Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: হাইকোর্টে আবারও ধাক্কা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়দের। ধর্মতলায় ভিক্টোরিয়া হাউজের সামনে ২১ জুলাই শহীদ দিবসের অনুষ্ঠান করতে পারবে না ‘কালীঘাট’ তৃণমূল। বুধবার পরিষ্কার জানিয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Mamata Banerjee)। বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে শর্তসাপেক্ষে কালীঘাট তৃণমূলকে ২১ জুলাই শহীদ দিবসের অনুষ্ঠান করার অনুমতি দিল হাইকোর্ট। দুপুর ১২টা থেকে দিকে বিকেল ৩.৩০ এর মধ্যে সর্বাধিক আড়াই হাজার লোক নিয়ে সভা করার অনুমতি দিলেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য। বিচারপতির নির্দেশ, পুরো রাস্তা জুড়ে এই শহীদ দিবসের অনুষ্ঠান করা যাবে না। রাস্তার একদিকে মিটিং হবে। অন্য দিক দিয়ে যেন গাড়ি চলাচল করতে পারে। দুপুর ১২টা থেকে ৩.৩০ পর্যন্ত এই সমাবেশ করা যাবে। ট্রাফিক ব্যবস্থা সচল রাখতে হবে। আইনশৃঙ্খলার অবনতি যাতে না হয়, তার দিকে নজর রাখতে হবে পুলিশকে। ১৮ জুলাই বিকেল ৪টের মধ্যে আয়োজকদের নাম ও মোবাইল নম্বর জয়েন্ট সিপি হেডকোয়ার্টারকে জানাতে হবে।
এখনও ধোঁয়াশা অব্যাহত (Mamata Banerjee)
২১ জুলাই শহীদ দিবসের অনুষ্ঠানের জন্য শহীদ মিনারে অনুমতি পেয়েছে কংগ্রেস। গান্ধী মূর্তির সামনে এই অনুষ্ঠান করার জন্য ঋতব্রত তৃণমূলও না কি পুলিশের অনুমতি পেয়ে গিয়েছে। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের ২১ জুলাই শহীদ দিবসের অনুষ্ঠান কোথায় হবে, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা অব্যাহত।
নাজেহাল অবস্থা তৃণমূলের (Mamata Banerjee)
গত ৩০ জুন কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে ২ জুলাই থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউজ সংলগ্ন এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। অথচ ক্ষমতায় আসার আগে এবং ক্ষমতায় থাকাকালীন ওই স্থানেই একুশে জুলাই শহীদ দিবসের অনুষ্ঠান করে আসছিলে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর শহীদ দিবসের অনুষ্ঠান স্থল পেতেই নাজেহাল অবস্থা তৃণমূলের (Mamata Banerjee)।

জারি করা ১৬৩ ধারা (Mamata Banerjee)
ধর্মতলা চত্বরে ৬০ দিনের জন্য পুলিশের জারি করা ১৬৩ ধারা ‘অধিকারের পরিপন্থী’ দাবি করে সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় তৃণমূল কংগ্রেস। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্যর দৃষ্টি আকর্ষণ করে মামলা দায়ের করেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন।
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য বলেন (Mamata Banerjee)
বুধবার সেই মামলাতেই বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য পরিষ্কার জানিয়ে দেন ভিক্টোরিয়া হাউজের সামনে একুশে জুলাই শহীদ দিবসের অনুষ্ঠান করা যাবে না।রাজ্যের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল জানান, ইতিমধ্যে ওই চত্ত্বরে অন্য দু’টি কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই অবস্থায় ধর্মতলা বা সংলগ্ন এলাকায় আরও কর্মসূচি হলে, তা খুবই কাছাকাছি হয়ে যাবে। বিচারপতি তখন জানতে চান, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত বাহিনী রাখলেও সমস্যা হবে কি না। রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল হাজরা মোড়ে ২১ জুলাই করার প্রস্তাব দেন। কালীঘাট তৃণমূলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা বিকল্প জায়গা হিসেবে ডোরিনা ক্রসিং বা এসপ্ল্যানেড পূর্ব অথবা বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের সামনে কর্মসূচির করার প্রস্তাব দেন।
তৃণমূলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন
‘আমরা ১৯৯৩ সাল থেকে ২-৩ বছর বাদ দিয়ে বাকি বছরগুলোতে শহীদ দিবস পালন করছি। এ বছর তৃণমূলের একাংশ গান্ধী মূর্তির সামনে শহীদ দিবস পালনের অনুমতি পেয়েছে। কংগ্রেস শহীদ মিনারে অনুমতি পেয়েছে।’ কল্যাণের সওয়াল শুনে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘পালাবদলের পর পরিস্থিতি বদলেছে। তৃণমূলের অন্দরে বিভাজন তৈরি হয়েছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ধর্মতলা বন্ধ না করে আপনারা অন্যত্র এই সমাবেশ করুন। হাজরায় করুন।’
শহীদ দিবসের অনুষ্ঠানে কতজন!
হাজরা মোড়ে সমাবেশ করার প্রস্তাব মানতে রাজি হননি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘হাজরায় শহীদ দিবসের অনুষ্ঠান করা সম্ভব নয়। কারণ হাওড়া, শিয়ালদহ স্টেশন থেকে কর্মীদের আসতে অসুবিধা হবে।’ তা শুনে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য জানতে চান, শহীদ দিবসের অনুষ্ঠানে কতজন আসতে পারেন। ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষ জমায়েত করতে পারেন বলে জানান কালীঘাট তৃণমূলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরও পড়ুন: Cancer Doubles: ২০৫০ সালের মধ্যে বছরে ৩.৫ কোটি ক্যানসার রোগী! সতর্ক করল WHO, প্রতিরোধেই জোর
শহীদ দিবসের সভার অনুমতি
তখন বিচারপতি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়দের দেওয়া বিকল্প জায়গার প্রস্তাব নিয়ে রাজ্যের কাছ থেকে অবস্থান জানতে চান। এর দিন দুপুরে রাজ্যের অবস্থান জানার পরই বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের সামনে শর্তসাপেক্ষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়দের শহীদ দিবসের সভার অনুমতি দেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য।



