Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রিমিক মাঝি: স্কুলের পঠন-পাঠন অব্যাহত (Census Work) রেখেই করতে হবে সেন্সাসের কাজ। সেন্সাস মামলায় বড় নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের। জনগণনার কাজে যুক্ত থাকা শিক্ষকদের ওই কাজের সময় ‘অন ডিউটি’ বলেই গণ্য করতে হবে। সেন্সাসের কাজে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিযুক্ত করা নিয়ে বড় নির্দেশ দিলেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও।
সেন্সাসের কাজ করায় ছিল আপত্তি! (Census Work)
স্কুলের শিক্ষকতা করার সঙ্গে সঙ্গে সেন্সাসের (Census Work) কাজ করায় আপত্তি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন শিক্ষক মহলের একাংশ। তাদের দাবি ছিল সেন্সাসের কাজকে ‘অন ডিউটি’ করতে হবে। গত বুধবার দিন এই মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষ হয়েছিল। রায়দান স্থগিত রেখেছিলেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও।
স্কুলের পঠন-পাঠন, নাকি সেন্সাসের কাজ- কোনটা গুরুত্বপূর্ণ! সেই নিয়ে শুক্রবার বিচারপতি কৃষ্ণা রাও তাঁর নির্দেশে পঠন-পাঠন অব্যাহত রেখে কিভাবে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জনগণনার কাজে ব্যবহার করা হবে, তা সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছেন।
বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের নির্দেশ (Census Work)
- সেন্সাসের দায়িত্বে থাকা শিক্ষকের কাজ অন্য শিক্ষককে (Census Work) বুঝিয়ে দিতে হবে স্কুলের প্রধান শিক্ষককে। যাতে পঠন-পাঠন অব্যাহত থাকে।
- সেন্সাসের কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদেরকে তাঁদের দিন, নির্দিষ্ট সময়, স্থান আগে থেকে জানিয়ে দিতে হবে ডিরেক্টর অব সেন্সাসকে। স্কুল কর্তৃপক্ষকে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা করতে হবে। স্কুলে পঠনপাঠন ব্যাবস্থা চালু রাখতে স্কুল কর্তৃপক্ষকে পদক্ষেপ করতে হবে।
- স্কুলের সময়ই সেন্সাসের কাজ করবেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। সেন্সাসের কাজ করার সময় শিক্ষকতা করবেন না তাঁরা। সেটাকেই তাঁদের ‘ডিউটি’ হিসেবে গণ্য করতে হবে।
- সেন্সাসের কাজের জন্য যে শিক্ষকদের নিয়োজিত করা বা দায়িত্ব দেওয়া হবে, তাঁরা সেই কাজকে অস্বীকার করতে পারবেন না।
রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তি ঘিরে বিতর্ক (Census Work)
সম্প্রতি সেন্সাস নিয়ে রাজ্য সরকারের একটি বিজ্ঞপ্তি (Census Work) ঘিরে চরম বিতর্ক তৈরি হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, স্কুলের পর এবং সপ্তাহান্তে অর্থাৎ ছুটির দিনে শনি ও রবিবারও সেন্সাসের কাজ করতে হবে সরকারি স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। পরে এই সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে এসে রাজ্য সরকার আদালতকে জানায়, শিক্ষকদের সপ্তাহান্তে জনগণনার কাজে পাঠানোর যে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল, তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে। স্কুল চলাকালীন বা স্বাভাবিক কর্মদিবসেই সেন্সাসের কাজ করবেন শিক্ষকরা। শনি ও রবিবার ছুটির দিনে সেন্সাসের কাজ করতে হবে না তাঁদের।
বিচারপতির ক্ষোভ প্রকাশ
এই মামলায় রাজ্য ও কেন্দ্রের বক্তব্য ভিন্ন হওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। আদালতে রাজ্যের যুক্তি ছিল, স্কুলের পঠন-পাঠন ও নিয়মিত কাজকর্মকে ব্যাহত না করতেই সপ্তাহান্তে শিক্ষকদের দিয়ে সেন্সাসের কাজ করানো যুক্তিসঙ্গত। কিন্তু আদালতে উল্টো সুর শোনা যায় কেন্দ্রের গলায়। কেন্দ্রের আইনজীবী আদালতে জানান, সেন্সাসের কাজের জন্য স্কুল চলাকালীন সাধারণ কর্মদিবসেই শিক্ষকদের ব্যবহার করা উচিত। এই নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রের বিপরীতমুখী অবস্থানে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হলে আদালত হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হয়। তারপরই ছুটির দিনে শিক্ষকদের সেন্সাসের কাজে ব্যবহার করার গত ৩ অগস্টের নির্দেশিকা প্রত্যাহার করে নেয় রাজ্য।
রাজ্যের এই নির্দেশিকা নিয়ে গত শুনানিতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। রাজ্যের আইনজীবির উদ্দেশ্যে বিচারপতি প্রশ্ন করেন, ‘কখন তাঁরা স্কুলে পড়াবেন, আর কখন তাঁরা সেন্সাসের কাজ করবেন? দিনে চল্লিশ কিলোমিটার যাতায়াত করে কাজ করা সম্ভব? শিক্ষকদের বাড়ি কোথায়, কোথা থেকে তাঁরা প্রতিদিন স্কুলে শিক্ষকতা করতে আসেন, নিয়োগ করার আগে আপনারা তাঁদের বায়োডাটা কেন খতিয়ে দেখেননি? শিক্ষকরা তাঁদের বাড়ির পাশেই সেন্সাসের কাজ করবেন এমনটা নয়। ফলে তাঁরা সেই কাজ শেষ করে সহজেই বাড়ি চলে যাবেন, সেটা সম্ভব নয়। বিকেল চারটেয় স্কুল ছুটি হওয়ার পর, তাঁরা সেন্সাসের কাজ করবেন। তাহলে তাঁরা কখন বাড়ি ফিরবেন?শিক্ষকরা শনিবার দিনও স্কুলে এসে শিক্ষকতা করেন। সকাল ১০টা থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত তাঁদের ক্লাস নিতে হয়। তারপরে সেনসাসের কাজ করার সময়টা কোথায়?’
বিচারপতি কৃষ্ণা রাও পরামর্শ দেন, সমস্ত শিক্ষককে একসঙ্গে সেন্সাসের কাজে ব্যবহার না করে, চার-পাঁচ জন করে শিক্ষককে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সেন্সাসের কাজে ব্যবহার করা হোক। এবং বাকি শিক্ষকরা স্কুল সামলাক। একদিন অন্তর অন্তর এইভাবে শিক্ষকদের সেনসাসের কাজে ব্যবহার করা হোক। রাজ্য মনে করলে সবকিছুই করতে পারে। শিক্ষকদের জন্য অন্য ব্যবস্থা করা হোক। না হলে তাঁদের বাড়ি ফিরতে সমস্যা হবে। শুক্রবার হাইকোর্টের এই নির্দেশের পর এখন শিক্ষকদের কীভাবে এবং কখন জনগণনার দায়িত্ব দেওয়া হবে, তার নতুন সময়সূচি ও নির্দেশিকা ঠিক করতে হবে সেন্সাস বোর্ডকে।


