলে উঠলেন তিনি আর মাঠে সেই পরিচিত সিউউ। ম্যাচের প্রথমার্ধে জোড়া গোল করলেন। ম্যাচের প্রথম থেকেই দেখা যাচ্ছিল পর্তুগালের দাপট। যেমনটা আসা করা যাচ্ছিল এই ম্যাচে পর্তুগাল কোচ রক্ষণ বিভাগে ফিরিয়ে এনেছেন দিয়াজকে।
এই ম্যাচে যে রোনাল্ডো শুধু নিজে গোল করলেন তা নয়। নিজের ফর্মে ফেরার পাশাপাশি খেললেন বুদ্ধিদীপ্ত ফুটবল। যেখানে বিপক্ষকে সহজেই বোকা বানালেন এবং গোল করালেন। এই ম্যাচে পর্তুগালের প্রপার টিম গেমের সাক্ষী থেকেছে বিশ্ব ফুটবল।
কঙ্গোর বিরুদ্ধে ম্যাচের পর সমালোচনার ঝড় বয়ে গেছে পর্তুগাল ও রোনাল্ডোর উপর দিয়ে। কিন্তু এই ম্যাচে বিশ্বকাপের মঞ্চে হুঙ্কার রোনাল্ডোর। রোনাল্ডো ফর্মে ফিরতেই ৫-০ গোলে জয় লাভ পর্তুগালের।
রেকর্ডবুক নাম তোলা মাত্র সেই সিউ সেলিব্রেশন। ম্যাচের ১৭ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান নুনো মেন্ডিসের। ফ্রিকিক থেকে গোল করেন। প্রথমার্ধের শেষেই ৩-০ গোল এগিয়ে যায় পর্তুগাল। নিজের দ্বিতীয় এবং দলের তৃতীয় গোল করেন রোনাল্ডো। ব্রুনো ফার্নান্দেজের থেকে বল পেয়ে, ডান পায়ের কোনাকুনি শটে দুর্দান্ত প্লেসিং। ম্যাচের ৩১ মিনিটে দূরপাল্লার একটি দুর্দান্ত গোল করেছিল উজবেকিস্তান। কিন্তু সেই হল বাতিল হয় ফাউলের জন্য।
এবারের বিশ্বকাপে যেসব দল রয়েছে, তারমধ্যে পর্তুগালের মিডফিল্ড সবচেয়ে স্ট্রং কেন বলা হচ্ছিল আজ সেটার প্রমাণ পাওয়া গেল। একাধিক সুযোগ তৈরি হল এই ম্যাচে। ব্যবধান আরও বাড়তে পারত। ম্যাচের ৫৮ মিনিটে হ্যাটট্রিক করার সুযোগ পেয়েছিলেন পর্তুগিজ তারকা। ফ্রিকিক ছিল সৃষ্টিশীল। ফ্রিকিক নেন ব্রুনো ফার্নান্দেজ। আলতো লব করেন। মানবপ্রাচীর পেরিয়ে গোল করার মতো জায়গায় পৌঁছে যান রোনাল্ডো। শটও নেন। কিন্তু অনবদ্য সেভ উজবেকিস্তানের গোলরক্ষকের।
ম্যাচের ৬০ মিনিটে খুশানোভের আত্মঘাতী গোল। ৪-০ গোলে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। ম্যাচের ৭৩ মিনিটে আবার হ্যাটট্রিকের সুযোগ। নুনো মেন্ডিসের পাস থেকে বল বাইরে মারেন রোনাল্ডো। তার এক মিনিটের মধ্যে আবার সুযোগ। কিন্তু বাঁচিয়ে দেন গোলকিপার নাহলে এই ম্যাচে রোনাল্ডোর হ্যাটট্রিক নিশ্চিত ছিল। ম্যাচের ৮৫ মিনিটে ৫-০। গোল করেন পরিবর্ত ফুটবলার রাফা লিও। ডান পায়ের জোরাল শটে নিখুঁত প্লেসিংয়ে গুলো। অবশেষে জয় যাত্রা শুরু হল পর্তুগালের।


