Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পাঁচবার এড়িয়ে যাওয়ার পর অবশেষে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী। রাজ্যের বহুল চর্চিত পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। শুক্রবার সকালে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর দফতরে হাজির দিলেন প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী (Rathin Ghosh)। দীর্ঘদিন ধরে তদন্তকারীদের নজরে থাকা এই তৃণমূল নেতা এর আগে একাধিকবার তলব পেয়েও হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছিলেন। অবশেষে পাঁচবার নোটিস উপেক্ষা করার পর তাঁর ইডি দফতরে উপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছলেন রথীন ঘোষ (Rathin Ghosh)
শুক্রবার সকাল প্রায় ১০টা নাগাদ সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছন রথীন ঘোষ। গাড়ি থেকে নামার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আমাকে কেন ডেকেছে জানি না। ভিতরে গেলে জানতে পারব।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে জল্পনা আরও বেড়েছে। কারণ, পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁর নাম বহুদিন ধরেই তদন্তের পরিধির মধ্যে রয়েছে। ইডি সূত্রে খবর, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আর্থিক অনিয়ম, প্রভাব খাটানো এবং অর্থ লেনদেন সংক্রান্ত একাধিক বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।
পাঁচবার তলব, তবু এড়িয়ে গিয়েছিলেন
ভোটপর্ব চলাকালীন সময়ে মোট পাঁচবার রথীন ঘোষকে তলব করেছিল ইডি। তবে প্রতিবারই তিনি বিভিন্ন ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে হাজিরা এড়িয়ে যান। রাজনৈতিক কর্মসূচি, নির্বাচনী প্রচার এবং সাংগঠনিক ব্যস্ততার অজুহাতে তিনি তদন্তকারীদের সামনে উপস্থিত হননি বলে জানা যায়। তদন্তকারী সংস্থার একাংশের মতে, নির্বাচন শেষ হওয়ার পরই তাঁকে পুনরায় চাপ বাড়িয়ে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই প্রেক্ষিতেই শুক্রবার তাঁর এই উপস্থিতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলা কী? (Rathin Ghosh)
রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরেই এই মামলার সূত্রপাত। অভিযোগ, যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করে মোটা টাকার বিনিময়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম, ভুয়ো নথি এবং বেআইনি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ সামনে আসে তদন্তে। এই মামলায় ইতিমধ্যেই একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, প্রভাবশালী নেতা এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদের নাম উঠে এসেছে। ফলে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে রাজ্যে।
সুজিত বসুর গ্রেপ্তারির পর বাড়ল চাপ
এই মামলায় এর আগেই ইডির নজরে এসেছিলেন প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী Sujit Bose। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, অর্থের বিনিময়ে পুরসভায় নিয়োগে প্রভাব খাটানো হয়েছে। ভোটের মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় থেকে শুরু করে বিধানসভা নির্বাচনের পুরো পর্ব জুড়ে একাধিকবার তাঁকে হাজিরার নোটিস পাঠিয়েছিল ইডি। তখন তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়ে সময় চেয়েছিলেন। তৃণমূল সূত্রে দাবি করা হয়েছিল, আদালতের নির্দেশ মেনেই নির্বাচনের সময় তিনি হাজিরা দেননি।
তবে ভোট মিটতেই গত ১ মে প্রথমবার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হন সুজিত বসু। পরে ১২ মে ফের তাঁকে ডাকা হয়। দীর্ঘ ম্যারাথন জেরার পর সেদিনই তাঁকে গ্রেপ্তার করে ইডি। সেই ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছিল, এবার কি আরও প্রভাবশালী নেতাদের দিকে তদন্তের জাল বিস্তার করবে কেন্দ্রীয় সংস্থা? রথীন ঘোষের হাজিরা সেই জল্পনাকেই আরও উসকে দিল।
আরও পড়ুন: Dilip Ghosh: ‘জ্বালানির দাম বৃদ্ধি থেকে বন্দেমাতরম বিতর্ক’ কী বললেন দিলীপ ঘোষ
রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা (Rathin Ghosh)
রথীন ঘোষের ইডি দফতরে হাজিরা ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। বিরোধীদের দাবি, পুর নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই শাসকদলের অন্দরমহলের একের পর এক নাম সামনে আসছে। অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে।



