Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসের ক্ষত এখনও পুরোপুরি শুকোয়নি (Nepal Flood)। তার মধ্যেই ফের নতুন করে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে নেপালে। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের প্রভাবে দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয়েছে টানা বৃষ্টিপাত। কোথাও কোথাও ইতিমধ্যেই হয়েছে অতিভারি বর্ষণ। ফলে দ্রুত বাড়ছে নদ-নদীর জলস্তর এবং তৈরি হয়েছে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা।
একদিনেই ১৮৭ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি (Nepal Flood)
শুক্রবার পাল্পা ও আর্চাল এলাকায় প্রবল বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বিকেল পর্যন্ত সেখানে ১৮৭ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নেপালের আরও কয়েকটি এলাকায় ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। লাগাতার এই বর্ষণে পাহাড়ি এলাকায় নেমেছে ঢল। কোথাও কোথাও শুরু হয়েছে ভূমিধসও।
১২ জেলায় জারি বন্যা সতর্কতা (Nepal Flood)
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে নেপালের বন্যা পূর্বাভাস বিভাগ নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে। গোরখা, লামজুং, কাস্কি, দাং, বাঁকে, বারদিয়া ও কাঞ্চনপুর-সহ মোট ১২টি জেলাকে উচ্চ বন্যাঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ছোট নদীগুলির জলস্তর দ্রুত বাড়তে থাকায় যেকোনও সময় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভূমিধসে বিপর্যস্ত যোগাযোগ (Nepal Flood)
প্রবল বৃষ্টির সরাসরি প্রভাব পড়েছে নেপালের যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও। কাঠমান্ডুর সঙ্গে দেশের বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগ বেশ কিছু জায়গায় ব্যাহত হয়েছে। পৃথ্বী হাইওয়ের ধাদিং অংশে একাধিক জায়গায় ভূমিধসের খবর মিলেছে। কোথাও রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে, আবার কোথাও এক লেন দিয়ে কোনওরকমে যান চলাচল করছে। ফসলের জমি জলের তলায় চলে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন কৃষকরাও।
আরও বৃষ্টির আশঙ্কা (Nepal Flood)
বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপটি ভারতের ছত্তিশগড় হয়ে ধীরে ধীরে নেপালের দিকে এগোচ্ছে। এর প্রভাবে আগামী দু’দিন নেপালের পশ্চিমাঞ্চলে আরও বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে নদীর জলস্তর আরও বাড়লে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আরও পড়ুন: RG Kar Case: আরজি কর মামলায় ফের বিস্ফোরক দাবি নির্যাতিতার মায়ের
জলবায়ু পরিবর্তন নিয়েও সতর্কবার্তা
এর মধ্যেই নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাবের কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে উষ্ণায়নের কারণে ভঙ্গুর হিমালয় পরিবেশব্যবস্থার অস্থিতিশীল হয়ে পড়ার বিষয়টি। গলছে হিমবাহ, বদলাচ্ছে পারমাফ্রস্ট এবং বাড়ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি।



