Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পানামাকে হারাতে অনেক পরিশ্রম করতে হল ইংল্যান্ডকে। শেষ পর্যন্ত তারা জিতলেও হ্যারি কেনদের খেলা চিন্তায় রাখবে (Panama vs England)।
ম্যাচ জিতলেও মন জিতল না ইংল্যান্ড (Panama vs England)
আবারও প্রশ্নের মুখে টমাস টুখেল। মুখে অনেক কিছু বললেও মাঠে তার প্রতিফলন নেই বললেই চলে। একদিকে ছোট ছোট দলের কোচ অভিজ্ঞতা দিয়ে দুরন্ত ফুটবল উপহার দিচ্ছেন আর অন্যদিকে ইংল্যান্ড অন্যতম শক্তিশালী হয়েও চিন্তা বাড়াচ্ছে সমর্থকদের। ঘানার কাছে আটকে গেছিল ইংল্যান্ড। আজ পানামাকে হারালেও মন জিততে ব্যর্থ হলেন হ্যারি কেনরা। গ্রুপের অন্য ম্যাচে ঘানাকে হারিয়ে আরও এক বার নকআউটে উঠল ক্রোয়েশিয়া। তিন নম্বরে শেষ করল ঘানা। কিন্তু ৪ পয়েন্ট পাওয়ায় তারাও নকআউট প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছে। তবে তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে গ্রুপ পর্বের সব খেলা শেষ হওয়ার (Panama vs England)।
ইংল্যান্ডের ছন্দহীন ফুটবল
ম্যাচের আগে থেকেই আনন্দে মাতেন ইংল্যান্ড সমর্থকরা কারণ বিপক্ষ দলকে তাঁরা সহজেই উড়িয়ে দেবে ভেবেছিলেন কিন্তু ম্যাচ শুরু পর সেই ছবি বদলাতে থাকে। প্রথম অর্ধে কার্যত হতাশ করল ইংরেজ শিবির (Panama vs England)।
ইংল্যান্ডের একটাই পরিকল্পনা। বাঁ প্রান্ত দিয়ে মার্কাশ রাশফোর্ড ও ডান প্রান্ত দিয়ে বুকায়ো সাকা বার বার ক্রস তুলবেন। বক্সে দাঁড়িয়ে থাকা হ্যারি কেন, জুড বেলিংহ্যামেরা গোল করবেন, এটা যেন তাঁদের খেলার অন্যতম ধ্রুবক। কিন্তু দুই উইঙ্গার আটকে গেলে কী হবে? থ্রু বল কোথায়? প্রথমার্ধে তো কেনকে খুঁজে পাওয়াই কঠিন ছিল। গোয়েন্দা দিয়ে খুঁজলেও ভুল হত না। একটা সময় পর্যন্ত দলের সেরা স্ট্রাইকার ভয় ধরয়ে দিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন: Bankura: স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সেলাই মেশিন সমবায়ের গুদামে
এই ম্যাচের পরে চর্চায় সাউথগেট। তাঁর সময় ইংল্যান্ড দলের যে ছন্দ ছিল সেই ছন্দ যেন এখন উধাও। একই আক্রমণে ভরসা করে সব ম্যাচ জেতার পরিকল্পনা, একটা প্ল্যান কাজ না করলে কোনও ব্যাকআপ প্ল্যান নেই আর দলের কাছে। মাঝে মাঝেই যেন দিশা হারাচ্ছে দল। দলের নাম ইংল্যান্ড হলেও বোঝার উপায় নেই যে, এই দলটাই গত ছ’সাত বছরে কী দুর্দান্ত ফুটবল খেলেছে।
বলের দখল ইংল্যান্ডের অনেক বেশি ছিল। সেটাই স্বাভাবিক এবং প্রত্যাশিত। স্পেন তাঁদের প্রথম ম্যাচে দখল বেশি রেখেও কাবো ভার্দের বিরুদ্ধে আটকে যায়। প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডের খেলা দেখে সেটাই মনে হচ্ছিল। ডেকলান রাইসকে কোন অজানা কারণে প্রথম একাদশে রাখলেন না টুখেল? তিনিই সেটা বলতে পারবেন (Panama vs England)।
অন্য ম্যাচে ক্রোয়েশিয়া এগিয়ে যাওয়ায় ইংরেজ সমর্থকেরা হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। কারণ, স্কোরলাইন তেমনটা থাকলে রাউন্ড অফ ৩২ থেকেই কঠিন প্রতিপক্ষের সামনে পড়তে হত ইংল্যান্ডকে আর ইংরেজ সমর্থকরা ততক্ষণে খেলা দেখে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন। টুখেল হয়তো সাইডলাইন থেকে কেনদের জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, ক্রোয়েশিয়া এগিয়ে। তাই প্রথমার্ধের শেষ দিকে তাদের খেলায় কিছুটা বাড়তি গতি দেখা গেল। কিন্তু গোলহীন।
দ্বিতীয়ার্ধে বেলিংহ্যামের একক দক্ষতায় এগোল ইংল্যান্ড। কর্নার থেকে মার্কারকে ঘাড়ের উপর নিয়ে পায়ের টোকায় গোল করলেন তিনি। ব্যস, সেখানেই পানামার প্রতিরোধ শেষ। ছোট দলগুলির ক্ষেত্রে এটাই দেখা যায়। একবার গোল খেলেই ভেঙে যায় আত্মবিশ্বাস। এরপর গোল করার চেষ্টায় রক্ষণ দুর্বল হয়ে যায়। তার সুযোগ তুললেন কেন। প্রথমার্ধে দেখা না গেলেও দ্বিতীয়ার্ধে বেলিংহ্যামের ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে ২-০ করলেন তিনি।
তবু লড়াই চালায় পানামা। এক বার জালে বল জড়িয়েও দিয়েছিল। কিন্তু অফসাইডে তা বাতিল হল। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলে জিতে মাঠ ছাড়ল ইংল্যান্ড। কিন্তু তাদের রক্ষণে যে ভাবে মাঝে মাঝেই পানামা ঢুকে পড়ল, তা চিন্তা বাড়াবে টুখেলের। পানামা হয়তো গোল করতে পারেনি। কিন্তু বড় দল সুযোগ ছাড়বে না। নকআউটের আগে এই রোগ সারাতে না পারলে ভুগতে হতে পারে ইংল্যান্ডকে (Panama vs England)।
ক্রোয়েশিয়ার ‘বুড়ো হাড়ের ভেলকি’
এই ঘানার রক্ষণ ভাঙতে পারেনি ইংল্যান্ডের প্লেয়াররা সেই কাজটাই করে দেখাল ক্রোয়েশিয়া। তাঁরা শারীরিক দক্ষতায় পিছিয়ে পড়বে জেনেই দূর পাল্লার শটে এগিয়ে নিয়ে গেল ম্যাচ আর তাতেই এল সফলতা। বিপক্ষের শক্তি বুঝে রণ নীতি সাজানো যে কতটা জরুরি সেটাই বুঝিয়ে দিল ক্রোয়েশিয়া। সুচিচের গোল ক্রোয়েশিয়াকে আত্মবিশ্বাস জোগাল আরও (Panama vs England)।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে খেলা বদলে গেল ঘানার। এ বারের বিশ্বকাপে ভাল ছন্দে দেখাচ্ছে তাদের। সেমেনিয়ো সুযোগ তৈরি করছিলেন। বিরতির পর আব্দুল ফাতাউ নামতেই ঘানার খেলার গতি আবার বেড়ে গেল। একের পর এক আক্রমণ এল ক্রোয়েশিয়ার বক্সে। কিন্তু রক্ষণ ভাঙা যাচ্ছিল না।
এই ম্যাচে আবার নিজের জাত চেনালেন মদ্রিচ। কেন তিনি দলের অন্যতম ভরসা সেটাই বুঝিয়ে দিলেন। ‘বুড়ো হাড়ের’ ভেলকি বোধহয় এই ম্যাচে তাঁর জন্যই প্রযোজ্য। আক্রমণ থেকে রক্ষণ, সব জায়গায় তাঁকে দেখা গেল। তবে ঘানাও চেষ্টা চালিয়ে যায়। লুকাসেনের গোলে সমতা ফেরায় তারা। প্রথমে মনে হয়েছিল অফসাইড। কিন্তু ভার দেখে রেফারি সিদ্ধান্ত নেন, লুকাসেন অফসাইডে ছিলেন না (Panama vs England)।
গোল খাওয়ার পর আবার ক্রোয়েশিয়া গা ঝেড়ে ওঠে। আবার গোল করার তাগিদ দেখা গেল। ক্রোয়েশিয়া এমন একটা দল, যারা কখন গোল করবে প্রতিপক্ষ বুঝতে পারে না। হঠাৎ করে গোলের দরজা খুলে ফেলে তাঁরা আর সেটাই হল। নিকোলা ভ্লাসিচ গোল করে ক্রোয়েশিয়াকে আবার এগিয়ে দিলেন। সেই পাস এল মদ্রিচের পা থেকেই। বাকি সময়ে আর ক্রোয়েশিয়াকে সমস্যায় ফেলতে পারল না ঘানা। মদ্রিচ বোঝালেন, গতি হয়তো কমেছে, কিন্তু এখনও বিশ্বের সেরা মিডফিল্ডারদের তালিকায় কেন তিনি পড়েন, কেন তিনি দক্ষতায় টেক্কা দেবেন বড় বড় নামকেও।
ঘানা হারলেও বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়নি। ৪ পয়েন্ট তাদের। এখনও পর্যন্ত তৃতীয় স্থানে থাকা মোট পাঁচটি দলের পয়েন্ট ৪। ফলে বিশ্বকাপের নকআউটে তারা প্রায় জায়গা পাকা করে নিয়েছে। তবে তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে বাকি খেলাগুলি শেষ হওয়ার (Panama vs England)।


