Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তাসলিমা নাসরিনকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের নতুন করে বিতর্কের আবহ তৈরি হয়েছে (Dilip Ghosh)। তাঁর ভারতে, বিশেষত পশ্চিমবঙ্গে ফিরে আসার সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, তাসলিমা নাসরিনকে নিয়ে রাজনৈতিক বিদ্বেষ নয়, মানবিক এবং সাংবিধানিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই বিষয়টি দেখা উচিত।

‘বিজেপি আনছে না, ভারত একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ’
দিলীপ ঘোষের বক্তব্য অনুযায়ী, তাসলিমা নাসরিনকে পশ্চিমবঙ্গে আসার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে—এমন দাবি করে কেউ যদি বিজেপির বিরুদ্ধে কটাক্ষ করেন, তবে তা বাস্তবসম্মত নয়। তাঁর কথায়, “তাসলিমা নাসরিনকে বিজেপি আনছে না। ভারত একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। যদি দেশের আইন অনুযায়ী তাঁর এখানে থাকার অধিকার থাকে, তাহলে তিনি আসতেই পারেন।” তিনি আরও বলেন, কোনও রাজনৈতিক দল নয়, দেশের আইন এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়াই নির্ধারণ করবে একজন ব্যক্তি ভারতে থাকতে পারবেন কি না।
‘যেভাবে তাঁকে অপমান করে তাড়ানো হয়েছিল, সেটা বাংলার জন্য লজ্জার’ (Dilip Ghosh)
দিলীপ ঘোষ অতীতের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, পশ্চিমবঙ্গে এমন এক সময় ছিল যখন তাসলিমা নাসরিনকে কার্যত রাজ্য ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, সেই সময় রাজ্যে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যেখানে সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন, দুপুরবেলায় স্কুল ছুটির সময় রাস্তায় উত্তেজনা, আগুন লাগানো, বোমাবাজি এবং বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছিল। অভিভাবকরা আতঙ্কে সন্তানদের নিয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, সেই সময়কার সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন হয়। দিলীপ ঘোষের মতে, “যেভাবে একজন লেখিকাকে অপমান করে বাংলার বাইরে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল, সেটা আমাদের সকলের জন্য লজ্জার বিষয়।”
‘তিনি কি বাঙালি নন?’ (Dilip Ghosh)
তাসলিমা নাসরিনের ভাষা ও সংস্কৃতিগত পরিচয়ের প্রসঙ্গও তোলেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “তিনি বাংলা ভাষার লেখক। তিনি কি বাঙালি নন? যদি আইনি কোনও বাধা না থাকে, তাহলে তিনি পশ্চিমবঙ্গে আসতেই পারেন।” তাঁর মতে, একজন লেখকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সম্মান জানানো উচিত এবং রাজনৈতিক বা মৌলবাদী চাপের কারণে কাউকে নির্বাসিত হতে বাধ্য করা উচিত নয়।

বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কড়া সমালোচনা
দিলীপ ঘোষ তাঁর বক্তব্যে দাবি করেন, একসময় পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবেশে মৌলবাদী শক্তির প্রভাব বেড়ে গিয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, বামফ্রন্ট সরকার এবং পরবর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকার দু’পক্ষই ভোটের রাজনীতিতে মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলিকে প্রশ্রয় দিয়েছিল। তিনি বলেন, “বাংলাটা পুরো উগ্রপন্থীদের হাতে চলে গিয়েছিল। সিপিএম হোক বা তৃণমূল দু’জনেই মৌলবাদীদের সামনে নতি স্বীকার করেছে।” তাঁর দাবি, এর ফলেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তাসলিমা নাসরিনের মতো লেখকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
বাংলাদেশের পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা (Dilip Ghosh)
দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে যে ধরনের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে, অতীতে পশ্চিমবঙ্গেও কিছু ক্ষেত্রে তেমনই অস্থির পরিবেশ তৈরি হয়েছিল বলে তাঁর দাবি। তাঁর মতে, গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা যে কোনও সরকারের অন্যতম দায়িত্ব।
আরও পড়ুন: Amit Shah: আমুলের মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর অমিত শাহের হাতে!
‘আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়’
দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট করে বলেন, সরকার যে দলেরই হোক না কেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত। তিনি বলেন, “সরকার যারই থাকুক, আইনি ব্যবস্থা অবশ্যই থাকবে। আইন অনুযায়ী যদি কোনও বাধা না থাকে, তাহলে কাউকে আটকানোর প্রশ্নই ওঠে না।” তাঁর মতে, কোনও ব্যক্তিকে রাজনৈতিক বা মতাদর্শগত কারণে বাধা দেওয়া গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।



