Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: প্রথম ম্যাচে বিরাটের পর দ্বিতীয় ম্যাচে রোহিতের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের সাক্ষী থাকল ক্রিকেট বিশ্ব (Virat Kohli)।
আইপিএল-এর শুরুতেই ফর্মে রো-কো (Virat Kohli)
‘হাল ছেড়োনা বন্ধু, কণ্ঠ ছাড়ো জোরে’, কবির সুমনের এই বিখ্যাত গানের লাইন কমবেশি সবার জানা। এর অর্থও যে জটিল তা নয়। যেকোন পরিস্থিতিতে নিজের লড়াই যে নিজেকেই চালিয়ে নিয়ে যেতে হবে এবং কর্মই যে হবে পরিচয় সেটাই এখানে খুব স্পষ্টভাবে দক্ষতার সাথে আমাদের মনে গেঁথে দিয়েছেন কবির সুমন (Virat Kohli)।
আরেকটু সরলীকরণ করে যদি বলা যায় তবে অন্যায় দেখলে সেটার বিরুদ্ধে কথা বলা হোক বা ক্রীড়া ময়দানে সবকিছুর জবাব নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে প্রমাণ করাই হোক, সেই কথাই ব্যক্ত করতে চেয়েছেন লেখক-গায়ক। বিরাট-রোহিতকে নিয়ে যতবার প্রশ্ন উঠেছে ঠিক ততবার এই দুই তারকা পারফর্ম করে সকল নিন্দুকদের মুখ বন্ধ করছেন। হাল ছাড়ার যে পাত্র নন তাঁরা দুজন এটাও বারবার প্রমাণ করেছেন এই তারকা জুটি। আর এই দুই ব্যাটারকে নিয়ে শুরু করার জন্য এই গানের লাইনের আশ্রয় নিতে হলো (Virat Kohli)।
ভারতীয় ক্রিকেটে এই মুহূর্তে সবথেকে চর্চিত নাম রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলি। দুই তারকাকে দেখার জন্য সমর্থকরা অপেক্ষা করেন দিনের পর দিন। ভারতীয় ক্রিকেটের মূল ভরসাযোগ্য দুই স্তম্ভ বিরাট-রোহিত জুটি। ভারতীয় ক্রিকেটে এই দুজনের গুরুত্বপূর্ণ অবদান যে অনস্বীকার্য তা সবাই জানে। একজন বিশ্বের এই মুহূর্তে সেরা চেজ মাস্টার আরেকজন বড় শট খেলার জন্য বিখ্যাত। রোহিতের খেলা দেখার সময় দর্শকদের মনে হয় তিনি যেন বাকি ব্যাটারদের থেকে আরও কিছু সেকেন্ড বেশি পান শট খেলতে কিন্তু ইটা আসলে তাঁর দক্ষতা। আইপিএল-এও এই দুজনকে নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে। কিন্তু প্রথম দুই ম্যাচে এই দুই কিংবদন্তির ব্যাটিং দেখে সমর্থকদের মধ্যে যে প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে সেটা হলো এদের অবসর কি স্বইচ্ছেয় নাকি বাধ্য হয়েই (Virat Kohli)?
দুই তারকাই জাতীয় দলের টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিয়েছেন। তাঁরা এখন শুধুমাত্র ভারতের হয়ে ওয়ানডে ফরম্যাটেই খেলেন আর ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ এখন এই দুই তারকার পাখির চোখ। কিন্তু এই দুই তারকা নিজেদের যে ফর্মের পরিচয় দিয়েছেন তাতে অনেক সমর্থকে একটাই প্রশ্ন, ভারতীয় দলের হেড কোচ এবং নির্বাচকদের সঙ্গে যে এই জুটির সম্পর্কের অবনতির কারণেই কি অবসর নিয়েছেন বিরাট-রোহিত?
আইপিএল-এর প্রথম ম্যাচে বেঙ্গালুরু বনাম হায়দরাবাদের ম্যাচে সহজেই জয় ছিনিয়ে নেয় বিরাট কোহলির দল। সেই ম্যাচে রান তাড়া করতে নেমে বিরাট কোহলির ক্যাচ ফেলে দেন ক্লাসেন। সেটা ছিল একদম শুরুর দিকে কিন্তু এই ক্যাচ মিস করে যে ক্লাসেন ম্যাচ মিস করে ফেলেছেন সেটা বোধহয় তারপরেই তাঁর মনে হয়েছে। কারণ এরপর বিরাটের সেই চেনা ছবির সাক্ষী থেকেছেন দর্শকরা। সেই রানের খিদে, সেই আগ্রাসন (Virat Kohli)।

তাঁর সঙ্গে জুটি বেঁধে যেই ব্যাট করতে এসেছেন তাকেই ভাল শটের জন্য বাহবা দেওয়া এবং তাঁর খেলাকে উদযাপন করেছেন বিরাট। যেটা তাঁর স্বীবাদসিদ্ধ ভঙ্গি। নিজেও করেছেন দুরন্ত ব্যাটিং। সেই দিনের ম্যাচে তাঁকে একাধিক ক্লাসি শট খেলতে দেখা গিয়েছিল। স্ট্রেইট ব্যাটে ছয় থেকে শুরু করে দুরন্ত টাইমিংয়ে লোফ্টেড শট। মাঠের সবদিক শাসন করেছেন বিরাট। ২০২ রান তাড়া করতে নেমে কিং কোহলি অপরাজিত থাকেন ৬৯ রানে। আইপিএল-এ ২৬০টি ইনিংস খেলে বিরাটের মোট রান ৮৭৩০। যার মধ্যে রয়েছে ৮টি সেঞ্চুরি এবং ৬৪টি হাফ সেঞ্চুরি (Virat Kohli)।
চেজ করতে নেমে যে বিরাট অপ্রতিরোধ্য সেটা এই মুহূর্তে ক্রিকেটবিশ্ব জানে। চেজ করার সময় মানুষ বিরাট যেন অতিমানবীয় এক ব্যাটার। জেক পরাস্ত করার সঠিক উপায় এখনও আবিষ্কার করতে পারেননি কেউ। ঈশান কিষাণদের বিরুদ্ধে তাঁর এই ৬৯ রানের ইনিংসে ছিল সমসংখ্যক চার এবং ছয়। ২০২ রান তাড়া করতে নেমে এখনও কোহলি যদি ১৮১.৫৮ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করতে পারেন তবে জাতীয় দলের হয়ে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে কি সমস্যা হচ্ছিল?

অন্যদিকে কলকাতা নাইট রাইডার্সের কাছে বরাবরের দুঃস্বপ্নের নাম রোহিত শর্মা। যদি শুধু কলকাতা না গোটা ক্রিকেট বিশ্বের কাছেই যে তিনি দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠতে পারেন সেটা বিশ্ববন্দিত। তাঁর খেলার দক্ষতায় ভীষণ গতির বলও মনে হয় যেন অনেকটা বেশি সময় নিয়ে তাঁর কাছে আসছে আর তিনি সেই ব্লকে দিশা দেখিয়ে দিচ্ছেন গ্যালারির দিকে। এই রোহিত শর্মার নেতৃত্বেই ২০২৪ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিল ভারত। আইপিএল শুরু হওয়ার আগে নিজের ফিটনেস নিয়েও যে তিনি যথেষ্ট পরিশ্রম করেছেন সেটারও প্রমাণ পাওয়া গেল কেকেআর-এর বিরুদ্ধে ম্যাচে (Virat Kohli)।

নাইটদের ২২০ রান তাড়া করতে নেমে ওয়াংখেড়েতে দর্শকরা দেখলেন রোহিত ঝড়। এই ম্যাচে আবারও প্রমাণিত হলো কেন তাঁকে হিটম্যান বলা হয়। প্রথম ছয় ওভারেই তিনি রিকেলটনের সঙ্গে জুটি বেঁধে ম্যাচ নিজেদের করে নিতে সক্ষম হন। কোনও বোলারকেই পিটিয়ে ছাতু করতে কার্পণ্য করেননি রোহিত। তাঁর ৩৮ বলে ৭৮ রান করে, ৬টি চার এবং ৬টি ছক্কা। ২০৫.২৬ স্ট্রাইক রেটে তিনি দিন ব্যাট করছিলেন। পুরো আইপিএল-এ ২৬৮টি ইনিংসে তাঁর সংগ্রহে রয়েছে ৭১২৪ রান, যার মধ্যে রয়েছে দুটি সেঞ্চুরি এবং ৪৮টি হাফ সেঞ্চুরি। এর আগে ভারতের হয়ে ওয়ানডে সিরিজেও তিনি ছিলেন ভাল ফর্মে। ঘরোয়া ক্রিকেটেও ভাল পারফর্ম করছেন ভারতের এই তারকা ব্যাটার।

আরও পড়ুন: Lashkar Module: দিল্লি পুলিশের জালে পাকিস্তানি গুপ্তচর!
দুজনের ব্যাটিং এবং বর্তমান ফর্ম থেকেই নতুন করে প্রশ্ন জাগছে যে এই দুই তারকা যদি এই ফর্মেই থাকেন তবে কেন তাঁরা আচমকা অবসর ঘোষণা করলেন? এখন থেকেই উঠে আসছে গম্ভীরের সঙ্গে দুজনের সম্পর্কের অবনতির তত্ত্ব। সমর্থকদর মধ্যে এই প্রশ্ন এখন নতুন করে দানা বাঁধছে। এর আগেও ভারতীয় দলের নির্বাচক এবং কোচকে বিরাট-রোহিতের ২০২৭ সালের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলতে শোনা যায়নি। দুই ইনিংস কিন্তু পৃশ্য একটাই, যার উত্তর হয়ত পাওয়া যাবে সময়ের সঙ্গে অথবা এটাও থেকে যাবে ওপেন সিক্রেট হয়ে (Virat Kohli)।


