Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: দুর্গা ভাসানের পরে যখন সারা বাংলার মুখ ভার, তখনই নতুন উৎসবের সাজে মেতে ওঠে ঝাড়গ্রাম জেলার বেলপাহাড়ি ব্লকের এক ছোট্ট গ্রাম হাড়দা (Jhargram Lakshmi Puja)। এখানে শুরু হয় এমন এক পুজো, যেখানে একসঙ্গে আরাধনা করা হয় লক্ষ্মী ও সরস্বতী দেবীর।
উৎসবের সূচনা কোথায়? (Jhargram Lakshmi Puja)
সূত্রে খবর, এই পুজো শুরু হয়েছিল আজ থেকে প্রায় ১৬৩ বছর আগে। গ্রামের সাহা ও মণ্ডল পরিবারের পূর্বপুরুষেরা শুরু করেছিলেন এই যুগল আরাধনা। আজও সেই ধারাই অটুট। পুজো কমিটির বর্তমান সম্পাদক তারাপদ সাহা বলেন, “বিষ্ণুপুরাণ মতে নারায়ণের দুই স্ত্রী লক্ষ্মী ও সরস্বতী। তাই একজনকে বাদ দিয়ে অন্যজনের পুজো আমরা করতে পারি না।” এই ঐতিহ্যকে জীবন্ত রাখতে আজও একসঙ্গে পুজো হয় দুই দেবীর।
পাঁচ দিনের পূজা ও সাত দিনের উৎসব (Jhargram Lakshmi Puja)
হাড়দার শ্রীশ্রী কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো টানা পাঁচ দিন ধরে চলে। এর পাশাপাশি সাত দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও যাত্রাপালা অনুষ্ঠিত হয়। দেশের নামী শিল্পীরা অংশ নেন এই উৎসবে। আগামীকাল, সোমবার থেকে শুরু হয়ে এই পুজো চলবে আগামী শনিবার পর্যন্ত। প্রথম দিন ‘ঘট উত্তোলন’-এর সময় ঐতিহ্যগতভাবে হয় আতসবাজির প্রদর্শনী,
তবে এ বছর পরিবেশের কথা মাথায় রেখে পরিবেশবান্ধব আতসবাজির আয়োজন করা হয়েছে।
একই চালায় দেবী যুগল (Jhargram Lakshmi Puja)
এই পুজোর অন্যতম বিশেষত্ব একই চালায় পাশাপাশি লক্ষ্মী ও সরস্বতী দেবী। লক্ষ্মীর গায়ের রং হালকা গোলাপি, আর সরস্বতীর সাদা। দুই দেবীর সঙ্গে থাকেন তাঁদের সখী লুক ও লুকানি,
এবং সেবক দাস ও দাসী। দেবীদ্বয়ের মাথার উপরে বিরাজমান নারায়ণ।
বিশেষ ভোগ ও প্রসাদ (Jhargram Lakshmi Puja)
প্রচলিত ফল-মিষ্টির পাশাপাশি এখানে বিশেষ ভোগ হিসেবে থাকে বেসনের তৈরি দরবেশ। এটি পুজোর অন্যতম আকর্ষণ এবং বহু দর্শনার্থীর প্রিয় প্রসাদ।
জিলিপির রাজ্য (Jhargram Lakshmi Puja)
এই পুজোর আরেক বড় আকর্ষণ হলো জিলিপি। প্রতি বছর পুজো উপলক্ষে এখানে ২৫০ থেকে ৩০০ কুইন্টাল জিলিপি বিক্রি হয়। চালগুঁড়ি দিয়ে তৈরি হয় এই কড়া পাকের জিলিপি, যা প্রায় এক মাস পর্যন্ত টাটকা থাকে। জিলিপি তৈরিতে ৮ থেকে ১০ জন অভিজ্ঞ কারিগর নিয়োজিত থাকেন। পুজো প্রাঙ্গণে থাকে একটিমাত্র জিলিপির দোকান, যা নিলামের মাধ্যমে বরাদ্দ হয়। এ বছর সেই দোকান পেয়েছেন হাড়দারই বাসিন্দা সিন্টু সাহা, মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লক্ষ ৯৯ হাজার টাকা। গ্রামের মানুষ ও পর্যটকদের পাশাপাশি বিদেশে থাকা আত্মীয়দের কাছেও এই জিলিপি পাঠানো হয়। কয়েক বছর আগে এই জিলিপি সৌদি আরবেও রপ্তানি করা হয়েছিল।
পরিবার, চাঁদা ও আয়োজনের কাঠামো
পুজো কমিটির হিসেব অনুযায়ী, এ বছরের মোট বাজেট প্রায় ১৪ লক্ষ টাকা। এই অর্থ সংগ্রহ হয় হাড়দার প্রায় ৫০০টি সাহা ও মণ্ডল পরিবারের কাছ থেকে। প্রতি পরিবারের জমি ও পেশার ভিত্তিতে চাঁদার পরিমাণ নির্ধারিত হয়। ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকে বিনপুর থানার পুলিশ প্রশাসন।
আরও পড়ুন: Taki Rajbari: কেন এখনও বেয়ারারদের কাঁধেই যাত্রা করেন টাকি রাজবাড়ির দুর্গা?
পর্যটনের কেন্দ্র হয়ে উঠছে হাড়দা
খবর সূত্রে জানা যায়, বেলপাহাড়ি ট্যুরিজ়ম অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র বলেন, “লক্ষ্মীপুজোর এই কয়েকটা দিন ঝাড়গ্রামে বেড়াতে আসা পর্যটকদের কাছে হাড়দা এক দর্শনীয় স্থান হয়ে ওঠে। তাঁরা এখানে এসে জিলিপির স্বাদ নেন এবং বাড়িতেও নিয়ে যান।” গ্রামীণ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, এবং ধর্মীয় আনন্দের মিলনে হাড়দা গ্রাম আজ হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গের উৎসব মানচিত্রের এক উজ্জ্বল অধ্যায়।



