Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আসামের চিরাং জেলার ভারত-ভুটান সীমান্ত সংলগ্ন রুনিখাতা বন রেঞ্জ অফিসকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সহিংসতা ও উত্তেজনার ঘটনা সামনে এসেছে (Assam Unrest)। শুক্রবার সকাল থেকেই গোটা এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ক্ষুব্ধ জনতার বিক্ষোভে একাধিক সরকারি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, পাশাপাশি বন দফতরের অফিস ভবনের একাংশ ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

রাতের আঁধারে উত্তেজনার সূচনা (Assam Unrest)
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই অশান্তির সূত্রপাত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে। সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং জমি জবরদখলের অভিযোগে আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রায় ২৫ জনকে আটক করে বন দফতর। তাঁদের রুনিখাতা বন রেঞ্জ অফিসে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। এই ঘটনার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ক্ষোভের সঞ্চার হয়। রাত থেকেই স্থানীয় বাসিন্দারা বন অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।
নির্যাতনের অভিযোগে ক্ষোভে আগুন (Assam Unrest)
তাঁদের দাবি, আটক ব্যক্তিদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। ধীরে ধীরে বিক্ষোভের মাত্রা বাড়তে থাকে এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন অভিযোগ ওঠে, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন স্থানীয় মহিলার ওপর বনরক্ষীরা শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছে এবং তাঁদের হেনস্তা করা হয়েছে। এই অভিযোগ ছড়িয়ে পড়তেই জনরোষ চরমে ওঠে এবং রাতভর উত্তেজনা বিরাজ করে এলাকায়।

বিক্ষোভ থেকে সহিংসতায় রূপান্তর (Assam Unrest)
শুক্রবার সকালে সেই ক্ষোভ বিস্ফোরিত রূপ নেয়। বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারী রুনিখাতা পুলিশ স্টেশনের সামনে জড়ো হয়ে তীব্র বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে উত্তেজিত জনতা বন বিভাগের একাধিক গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। শুধু তাই নয়, বন অফিসের ভবনের ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
প্রশাসনের পাল্টা পদক্ষেপ (Assam Unrest)
চাঞ্চল্যকরভাবে, কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে বনরক্ষীদের কাছ থেকে অস্ত্রশস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি পুলিশ ও বনকর্মীদের লক্ষ্য করে ব্যাপক হারে পাথর নিক্ষেপ করা হয়। এতে কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মী আহত হয়েছেন বলেও প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, যদিও সরকারি ভাবে তা এখনও নিশ্চিত করা হয়নি।
আতঙ্কে সাধারণ মানুষ (Assam Unrest)
পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হতে থাকায় পুলিশ প্রথমে লাঠিচার্জ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় পরবর্তীতে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়। এরপর ধীরে ধীরে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে পরিস্থিতি, তবে উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গোটা এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী।
থমথমে সীমান্ত এলাকা
গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং প্রশাসন পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে। তবে সর্বশেষ প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, রুনিখাতা ও সংলগ্ন এলাকায় এখনও উত্তেজনা বজায় রয়েছে। পরিস্থিতি থমথমে এবং অস্থির। প্রশাসনের আশঙ্কা, যে কোনও মুহূর্তে ফের নতুন করে বিক্ষোভ বা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্তবর্তী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও অনেকাংশে ব্যাহত হয়েছে।



