Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কেটিভি বাংলা ডিজিটাল : অনন্যা দে: শর্তসাপেক্ষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তথা কালীঘাট তৃণমূলকে তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট (Calcutta High Court) ব্যবহারের অনুমতি দিল হাইকোর্ট। অ্যাকাউন্ট গুলির প্রতিদিনের লেনদেনের উপর নজরদারি রাখার জন্য স্পেশাল অফিসার হিসেবে হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে নিয়োগ করল হাইকোর্ট। প্রতিদিনের খরচ ছাড়া বড় কোনও খরচ করতে স্পেশাল অফিসারের অনুমোদন নিতে হবে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই নির্দেশ বলবৎ থাকবে। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি। সেই দিন তদন্তকারী সংস্থাকে তদন্তের অগ্রগতি রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে। দলের লোগো এবং আসল মালিকানা কাদের সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন।
অ্যাকাউন্ট মামলার শুনানি (Calcutta High Court)
তৃণমূল কংগ্রেসের আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি – গনতান্ত্রিক (Calcutta High Court) ব্যবস্থায় একটা রাজনৈতিক দলকে এইভাবে পুলিশের অভিযোগের ভিত্তিতে অকেজো করে দেওয়া যায়না। ৮ টি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে অভিযোগের একদিনের মধ্যে। ১৮ জুন এফআইআর হয়। ১৯ জুন অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়। সম্পূর্ণ অস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে।
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য- আমি অভিযোগের বিস্তারিত ব্যাখ্যায় যেতে চাই না।আপাতত অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিতে চায় আদালত।
অভিষেক মনু সিংভি- “যাব সাইয়া বানে কোতওয়াল তো ডার কাহেকা”। পুলিশ এখানে কোতওয়াল। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করতে পারবে। কিন্তু কীভাবে সব অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিতে পারে! পাশাপাশি রাজনৈতিক দল সংক্রান্ত বিষয়ে সব কিছু নির্বাচন কমিশনের এক্তিয়ার ভুক্ত।কীভাবে পুলিশ অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে? (Calcutta High Court)
কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেসের আইনজীবী কিশোর দত্ত – বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের ২৫০ জন কর্মচারি রয়েছেন। তাদের প্রতি মাসে বেতন বাবদ ৫১ লক্ষ টাকা খরচ। ১৭টা অফিস চালাতে হয়। তার ভাড়া দিতে হয়। প্রত্যেক মাসে বিপুল খরচ। প্রায় ৯.৪৩ কোটি টাকা খরচ হয়।সুপ্রিমকোর্টের একাধিক নির্দেশ রয়েছে পুলিশ কোনও ব্যাঙ্ক একাউন্ট ফ্রিজ করতে পারে না।
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য – এখন ইনফরমেশন টেকনোলজির সময়। এই সময় পুলিশের কাছে বিভিন্ন অভিযোগ আসে। যার জন্য পুলিশ পদক্ষেপ করতে বাধ্য।
অভিযোগকারী বিদ্রোহী তৃণমূলের আইনজীবী কে পরমেশ্বর- কে প্রকৃত তৃণমূল সেই নিয়ে দ্বন্দের প্রয়োজনই নেই। আমরাই প্রকৃত তৃণমূল।
বিচারপতি – আপনি কেন এই মামলাতে এই বিষয় উত্থাপন করছেন? আপনি তৃণমূল কংগ্রেসের একজন সদস্য।পার্টি প্রতীকে জিতেছেন। এখন জেতার পর অভিযোগ করছেন? কেন ৪ মে ২০২৬ এর আগে অভিযোগ করেননি? ১৮ জুনের অভিযোগের বিষয়ে কী বক্তব্য আপনাদের?
এটা কি আসল তৃণমূলের একাউন্ট বন্ধ করার জন্য করেছেন?
আইনজীবী পরমেশ্বর – আমরাই আসল তৃণমূল। কোনও প্রাক্তন বিচারপতির নেতৃত্বে কমিটি গঠন হলে তিনি যেন তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট চালু রাখেন।
রাজ্য পুলিশের আইনজীবী সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা- (Calcutta High Court)
একটা জিনিস পরিস্কার, সেকশন ১০৬ অনুযায়ী যে কোনও পুলিশ আধিকারিক যেকোন সম্পত্তি সিজ করতে পারেন। যদি সন্দেহ জনক মনে হয়। কে প্রকৃত তৃণমূল এখন সেটা নিয়ে অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে। সেই জন্য এখন অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতে দেওয়া উচিৎ নয়।
বিচারপতি – নির্দেশের মধ্যে সেই বিষয়টি পরিস্কার উল্লেখ করা হবে। গত ১৮ জুন সন্ধ্যে ৬ টার সময় এফয়াইয়ার হয়। ১৯ জুন অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাহলে অভিযোগ টা অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার জন্যই করা হয়?
সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতা – আমরা হলফনামা দিয়ে জানাবো।
কালীঘাট তৃণমূলের আইনজীবী কিশোর দত্ত – কেন হলফনামা? রিপোর্ট দিয়ে জানান কী নথি রয়েছে পুলিশের কাছে।
সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতা – মোট সাতজন বিধায়কের থেকে অভিযোগ পায় পুলিশ। তিনজনের বক্তব্য রেকর্ড করা হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে টাকা এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য একাউন্টে ট্রান্সফার করা হতে পারে মনে করেই অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়। পুলিশের দায়িত্ব হিসাবেই তদন্ত শুরু করা হয়েছে।রাজনৈতিক দলের নিত্য দিনের খরচ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সেনিয়ে সন্দেহ নেই।তদন্তকারী আধিকারিককে সেই বিষয়ে দায়িত্ব দেওয়া হোক আমাদের আপত্তি নেই। (Calcutta High Court)
আইনজীবী কিশোর দত্ত- একটা হিসাব দিয়েছেন ঠিক আছে। কিন্তু কালীঘাট তৃণমূলের কেউ এসে যদি বলে একটা র্যালির জন্য ২০ লক্ষ টাকা লাগবে। পাশাপাশি বিদ্রোহী তৃণমূলের কেউ এসে যদি বলে তাদেরও ২০ লক্ষ টাকা লাগবে। তাহলে কী হবে?
বিচারপতি – একটা ব্যালেন্স করা প্রয়োজন। তদন্তকারী আধিকারিককে সে ক্ষেত্রে ব্যালেন্স করতে হবে।
সলিসিটর জেনারেল – এখানে ইলেকশন কমিশনই যথাযথ কতৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য।
বিচারপতি – সেই জন্যই প্রাক্তন কোনও বিচারপতিকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা ভাবছে আদালত। আমি হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে বিশেষ অফিসার হিসাবে নিযুক্ত করতে চাই। আপনাদের কোনও আপত্তি থাকলে জানাবেন।
অভিযোগকারী বিদ্রোহী তৃণমূলের আইনজীবী নিরাজ কিষান কল- আমরাই প্রকৃত তৃণমূল। আমাদের কথা, বক্তব্য যেন সমান ভাবে শোনা হয়।স্পেশাল অফিসার যেন এই বিষয়ে বিবেচনা করেন। (Calcutta High Court)
বিচারপতি – সবাইকে অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়।একমাত্র পার্টি সেক্রেটারি সিদ্ধান্ত নেবেন। আর আপনাদেরকে আগে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে নিজেদের প্রকৃত তৃণমূল বলে প্রমান করতে হবে।
আদালত এখন স্পেশাল অফিসারকে দায়িত্ব দিতে চায় পার্টি কর্মচারীদের বেতন সহ অন্যান্য নিত্যখরচ যাতে চালাতে পারে, সেই বিষয় বিবেচনা করতে।
অভিষেক মনু সিংভি – আদালত যে বিচারপতিকে নিয়োগ করবে তিনি নিশ্চয় পার্টির সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব সামলাবেন না। তিনি প্রতিদিনের খরচ দেখার দায়িত্বই পালন করবেন।
রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র – যে অতিরিক্ত হলফনামা দেওয়া হয়েছে সেখানে একবার দেখুন।
শুভাশিস চক্রবর্তী তিনি জানিয়েছেন, প্রায় ৫১ লক্ষ টাকা কর্মচারীদের বেতন বাবদ। এখানে কোনও নির্দিষ্ট অঙ্ক দেওয়া হয়নি।
ধরা যাক কোর্ট নির্দেশ দিল খরচ করতে। কিন্তু নির্দিষ্ট অঙ্ক না থাকলে সেই টাকা সঠিক ভাবে খরচ হচ্ছে কিনা জানা সম্ভব নয়।
বিচারপতি – এটা তৃণমূল কংগ্রেসেরই অ্যাকাউন্ট।স্পেশাল অফিসারকে এতকিছু দায়িত্ব দিলে সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে।
অভিযোগকারী বিদ্রোহী তৃণমূলের আইনজীবী নিরাজ কিষান কল- মনে রাখতে হবে দলের দুই গোষ্ঠী নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে। তা কমিশনে বিবেচনাধীন রয়েছে।
অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র: দাবি করছে কর্মীদের বেতন দেওয়া যাচ্ছে না। মাসে প্রায় ৫১ লক্ষ্য টাকা বেতন দিতে হয়। সঠিক অঙ্ক বলা হচ্ছে না।
বিচারপতি: ১৮ জুন অভিযোগ দায়ের হয়েছে।অভিযোগের ১২ ঘণ্টার মধ্যে ১৯ জুন অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত অভিযাগ সংক্রান্ত পুলিশ কোনও তথ্য দেখাতে পারেনি।
অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার: ১৮ জুন এফআইআর দায়েরের ২ দিন আগে একজন ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট থেকে ৬ কোটি টাকা ট্রান্সফার করা হয়েছে।
ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় বিচারপতির অন্তর্বর্তী নির্দেশ (Calcutta High Court)
মামলাকারীদের অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করার অধিকার আছে। আদালত হাইকোর্টের (Calcutta High Court) প্রাক্তন বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে বিশেষ অফিসার নিয়োগ করছে। তিনি তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেনের উপর নজর রাখবেন। ওই তিন অ্যাকাউন্টের দলের দুই সিগনেচার অথরিটি এবং শুভাশিস চক্রবর্তীর মধ্যে যে কোনও দু’জনকে চেকে সই করার অনুমতি দিচ্ছে আদালত। তারপর ওই চেকে কাউন্টার সই করবেন স্পেশাল অফিসার। তারপর সেই চেক ব্যাঙ্কে জমা পড়বে। প্রতিদিনের খরচের জন্য এই অ্যাকাউন্ট গুলো থেকে চেক ইস্যু করা যাবে। বড় কোনও খরচের জন্য স্পেশাল অফিসার হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের অনুমোদন নিতে হবে।
আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্দেশ বলবৎ (Calcutta High Court)
আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই তিন অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে ব্যবহার করা যাবে। এবং ততদিন পর্যন্ত স্পেশাল অফিসার হিসেবে নিযুক্ত থাকবেন প্রাক্তন বিচারপতি সুব্রত তালুকদার। তবে তদন্ত যেমন চলছে, তেমন চলবে। পরবর্তী শুনানিতে তদন্তকারী সংস্থাকে তদন্তের অগ্ৰগতি রিপোর্ট জমা দিতে হবে আদালতে। আদালত (Calcutta High Court) তদন্তে কোনরকম হস্তক্ষেপ করবে না। কোন পক্ষকে দলের প্রতীকের মালিকানা দেওয়া হবে বা কারা আসল তৃণমূল, তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন। ২১ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি।


