Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সঞ্জীব মল্লিক,বিষ্ণুপুর: খুনের মামলায় মনগড়া (Bishnupur Murder Case) চার্জশিট পেশ, তদন্তকারী অফিসারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ বিচারকের। তৎকালীন বিষ্ণুপুর থানার আইসিকে শোকজের নির্দেশ পুলিশ সুপারকে। বিচারের আশায় আজও চোখের জল ফেলছে ১০০ বছর বয়সী মা ও তার পরিবার ।
জানা গেছে, ২০১৬ সালে এপ্রিল মাসে বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুরে গ্রামের সালিশি সভায় প্রতিবেশীদের সঙ্গে ঝামেলার জেরে শাবলের আঘাতে বিষ্ণুপুরের আন্দালার বাসিন্দা উত্তম দে নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় পরিবারের আরও তিনজন গুরুতর জখম হন। এই ঘটনায় মৃতের ভাই সুনীল দে প্রতিবেশী দেবদাস দে, দুর্গাদাস দে, প্রবীর দে ও প্রদীপ দে’র বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে।
চার্জশিটে মিল নেই (Bishnupur Murder Case)
ওই মামলার তদন্তকারী অফিসার ছিলেন তৎকালীন (Bishnupur Murder Case) সময় বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ অফিসার শ্যামাপদ মাসান্ত। ওই মামলা বর্তমানে বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতে চলছে। পুলিশ চার্জশিটও পেশ করেছে। চলছে সাক্ষ্যগ্রহণ। এরই মাঝে অভিযুক্ত চারজনাকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও পরবর্তীতে হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়ে যায় তারা। কিন্তু বিষ্ণুপুর আদালতের বিচারক পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে দেখেন মূল অভিযোগের সঙ্গে ঘটনার তদন্তকারী অফিসারের দেওয়া তথ্যের কোনও মিল নেই।
অভিযোগের বয়ানের সঙ্গে পুলিশের দেওয়া রিপোর্টের বিস্তর ফারাক (Bishnupur Murder Case)
অভিযোগের বয়ান বদলে মনগড়া গল্প বলা হয়েছে (Bishnupur Murder Case)। এমনকি, যে চিকিৎসক ওই ঘটনায় অন্যান্য আহতদের চিকিৎসা করেছেন তাঁর পরিবর্তে সাক্ষী হিসাবে বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালের অন্য এক চিকিৎসকের নাম চার্জশিটে। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মামলার ক্ষেত্রে তদন্তের শুরুতেই অভিযোগের বয়ানের সঙ্গে পুলিশের দেওয়া রিপোর্টের বিস্তর ফারাক বিচারকের নজরে এসেছে।
তদন্তকারী অফিসারের চরম গাফিলতি!
শুধু তাই নয়, যে পুলিশ অফিসারের তত্ত্বাবধানে ময়নাতদন্ত হয় তাঁকে সাক্ষী করা হয়নি। এমনকি, আহতদের ইনজুরি রিপোর্টও সংগ্রহ করা হয়নি। সব মিলিয়ে খুনের ঘটনার মতো একটি মামলায় যেখানে চারজন অভিযুক্ত রয়েছে, সেখানে তদন্তকারী অফিসারের এমন গাফিলতি বিচারকের কাছে অসঙ্গতিপূর্ণ মনে হয়েছে। তাই এক্ষেত্রে বিচারক দু’জনের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থার নির্দেশ দিয়েছেন। মোট ১০ পাতার একটি অর্ডার দিয়েছেন বিচারক। তাতে ওই মামলায় পুলিশের গাফিলতির পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ দেওয়া হয়েছে। যে কারণেই বিষ্ণুপুর আদালতের পর্যবেক্ষণে তদন্তকারী অফিসারের বিরুদ্ধে চরম গাফিলতি নজরে এসেছে বিচারকের।
আইসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ
তাই বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতের অতিরিক্ত দায়রা বিচারক প্রদীপ অধিকারী খুনের মামলায় মনগড়া চার্জশিট পেশের জন্য বিষ্ণুপুর থানার তৎকালীন তদন্তকারি অফিসার সহ থানার আইসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বাঁকুড়ার পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিলেন বিচারক। তৎকালীন সময়ে বিষ্ণুপুর থানার আইসি ছিলেন স্বপন দত্ত পরবর্তীতে তিনি প্রমোশন হয়ে ডিএসপি হন বর্তমানে তিনি অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মী। পাশাপাশি এই কেসের তদন্তকারী অফিসার শ্যামাপদ মাশান্ত বিষ্ণুপুর থানার সাব-ইন্সপেক্টর ছিলেন বর্তমানে তিনি অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মী।
আরও পড়ুন: Neora River Erosion: নেওরা নদীর তাণ্ডব! যেকোনও সময় তলিয়ে যেতে পারে বাড়িঘর
অন্যদিকে বিচারের আশায় মৃত ছেলের ছবি হাতে নিয়ে চোখে জল ফেলছে মৃত ব্যক্তির ১০০ বছরের মা এবং তার পরিবার। পরিবারের দাবি অভিযুক্তদের ফাঁসি হোক। পরিবারের আরও দাবি তদন্তে গাফিলতি করেছে পুলিশ তাই অভিযোগকারী পুলিশের বিরুদ্ধেই থানায় অভিযোগ করতে গেলে তাকে হেনস্থার শিকার হতে হয়। পুলিশ তদন্তে গাফিলতি না করলে এতদিন হয়তো তারা সুবিচার পেতো। তবে তারা আদালতের প্রতি আশাবাদী অভিযুক্তরা সাজা পাবে।


