Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: অভ্রদীপ দাস: পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর (Election Commission) পর্ব মিটেছে। তাই এসআইআর পরবর্তী সময়ে নতুন ভোটারদের নাম তুলতে বা ফর্ম ৬ পুরণ করতে নির্দিষ্ট ডিক্লারেশন বা ঘোষণাপত্র পুরণ করা বাধ্যতামূলক নয়। এক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন অফ ইলেকটরস রুলস ১৯৬০ অনুযায়ী সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে।
কী জানিয়েছে কমিশন? (Election Commission)
গতকাল রাতে দেশের সমস্ত সিইও দের চিঠি পাঠিয়ে এই সিদ্ধান্তের (Election Commission) কথা জানিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। অর্থাৎ নতুন ভোটারদের নাম তোলার ক্ষেত্রে ফর্ম ৬ পূরণের বিষয়টি সরলীকরণ করা হলেও অ্যাডজুডিকেশনে নাম বাদ যাওয়া ভোটাররা এই সুযোগ পাবেন কিনা তা স্পষ্ট করেনি কমিশন। একইসঙ্গে কমিশন জানিয়েছে SIR শেষ হওয়া রাজ্যগুলিতে বাদ পড়া ভোটার এবং প্রথমবার ভোটদানে যোগ্য ভোটারদের নাম ভোটার তালিকায় তোলার জন্য ধারাবাহিক আপডেশন প্রক্রিয়ায় বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে সিইও ডিইও এবং ইআরও দের।
আরও পড়ুন: LPG Price Hike: পুজোর মুখে বড় ধাক্কা! ফের দাম বাড়ল গ্যাসের
উল্লেখযোগ্য পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর চলাকালীন ভোটার (Election Commission) তালিকায় নাম তোলার জন্য ফর্ম ৬ এর সঙ্গে যে ঘোষণাপত্র বাধ্যতামূলকভাবে পূরণ করার অনলাইন প্রক্রিয়া একতরফাভাবে চালু করেছিল নির্বাচন কমিশন তা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক তৈরি হয়। কোন আইনবলে ফর্ম ৬ পূরণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রোফর্মা বদল আনা হয়েছে নির্বাচন কমিশন তা কখনোই স্পষ্ট করেনি কমিশন। ভোটার তালিকা স্পেশাল ইনটেন্সিভ রিভিশনের ক্ষেত্রে কমিশনকে বাড়তি কিছু আইনি সুবিধা দেওয়া হয়। সেই সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে এসআইআর চলাকালীন ফর্ম ৬ এর নির্দিষ্ট প্রোফর্মায় বদল আনা হয়েছে বলে কমিশনের কর্তারা জানিয়েছিলেন। যদিও ফর্ম ৬ ২০০৩ সালের নাগরিকত্ব আইন ( সংশোধনী) অনুযায়ী তৈরি হয়েছে। সেক্ষেত্রে নাগরিকত্বের যাচাইকরণের কাজ নির্বাচন কমিশনের একটি আর বহির্ভূত বলে প্রশ্নও ওঠে। নতুনভাবে নাম তোলার ক্ষেত্রে এই পরিবর্তনের ফলে লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম তোলার আবেদন খারিজ হয়েছে গত বিধানসভা নির্বাচনে। বর্তমানে যখন নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক ও রাজনৈতিক বিরোধিতা চলছে ঠিক সেই সময়। এসআইআর পরবর্তী সময়ে সঞ্চয় পুরানের ক্ষেত্রে “যথা পূর্বং তথা পরং” অবস্থায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও জলঘোলা হয়েছে। তাহলে কি কেন্দ্র বিরোধী রাজনৈতিক চাপ বিশেষ করে জেন জি আন্দোলনের চাপে পিছু হটতে বাধ্য হল নির্বাচন কমিশন ? কমিশনের এই নয়া সিদ্ধান্তে অনেক কিছুই সিদ্ধান্তের সরলীকরণ বলে মনে করলেও চাপের কাছে নতি স্বীকারের বিষয়টি উড়িয়ে দিচ্ছেন না পদস্থ আধিকারিকরাই।
চরম হয়রানি শিকার (Election Commission)
সিইও দের পাঠানো চিঠিতে ফের উল্লেখ করা হয়েছে এসআইআর চলাকালীন কোনও ভোটারকে আনম্যাপড বা লজিক্যাল ডিস্ক্রিপ্যান্সির কারণে নোটিস দেওয়ার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে ইআরও অথবা এইআরও দের এক্তিয়ারভুক্ত। নোটিশ পৌঁছে দেওয়া বা নথি সংগ্রহের কাজ করবেন বিএলও রা। শুধুমাত্র ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রেই আবেদনকারীকে দপ্তরে ডাকতে পারবেন ইআরও। অন্যথায় শুনানি প্রক্রিয়া হবে অনলাইনে। পশ্চিমবঙ্গে কত বিধানসভা নির্বাচনে এসআইআর পর্বে এই শুনানি নিয়ে সাধারণ মানুষ থেকে ভোটারদের চরম হয়রানি শিকার হতে হয়েছিল। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিতর্কে এই হয়রানিকে অন্যতম ইসু হিসেবে তুলে ধরে কমিশনের উপর চাপ সৃষ্টি করেছেন কেন্দ্র বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। তাই একাধিকবার এসআইআর পর্বের শুনানি নিয়ে কমিশনের যে অবস্থা তাতেও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। সামগ্রিক বিষয়ে নানা অস্পষ্টতা জিইয়ে রেখে কমিশনের ভিতরে ও বাইরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাতে আখেরি নির্বাচন কমিশনের মত সংবিধানিক সংস্থার নাম ক্ষুন্ন হচ্ছে বলেই মনে করছেন পদস্থ আধিকারিকরাও।


