Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: হালকা বাতাসের দোলা আর গ্রামের মেঠোপথ পেরিয়ে আসা এক অদ্ভুত দীর্ঘশ্বাস আজ যেন ভারী করে তুলেছে অন্ধ্রপ্রদেশের সেই ছোট্ট গ্রামটিকে। ১৬ বছর আগে যে পোডিয়ামে দাঁড়িয়েছিলেন বাবা, ঠিক সেই ইতিহাসের মঞ্চেই আলো ছড়ালো ছেলে। কিন্তু ইতিহাস গড়ার এ গল্পে মিলল না রূপকথার নিখুঁত সমাপ্তি। মাত্র এক কেজি হ্যাঁ, ওই এক কেজির হিসেবেই থমকে গেল সব। (Commonwealth Games) সোনার ঠিক দরজায় এসেও বুকভাঙা আক্ষেপে পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে চোখের জল মুছতে হলো ভাল্লুরি অজয়কে।
ভাল্লুরি শ্রীনিবাসের ব্রোঞ্জ জয় (Commonwealth Games)
বাবা ভাল্লুরি শ্রীনিবাস ২০১০ সালের দিল্লি কমনওয়েলথ গেমসে (Commonwealth Games) ব্রোঞ্জ জিতে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছিলেন। কিন্তু কালের নিয়মে আজ তিনি মাটি আঁকড়ে ফুল চাষ করেন। বাবার সেই ঘাম ঝরানো হাত ধরেই অজয়ের ভারোত্তোলকের জীবন শুরু হয়েছিল।
অজয়ের রুপো জয় (Commonwealth Games)
সোমবার পুরুষদের ৭৯ কেজি বিভাগে ২১ বছর বয়সি অজয় যখন বারের সামনে দাঁড়ালেন, তখন তাঁর চোখের পলকে ভেসে উঠছিল ১৬ বছর আগের বাবার সেই মুখ। স্ন্যাচ পর্বে ১৪৯ কেজি ওজন তুলে নতুন কমনওয়েলথ রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। গ্যালারিতে তখন উল্লাসের জোয়ার, সোনা যেন আর হাতছোঁয়া দূরত্ব ছাড়া কিছু নয়।

এক কেজির দূরত্ব (Commonwealth Games)
কিন্তু ওই এক কেজির রহস্যময় ব্যবধানই সব ওলটপালট করে দিল। ক্লিন অ্যান্ড জার্কে মালয়েশিয়ার এরি হিদায়াত মহম্মদ ১৮৪ কেজি ওজন তুলে ছিনিয়ে নিলেন সোনা। অজয়ের ঝুলিতে এল রুপো। বাবার ব্রোঞ্জকে ছাপিয়ে ছেলে পদক রঙের দিক থেকে এক ধাপ ওপরে উঠলেন।
আরও পড়ুন: CAB Price Money: সিএবি-তে পুরস্কার অর্থ বণ্টন নিয়ে জটিলতা, বঞ্চিত মাঠকর্মীরা!
আজ গ্রামজুড়ে উৎসবের আবহ থাকার কথা থাকলেও, বাতাসে যেন এক অদ্ভুত শূন্যতা আর বিষাদের সুর। পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে অজয়ের সেই ম্লান হাসি আজও প্রশ্ন তোলে সোনা আর রুপোর মাঝখানের ওই এক কেজি দূরত্ব কি কেবলই ওজনের মাপকাঠি, নাকি ভাগ্যের এক নিষ্ঠুর পরিহাস?



