Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
তানিয়া রক্ষিত: যুবভারতীর কানায় কানায় পূর্ণ গ্যালারি শনিবাসরীয় রাতে কোনও অবিশ্বাস্য অলৌকিক ঘটনার অপেক্ষায় ছিল (India vs Brazil)। ৪৯ বছর আগে যে মাঠে পেলের কসমসকে আটকে ইতিহাস গড়েছিল মোহনবাগান, সেই প্রাঙ্গণেই ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চের পরাশক্তি ব্রাজিলের মুখোমুখি হয়েছিল ভারত। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ৬ নম্বর বনাম ১৩৮ নম্বর দেশের এই লড়াই খাতায়-কলমে ছিল ডেভিড ও গোলিয়াথের যুদ্ধ। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ৪-০ গোলেই জেতে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন সেলেকাওরা। কিন্তু যুবভারতীতে কোনও দৃষ্টিকটু সাম্বা নাচ চলেনি; বরং খালিদ জামিলের শিষ্যরা যে লড়াকু মানসিকতা আর জেদ প্রদর্শন করেছেন, তা স্কোরলাইনের বাইরে গিয়ে ভারতীয় ফুটবলের আগামী দিনের জন্য এক বুক আশার আলো জ্বেলে দিয়ে গেল।
প্রথম ২৭ মিনিটের লড়াই (India vs Brazil)
অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের একাদশে আটটি পরিবর্তন এনে রোটেশনের পথে হেঁটেছিলেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। অন্যদিকে, পানামা ম্যাচের দল থেকে রিকি ও বিক্রমের জায়গায় অনিরুদ্ধ থাপা ও সাহাল আব্দুল সামাদকে নামিয়ে খালিদ জামিল দল সাজান tactical গাঠনিকতায়। খেলার শুরুতেই সবাইকে চমকে দিয়ে ম্যাচের পাঁচ মিনিটের মধ্যে কর্নার আদায় করে নেয় ‘মেন ইন ব্লু’। অপুইয়ার ৭ মিনিটের দূরপাল্লার শট একটুর জন্য লক্ষ্যের বাইরে যায়, আবার ১৩ মিনিটে মনবীর সিং গতি বাড়িয়ে ব্রাজিলের বক্সে ঢুকেও সামান্য অতিরিক্ত বল ধরে রাখার ভুলে সুযোগ নষ্ট করেন। ভিনিসিয়াস জুনিয়র, মারকুইনোসদের তারকাসমৃদ্ধ ব্রাজিলকে ২৭ মিনিট পর্যন্ত গোলশূন্য আটকে রাখা ছিল ভারতের জন্য একপ্রকার মানসিক ও নৈতিক জয়।
গুরপ্রীতের অফ-ডে (India vs Brazil)
২৮ মিনিটে প্রথম গোল খেয়েই কিছুটা ছন্দ হারায় ভারত। আশিক কুরুনিয়ানকে কাটিয়ে চমৎকার বাঁ পায়ের বাকানো শটে ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন এস্তেভাও। এরপর ৩৬ মিনিটে পেদ্রোর হেড পোস্টে লেগে ফেরার পর, ৪২ মিনিটে আবারও এস্তেভাওয়ের পাস থেকেই ব্রাজিলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন সেই পেদ্রো। বল গুরপ্রীত সিং সংধুর হাতে লেগে গোলে ঢোকে। ৪৪ মিনিটেও গুরপ্রীতের ভুলে বিপদের পরিস্থিতি তৈরি হলেও সেযাত্রা রক্ষা করেন অপুইয়া। ২২ বছর আগে সেপ্টেম্বরের এক রাতে জাপানের কাছে ৪-০ হারের যে ইতিহাস ছিল, সেই একই ব্যবধানে পরাজয়ের আবহ যেন আবার তৈরি হতে শুরু করে প্রথমার্ধেই।
সুযোগ নষ্টের খেসারত ও শুভলগ্নের সম্ভাবনা
বিরতির পর গুরপ্রীতের জায়গায় প্রভসুখন গিলকে নামিয়ে রক্ষণে স্থিতিশীলতা আনার চেষ্টা করেন কোচ খালিদ জামিল। কিন্তু বদলি হিসেবে নামা স্যামুয়েল লিনোর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ব্রাজিলের জয় সুনিশ্চিত হয়। ৫৮ মিনিটে দূরপাল্লার দর্শনীয় শটে ৩-০ করেন লিনো এবং ইনজুরি টাইমে (৯০+৫ মিনিটে) নিজের দ্বিতীয় ও দলের চতুর্থ গোলটি পান তিনি। তবে ব্রাজিলের চারটি গোল সত্ত্বেও ম্যাচটিতে ভারতের লড়াই একেবারে নিষ্প্রভ ছিল না। ৫৫ মিনিটে মনবীরের জোরালো শট ব্রাজিল কিপার আটকে দেন; আবার ৬৪ ও ৬৮ মিনিটে রায়ান উইলিয়ামসের সামনে সুযোগ এসেছিল স্কোরশিটে ভারতের নাম তোলার। উইলিয়ামসের একটি শট গোললাইন সেভ না হলে আক্ষেপ কিছুটা কমত।
হারের মধ্যেও দিশা (India vs Brazil)
ম্যাচ শেষে হারের গ্লানি ভুলে হাসিমুখে ভিনিসিয়াসের সঙ্গে ভারতীয় ফুটবলারদের ছবি তোলার দৃশ্যটি স্পষ্ট করে দেয় এই অভিজ্ঞতার গুরুত্ব কতখানি (India vs Brazil)। গ্যাব্রিয়েল, গুইমারেস, এন্ডরিকদের মতো বিশ্বমানের ফুটবলারদের মুখোমুখি হয়ে মনবীর, সাহালদের এই বুকচিতিয়ে লড়াই করল—সঠিক পরিকল্পনা ও মানসিকতা থাকলে বিশ্বমঞ্চেও নিজেদের মেলে ধরা সম্ভব। চার গোলের বড় ব্যবধান সত্ত্বেও খালিদ জামিলের ফুটবলারদের অদম্য প্রতিরোধ ও সুযোগ তৈরির ক্ষমতা বার্তা দিয়ে গেল, সঠিক চর্চা বজায় থাকলে এই লড়াই একদিন শুধুই প্রশংসায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, ফলাফলেও তার প্রতিফলন ঘটবে।



