Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ত্রিপুরা খোয়াই থানার পুলিশ আধিকারিকদের কাজে বাধা, থানায় ঢুকে দুর্ব্যবহার এবং ভাঙচুর চেষ্টার মামলায় ফের আইনি জড়াবর্তে পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল নেতৃত্ব (Trinamool Congress)। গত ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে খোয়াই আদালত থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ এবং দোলা সেন সহ একাধিক নেতার বিরুদ্ধে নতুন করে সমন জারি করা হয়েছে।

গ্রেফতার করে খোয়াই থানার পুলিশ (Trinamool Congress)
খোয়াই জেলার সরকারি আইনজীবী অভিজিৎ ভট্টাচার্য এই তথ্য সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেছেন। বিগত ২০২১ সালে রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল ত্রিপুরার খোয়াই জেলা। তৎকালীন সময়ে একটি নির্দিষ্ট (স্পেসিফিক) মামলায় তৃণমূল কংগ্রেসের ১৪ জন সমর্থককে গ্রেফতার করে খোয়াই থানার পুলিশ।
থানা ভাঙচুরের চেষ্টা করা হয় (Trinamool Congress)
দলীয় কর্মীদের গ্রেফতারির খবর পেয়ে তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু, সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেন এবং তৎকালীন মুখপাত্র কুণাল ঘোষ সহ একঝাঁক তৃণমূল নেতা-সমর্থক খোয়াই থানায় উপস্থিত হন। সরকারি আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, থানায় এসে উপস্থিত তৃণমূল নেতৃত্ব কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে অত্যন্ত অবমাননাকর ও অভব্য আচরণ করেন। শুধু তাই নয়, তাঁরা থানা ভাঙচুরের চেষ্টাও চালান বলে অভিযোগ ওঠে।
অবনতি ঘটানোর অপরাধ (Trinamool Congress)
সরকারি কাজে বাধা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর অপরাধে খোয়াই থানার পুলিশ আধিকারিক স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ওই হেভিওয়েট তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে একটি নির্দিষ্ট মামলা রুজু করেন। পরবর্তীতে মামলার সমস্ত নথি খোয়াইয়ের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (CJM) আদালতে পাঠানো হয়। তৎকালীন খোয়াই জেলার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ধর্মেন্দ্র দাস পুলিশের পেশ করা মামলাটি গ্রহণ করেন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন।

মামলার নম্বর নথিভুক্ত হয় (Trinamool Congress)
আদালত সূত্রে এই মামলার নম্বর নথিভুক্ত হয় PRCSP162022 হিসেবে। আদালতের এই সমনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু ত্রিপুরার উচ্চ আদালত (আগরতলা হাইকোর্ট)-এর দ্বারস্থ হন এবং একটি রিভিশন পিটিশন দাখিল করেন। মামলার শুনানির পর মহামান্য উচ্চ আদালত ব্রাত্য বসুকে এই নির্দিষ্ট মোকাদ্দমা থেকে অব্যাহতি (Discharge) দেয়। উচ্চ আদালতের রায়ে ব্রাত্য বসু স্বস্তি পেলেও, মামলার অন্যান্য অভিযুক্তদের অস্বস্তি বহাল রয়েছে।
আইনজীবী অভিজিৎ ভট্টাচার্য জানিয়েছেন
ব্রাত্য বসু মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ, দোলা সেন সহ বাকি তৃণমূল নেতা-সমর্থকদের বিরুদ্ধে মামলাটি এখনও সক্রিয় রয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই গত ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে খোয়াই আদালত থেকে পুনরায় তাঁদের বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়েছে। ফলে এই মামলায় আইনি প্রক্রিয়া মোকাবিলা করতে পশ্চিমবঙ্গের এই শীর্ষ নেতাদের আবারও ত্রিপুরা খোয়াই জেলা ও দায়রা আদালতের মুখোমুখি হতে হবে।



