Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বারুইপুরের এনকাউন্টার, বিরোধীদের সমালোচনা এবং মুখ্যমন্ত্রীকে ঘিরে বিতর্ক একাধিক ইস্যুতে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানালেন বিজেপি নেতা ও মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা, বিরোধী রাজনীতি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে একের পর এক মন্তব্য করেন। নিচে তাঁর বক্তব্যগুলি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হল (Dilip Ghosh)।
“অপরাধ দমনে পুলিশের হাত আর কাঁপবে না” (Dilip Ghosh)
বারুইপুরে অভিযুক্তকে ঘিরে হওয়া এনকাউন্টার প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বহু বছর পর এমন ঘটনা ঘটল। তাঁর দাবি, অতীতে নকশাল আমলে এনকাউন্টার হলেও পরবর্তীকালে তা কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তিনি বলেন, সরকার এনকাউন্টারকে নীতি হিসেবে গ্রহণ করতে চায় না। কিন্তু যখন কোনও কুখ্যাত অপরাধী গ্রেফতারের পর পালানোর চেষ্টা করে এবং পুলিশের উপর হামলার পরিস্থিতি তৈরি হয়, তখন পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়।
দিলীপ ঘোষের মতে (Dilip Ghosh)
বিহার ও উত্তরপ্রদেশে এনকাউন্টারের ফলে সাধারণ মানুষ অনেক ক্ষেত্রে স্বস্তি পেয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, অতীতে পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকার অন্য রাজ্যের এনকাউন্টারের বিরোধিতা করলেও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছিল। ফলে অপরাধীদের সাহস বেড়ে যায়। তিনি আরও বলেন, বাংলার পুলিশ চাইলে কঠোর পদক্ষেপ নিতে সক্ষম। বর্তমান সরকার পুলিশের সেই আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দিয়েছে। তাঁর দাবি, “অপরাধের ক্ষেত্রে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে। পুলিশের হাত আর কাঁপবে না।”
শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা (Dilip Ghosh)
দিলীপ ঘোষ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করে বলেন, সংকটের মুহূর্তে ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি সামলানোর নজির তিনি তৈরি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, বিরোধীরা ঘটনাস্থলে শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রচারের জন্য গিয়েছিল, কিন্তু সরকার বাস্তবে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে।
আরও পড়ুন: ISRO Success: ইসরোর বড় সাফল্য: LVM 3-র CE20 ক্রায়োজেনিক ইঞ্জিন পরীক্ষায় সবুজ সংকেত
এনকাউন্টার নিয়ে প্রতিবাদকারীদের কড়া সমালোচনা
এনকাউন্টার নিয়ে যাঁরা প্রশ্ন তুলছেন বা প্রতিবাদ করছেন, তাঁদের উদ্দেশে দিলীপ ঘোষ অত্যন্ত কড়া ভাষায় মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, কিছু তথাকথিত বুদ্ধিজীবী অপরাধের সময় প্রতিবাদ করেন, আবার অপরাধীরা কঠোর শাস্তি পেলেও প্রতিবাদ করেন। তাঁর অভিযোগ, এরা সমাজবিরোধীদের প্রতি সহানুভূতি দেখান এবং নিজেদের প্রচারের জন্য আন্দোলন করেন। তিনি সাধারণ মানুষকে এই ধরনের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিবাদ করার আহ্বানও জানান।
মমতার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ (Dilip Ghosh)
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ, গান বাজানো এবং মিছিলে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কেন্দ্র করেও তীব্র কটাক্ষ করেন দিলীপ ঘোষ। তিনি দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে এক কর্মীকে থাপ্পড় মেরেছেন, যা তাঁর ধৈর্যচ্যুত হওয়ার প্রমাণ। দিলীপ ঘোষ বলেন, ক্ষমতায় থাকলে প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে বিরোধীদের দমন করা সহজ, কিন্তু বিরোধী অবস্থানে থেকে গণতান্ত্রিকভাবে লড়াই করতে হয়। তাঁর দাবি, বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে সেই লড়াই করেছে। তিনি আরও বলেন, অতীতে বিজেপির সভা-মিছিল আটকানো হয়েছে, গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে এবং নানা ধরনের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। এখন বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে, তাই কর্মীদের উচ্ছ্বাস প্রকাশকে অস্বাভাবিক বলে দেখার কোনও কারণ নেই।
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/02/17/dilip-2026-02-17-13-17-10.jpg)
“এনকাউন্টারের ভিডিও কোথা থেকে আসবে?”
বিরোধীদের পক্ষ থেকে এনকাউন্টার নিয়ে ভিডিও, সিসিটিভি ফুটেজ এবং তদন্তের দাবি প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, মাঠের মধ্যে সংঘটিত এনকাউন্টারে সিসিটিভি থাকার প্রশ্নই ওঠে না। তাঁর বক্তব্য, বিরোধীরা অপরাধীর শাস্তিতে সন্তুষ্ট নয়, বরং বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করে বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করতে চাইছে।
মমতার ‘থাপ্পড়’ নিয়ে তৃণমূলকে নিশানা (Dilip Ghosh)
দুর্দিনে দলের পাশে থাকা এক বর্ষীয়ান কর্মীকে প্রকাশ্যে থাপ্পড় মারার অভিযোগ তুলে দিলীপ ঘোষ বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসে দীর্ঘদিনের কর্মীদের কোনও সম্মান নেই। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই মানুষকে প্রয়োজনে ব্যবহার করেছেন। এখন সাধারণ মানুষও সেই বাস্তবতা দেখতে পাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, একসময় মানুষ সিপিএমের বিকল্প হিসেবে তৃণমূলকে বেছে নিয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে বিজেপিই রাজ্যের প্রকৃত বিকল্প শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে বলে তাঁর দাবি।
“দুর্দিনে পাশে থাকা কর্মীদেরও সম্মান নেই”
দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অতীতেও প্রশাসনিক আধিকারিক থেকে শুরু করে নিজের দলের কর্মীদের প্রকাশ্যে ধমক দিয়েছেন। তাঁর দাবি, যাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তাঁদেরও তৃণমূলে গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়েছে। ফলে দলের কর্মীদের প্রতি কোনও মর্যাদা নেই।
কুণাল ঘোষকে ‘শকুনি’ বলে কটাক্ষ
তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের মন্তব্য প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, কুণাল ঘোষের রাজনৈতিক বক্তব্য এবং কৌশলই তৃণমূলের বর্তমান দুরবস্থার অন্যতম কারণ। তাঁকে ‘শকুনি’র সঙ্গে তুলনা করে দিলীপ ঘোষ দাবি করেন, তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা তৃণমূলের ক্ষতিই করেছে।

“ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না”
থাপ্পড় বিতর্ক নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে দিলীপ ঘোষ বলেন, কে কাকে থাপ্পড় মারবে, তা সময়ই বলবে। তবে ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না। তিনি দাবি করেন, সাধারণ মানুষের ধৈর্যের সীমা শেষ হয়ে গিয়েছিল। বর্তমান সরকার উন্নয়নের পাশাপাশি দ্রুত বিচার ও আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় জোর দিচ্ছে।
ছাত্র গ্রেফতার ও ‘ডিম থেরাপি’ প্রসঙ্গ
মুখ্যমন্ত্রীকে কুরুচিকর মন্তব্য করার অভিযোগে একাদশ শ্রেণির এক ছাত্র গ্রেফতার হওয়ার ঘটনাতেও মন্তব্য করেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, বাংলায় সাম্প্রতিক সময়ে “ডিম থেরাপি” নামে এক ধরনের প্রতিবাদ দেখা যাচ্ছে, যেখানে শারীরিক আঘাত না করেই মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূলের এক দুষ্কৃতীর পাশে দাঁড়ানো বা তাকে সমর্থন করা মানে আইন-শৃঙ্খলা ও সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। তাঁর মতে, অপরাধীদের রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া উচিত।
আরও পড়ুন: Jyoti Basu: রাজনীতির কিংবদন্তি জ্যোতি বসু, আজও আলোচনার কেন্দ্রে তাঁর নাম
রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র
দিলীপ ঘোষের এই ধারাবাহিক মন্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট, রাজ্যের সাম্প্রতিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বারুইপুরের এনকাউন্টার এবং তৃণমূলকে ঘিরে বিতর্ক আগামী দিনে আরও তীব্র রাজনৈতিক সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে সরকার কঠোর আইন প্রয়োগের বার্তা দিচ্ছে বলে বিজেপির দাবি, অন্যদিকে বিরোধীরা এনকাউন্টার ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। ফলে এই ইস্যুগুলি আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে অন্যতম আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠতে পারে।



