Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: গুজরাটের বিরুদ্ধে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে গ্রিন ছাড়া বাকি ব্যাটাররা পুরোপুরি ব্যর্থ (GT vs KKR)।
সবাই জিতেলেও কলকাতা আছে কলকাতাতেই (GT vs KKR)
কোনও লেখককে যদি তাঁর লেখার পটভূমির পুনরাবৃত্তি নিয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনিও হয়ত জবাব দেবেন যে পটভূমি এক হলেও সেখানে তাকে অস্বীকার করা যায় কারণ প্রত্যেক গল্পে চরিত্র আলাদা, তাঁদের স্বভাব আলাদা এমনকি তাদের ক্রাইসিসও আলাদা। ঠিক যে অব্যর্থ জবাবটা দিয়েছিলেন মতি নন্দী এই প্রশ্নের উত্তরে। কিন্তু কলকাতার ম্যাচ থাকলে এই কথাটা আংশিক সত্যি। কারণ টুর্নামেন্টে এক, বিপক্ষ আলাদা, ময়দানও কিন্তু দলের ক্রাইসিস এক (GT vs KKR)।
পাঁচ ম্যাচের মধ্যে চার ম্যাচে হার। একটি ম্যাচ বৃষ্টির কারণে ভেস্তে যাওয়ায় এক পয়েন্ট জোটে কলকাতার ভাগ্যে। একাধিক ব্যর্থতায় জর্জরিত কেকেআর। ব্যাটিং বোলিং দুই বিভাগই ভেঙে পড়েছে আবার এর পাশাপাশি প্রশ্নের মুখে রাহানের অধিনায়কত্ব। খেতাব জয়ের অলীক কল্পনায় না ভেসে সমর্থকরা এখন তাকিয়ে অন্তত হারের খরা কাটিয়ে জয়ে ফেরা। সেই আবহেই গুজরাটের মুখোমুখি নাইট শিবির (GT vs KKR)।
টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন রাহানে। তবে ব্যাট করতে নেমেই ব্যাটিং বিপর্যয়। রাহানে এই ম্যাচেও ব্যর্থ হলেন। ম্যাচের আগে তিনি খেলা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হলেও ব্যাটে তার প্রতিফলন হল না। তবে আজ ব্যাটিং বিপর্যয় সামলে কেকেআর-কে লজ্জার হাত থেকে বাঁচান অজি তারকা গ্রিন। আহমেদাবাদ আজ সাক্ষী থাকল গ্রিনের ফর্মে ফেরার। অবশেষে বলা যায় ২৫ কোটির কিছুটা মান রাখলেন কলকাতাকে ১৮০ রানে পৌঁছে দিয়ে।
পাওয়ার প্লে আর শেষ পাঁচ ওভার গুজরাটের হলেও বাকিটা থাকল গ্রিনের। রেয়াত করেননি রশিদ খানকেও। ৩২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে নিজেদের ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে দিয়েছেন যখন রাহানে, অঙ্গকৃষ, রিঙ্কু সিংরা তখন শিবরাত্রির সলতে হয়ে জ্বলতে থাকেন গ্রিন। এদিন ভাগ্য দেবতাও অস্ট্রেলিয়ান তারকার সঙ্গ দেয়। ব্যক্তিগত ৬২ রানে তাঁর ক্যাচ ফেলেন ওয়াশিংটন সুন্দর। দু’বার স্ট্যাম্পিং মিস করেন জস বাটলার। শেষপর্যন্ত ৫৫ বলে ৭৯ রান করে ইনিংসের শেষ বলে আউট হন গ্রিন।
কিন্তু প্রশ্ন অন্য জায়গায়, মাঝের ওভারে গ্রিন যেভাবে ব্যাট করতে থাকেন তাতে ২০০ প্লাস রান ওঠার কথা কিন্তু মাঝে বাকি ব্যাটারদের পরিকল্পনাহীন ব্যাটিং ডুবিয়ে দেয় রানের গতি। ১৫ থেকে ১৯ ওভারের মধ্যে মাত্র ৪ বল খেলেন গ্রিন। উইকেটের অন্য প্রান্তে দাঁড়িয়ে দেখেন একের পর এক উইকেট হারানো। ১৯তম ওভারের প্রথম বলে রান নেওয়ার প্রয়োজন ছিল না গ্রিনের। কিন্তু পরিকল্পনার অভাব। শেষ পাঁচ ওভারে মাত্র ৩২ রান। হারায় ৫ উইকেট। নারিনের ব্যাটিং অর্ডার নিয়েও প্রশ্ন থাকবে কারণ রাহানে তাঁকে ওপেনিং করাতে খুব একটা ইচ্ছুক নন (GT vs KKR)।

আরও পড়ুন: Ajinkya Rahane: রাহানেকে অধিনায়কের পদ থেকে সরানো হবে?
ব্যাট করতে নেমে গিল ঝড়ের কাছে খেই হারিয়ে কলকাতার দিশাহীন অবস্থা। পাওয়ার প্লে-তে কলকাতার রান পাতে দেওয়ার মত না আর সেখানে গুজরাট সেখানেই খেলা বের করে নিল। সাই সুদর্শন আর গিল মেরে ছাতু করে দিলেন।
সাই ২২ রানে ফিরলেও গিল নিজের দাপুটে ব্যাটিং চালিয়ে যেতে থাকেন। তাঁর প্রতিটা শট ছিল ছবির মত। নিখুঁত টাইমিং আর কব্জির মোচড়ে ম্যাচ সহজেই বের করে নিয়ে গেলেন গুহরাট অধিনায়ক। মাঝে বাটলার নেমে ঝড় তোলেন। বরুণ চক্রবর্তীকে বাটলার স্বাগত জানান ছক্কা হাঁকিয়ে। তিনি ২৫ রানে ফিরলেও গুজরাটের জিততে কোনও অসুবিধা হয়নি।
যেখানে দলের অধিনায়ক দায়িত্ব নিয়ে ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে নিয়েছেন সেখানে তাঁর দায়বদ্ধতা প্রশংসাযোগ্য। গিল প্রমাণ করলেন কেন তিনি বড় ম্যাচের প্লেয়ার। গিলের এই ম্যাচ জেতানো ইনিংসের সাক্ষী থাকলেন তাঁর পরিবারও (GT vs KKR)। অবশেষে গিল ফেরেন ৮৬ রানে। বৈভবের বলে দুরন্ত ক্যাচ ধরেন গ্রিন। ক্যাচ ধরলেও ম্যাচ মিস হয়ে গেছে অনেক আগেই কলকাতার।
একদিকে গুজরাট অধিনায়ক ম্যাচ জেতানোর কাজ করলেন আর আরেকদিকে রাহানে ব্যাট হাতে যেমন ব্যর্থ হলেন তেমনই নেতৃত্বে। এই ম্যাচে গ্রিনকে বল দিলেন না কেন সেটা তিনিই বলতে পারবেন। এখন দেখার মরশুমে একটি ম্যাচেও জয় আসে নাকি খেলা নিয়ে এরকম ছেলেখেলা করে কিনা কেকেআর। যদিও নিন্দুকরা বলছেন কেকেআর না কেকে’হার’ এখন। কলকাতার এখন লড়াই নিন্দুকদের দেওয়া এই তকমা গুছিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর (GT vs KKR)।


