Last Updated on [modified_date_only] by Suparna Ghosh
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: স্কুলে ছাত্র সংখ্যা প্রায় আড়াইশো। অথচ সেখানে বেশ কিছুদিন ধরে রেজিস্টারে ২০৯ জন করে পড়ুয়া মিড ডে মিল(Mid-Day Meal) খাচ্ছে বলে দেখানো হচ্ছিল। পরীক্ষা চলায় স্কুলে উপস্থিতি বেশ কম, অথচ খাতায় ছিল উল্টো ছবি! দুর্নীতির খবর পেয়ে সটান স্কুলে পৌঁছে যান চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগ। খাতা খতিয়ে দেখে প্রশ্ন তুলতেই অদ্ভুত সাফাই দেন প্রধান শিক্ষিকা সীমা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, মিড ডে মিলে বরাদ্দ টাকায় মাংস হয় না, তাই বাচ্চাদের মাংস-ভাত খাওয়াতেই নাকি উপস্থিতির সংখ্যা বাড়িয়ে লেখা হয়েছে!
কী ঘটেছিল স্কুলে?(Mid-Day Meal)
শুক্রবার ব্যান্ডেল বিদ্যামন্দির নিম্ন বুনিয়াদি বিদ্যালয়ে আচমকাই পরিদর্শনে যান চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগ। বিদ্যালয়ে মোট ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা প্রায় আড়াইশো। মিড ডে মিলের রেজিস্টার খাতা খতিয়ে দেখে বিধায়ক দেখতে পান, পরীক্ষার দিনগুলিতেও উপস্থিত পড়ুয়াদের সংখ্যা কম থাকা সত্ত্বেও খাতায় নিয়মিত ২০৯ জন করে মিড ডে মিল খাচ্ছে বলে দেখানো হচ্ছে।

হাসপাতালে বা রান্নাঘরে মিড ডে মিলের(Mid-Day Meal) পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গিয়ে আরও অসঙ্গতি ধরা পড়ে। তবে হেঁশেলে ঢুকে দেখা গেল উল্টো ছবি, মেনুতে মাংস তো দূর, ডিমের ঝোলের বদলে বাচ্চাদের দেওয়া হচ্ছে মুড়ি আর আলুর চচ্চড়ি!

প্রধান শিক্ষিকার সাফাই(Mid-Day Meal)
হিসাবে গড়মিল নিয়ে প্রধান শিক্ষিকা সীমা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি অদ্ভুত এক যুক্তি দেন। তাঁর দাবি, মিড ডে মিলের(Mid-Day Meal) সরকারি বরাদ্দে মাংস হয় না। তাই পড়ুয়াদের মাংস ভাত খাওয়াতে বাধ্য হয়েই খাতায় ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বাড়িয়ে দেখানো হয়। যদিও বিদ্যালয়ের রান্নাঘরে মাংসের বদলে মুড়ি রান্না হতে দেখে সেই দাবি ঘিরে তৈরি হয় ধোঁয়াশা।
আরও পড়ুন: Adhir Ranjan Chowdhury: চন্দ্রনাথ খুনে বিজেপির দুই ভাইয়ের নাম! অধীরের প্রশ্ন ‘রহস্যটা কোথায়?’
প্রধান শিক্ষিকার সাফাইয়ে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা
অন্যদিকে প্রধান শিক্ষিকার এই ‘মাংস খাওয়ানো’র দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, আজ পর্যন্ত স্কুলে কোনোদিন বাচ্চাদের মাংস খাওয়ানো হয়নি। পাশাপাশি, রেলের জায়গায় অবস্থিত এই প্রাথমিকে জল জমে থাকার কারণে রান্না করতেও চরম সমস্যায় পড়তে হয় কর্মীদের। তবে কোন উদ্দেশ্যে প্রতিদিন রেজিস্টারে ভুয়ো উপস্থিতি দেখানো হচ্ছিল, তার স্পষ্ট উত্তর মেলেনি প্রধান শিক্ষিকার কাছ থেকে।
আরও পড়ুন: Blood Bank: বাইরে রক্তদান শিবির বন্ধের নির্দেশ! হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কের
ক্ষোভ প্রকাশ করে সতর্কবার্তা বিধায়কের
ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে সতর্কবার্তা বিধায়কের। স্কুলের মিড ডে মিলের রান্নাঘর পরিদর্শন করে বিধায়কের অভিযোগ, সেদিন পড়ুয়াদের জন্য মেনু অনুযায়ী ডিম বা মাংসের পরিবর্তে তৈরি হচ্ছিল মুড়ি ও আলুর চচ্চড়ি। অথচ সরকারি মেনুতে ওই দিনের খাবার ছিল ডিমের ঝোল অথবা মাংস। মেনু ও বাস্তবের মধ্যে এই ফারাক নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। সুবীর নাগ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘বরাদ্দের অর্থ পর্যাপ্ত না হলে সরকারকে জানানো উচিত। কিন্তু ছাত্রসংখ্যা বাড়িয়ে দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ তোলার চেষ্টা করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তাঁর অভিযোগ, অতিরিক্ত অর্থ স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়নেও ব্যবহার করা হচ্ছে না।’


