Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোয় (ডিআরসি) ছড়িয়ে পড়া ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে(Congo Ebola)। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক তেদ্রোস আধাবোম গেব্রেয়েসাস সতর্ক করে বলেছেন, ভাইরাসের বর্তমান বিস্তার অব্যাহত থাকলে এটি পূর্বের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে ফেলতে পারে।
সংক্রমণের চিত্র ও ভয়াবহতা (Congo Ebola)
আক্রান্ত ও মৃত্যু: গত মে মাসে প্রাদুর্ভাবের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত ৪,৩০০ জনেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রাণ হারিয়েছেন ২,০০০-এর বেশি মানুষ।
বিগত রেকর্ড ছোঁয়ার আশঙ্কা: ২০১৪-২০১৬ সালের ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাবে প্রায় ১১,০০০ মানুষ মারা গিয়েছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতি যেভাবে এগোচ্ছে, তা ওই প্রাদুর্ভাবকেও ছাপিয়ে যেতে পারে।
দেরিতে শনাক্তকরণ: গবেষকদের মতে, প্রাদুর্ভাবটি ফেব্রুয়ারি মাসেই শুরু হয়েছিল। তবে শুরুতে সাধারণ ম্যালেরিয়া বা টাইফয়েড মনে করায় সময়মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।
নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসার চ্যালেঞ্জ
প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যকর্মীরা নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হচ্ছেন:
“আমরা ভাইরাসের পেছনে ছুটছি, কিন্তু ভাইরাস আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছে।”
ডা. মহম্মদ জেনাবি, ডব্লিউএইচও আফ্রিকা পরিচালক
বিরল প্রজাতির রূপ: এই প্রাদুর্ভাবটি ইবোলার বিরল ‘বুন্দিবুগিও’ (Bundibugyo) প্রজাতি দ্বারা সৃষ্ট। এর আগে কেবল ২০০৭ ও ২০১২ সালে এই প্রজাতির সংক্রমণ দেখা গিয়েছিল।
টিকা ও ওষুধের অভাব: এই নির্দিষ্ট রূপটির জন্য এখন পর্যন্ত কোনো অনুমোদিত টিকা বা কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি নেই।
সংঘাত ও অস্থিরতা: কঙ্গোর উপদ্রুত অঞ্চলে চলমান রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার কারণে স্বাস্থ্যকর্মীরা মাত্র ৩০ শতাংশ আক্রান্ত মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারছেন(Congo Ebola)।
আরও পড়ুন: Pak Attack Balochistan: পাকিস্তানের বিমান হামলায় উত্তপ্ত বেলুচিস্তান: নিহত ২১ বেসামরিক নাগরিক
কী এই ইবোলা এবং এর লক্ষণ? (Congo Ebola)
ইবোলা একটি মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ। সংক্রমিত হওয়ার ২ থেকে ২১ দিনের মধ্যে লক্ষণ দেখা দেয়।
প্রাথমিকভাবে হঠাৎ জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা ও চরম ক্লান্তি দিয়ে রোগটি শুরু হয় যা ম্যালেরিয়া বা ফ্লু-এর মতো মনে হতে পারে। তবে সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হয় এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে অঙ্গপ্রসংগ বিকল (Organ Failure) হয়ে রোগীর মৃত্যু হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, সংক্রমণ পুরোপুরি দূর করা সম্ভব না হলেও তিন মাসের মধ্যে তা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।



