Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ইউজিসি-নেট (UGC-NET)-কে ঘিরে ফের প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে এসেছে (UGC NET 2026)। অভিযোগ উঠেছে, ২০২৬ সালের জুন মাসের ইউজিসি-নেট পরীক্ষার আগে সমাজবিজ্ঞান (Sociology) বিষয়ের একটি প্রায় ১০০ পৃষ্ঠার পিডিএফ পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল। আরও বিস্ময়কর বিষয় হল, সেই পিডিএফে থাকা প্রায় ৯০টি প্রশ্ন মূল পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হুবহু মিলে গিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (এনটিএ)-কে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
নিট বিতর্কের পর ফের প্রশ্নের মুখে এনটিএ (UGC NET 2026)
সম্প্রতি NEET-UG প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ইউজিসি-নেটকে ঘিরে নতুন অভিযোগ উঠল। শুধু প্রশ্নফাঁস নয়, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ইউজিসি-নেট পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে একাধিক বানান ভুল, বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানীদের নামের ভুল বানান, দুর্বল হিন্দি অনুবাদ এবং প্রশ্ন প্রণয়নের মান নিয়ে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। ফলে এনটিএ-র প্রশ্নপত্র তৈরির পদ্ধতি এবং মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
১০০ পৃষ্ঠার পিডিএফ নিয়ে কী অভিযোগ? (UGC NET 2026)
সূত্রের দাবি, পরীক্ষার কয়েক দিন আগে একটি বিস্তারিত পিডিএফ বিভিন্ন মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, পিডিএফটি ছিল প্রায় ১০০ পৃষ্ঠার। সেটি ইউজিসি-নেট সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নভিত্তিক প্রস্তুতির নামে ছড়ানো হয়।
পরে দেখা যায়, মূল পরীক্ষার প্রায় ৯০টি প্রশ্ন সেই নথির সঙ্গে মিলে গেছে। যদি এই অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে প্রশ্নপত্র পরীক্ষার আগেই বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
রাহুল গান্ধীর তীব্র আক্রমণ (UGC NET 2026)
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। একটি সংবাদ প্রতিবেদন শেয়ার করে তিনি অভিযোগ করেন, যে ধরনের প্রশ্নভিত্তিক পিডিএফ পরীক্ষার আগে বাইরে এসেছে, তা কেবলমাত্র এনটিএ-র কাছেই থাকার কথা। ফলে কীভাবে সেই নথি বাইরে এল, তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। রাহুল গান্ধীর দাবি, প্রশ্নপত্র ফাঁস এখন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং তা একটি বড় চক্রের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
২.২৫ লাখ টাকায় প্রশ্ন বিক্রির অভিযোগ
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি হল প্রশ্নপত্র বিক্রিকে কেন্দ্র করে। দাবি করা হয়েছে, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, দিল্লি এবং রাজস্থানের বিভিন্ন জায়গায় ইউজিসি-নেট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রতি প্রার্থী ২.২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হচ্ছিল। অভিযোগ আরও বলছে, একই নেটওয়ার্ক ভবিষ্যতের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা—যেমন CSIR-NET, HTET এবং ADA-সহ একাধিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল। যদিও এই অভিযোগগুলির সরকারি স্তরে এখনও কোনও চূড়ান্ত সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি, তবুও বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হওয়ায় ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
এনটিএ-র প্রতিক্রিয়া নেই (UGC NET 2026)
এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়া পর্যন্ত জাতীয় পরীক্ষা সংস্থার কোনও আধিকারিক আনুষ্ঠানিকভাবে এই অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য করেননি। সংবাদমাধ্যমের ফোন বা বার্তারও কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। ফলে অভিযোগের সত্যতা, তদন্তের অগ্রগতি এবং এনটিএ-র অবস্থান সবকিছু নিয়েই এখনও ধোঁয়াশা বজায় রয়েছে।
পরীক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে (UGC NET 2026)
প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী ইউজিসি-নেট পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। এই পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই সহকারী অধ্যাপক পদে যোগ্যতা, জুনিয়র রিসার্চ ফেলোশিপ (JRF) এবং পিএইচডি-তে ভর্তির সুযোগ নির্ধারিত হয়। এমন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাকে ঘিরে যদি বারবার প্রশ্নফাঁস বা প্রশ্নপত্রের মান নিয়ে অভিযোগ ওঠে, তাহলে পরীক্ষার্থীদের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নেওয়া মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা মনে করছেন, এ ধরনের অভিযোগের দ্রুত, স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।
আরও পড়ুন: Jyoti Basu: রাজনীতির কিংবদন্তি জ্যোতি বসু, আজও আলোচনার কেন্দ্রে তাঁর নাম
পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এখন বড় চ্যালেঞ্জ
গত কয়েক বছরে বিভিন্ন সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাকে ঘিরে একাধিক বিতর্ক সামনে এসেছে। প্রশ্নফাঁস, প্রযুক্তিগত ত্রুটি, অনুবাদের ভুল, মূল্যায়ন সংক্রান্ত অসঙ্গতি—সব মিলিয়ে পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থাগুলির ওপর জনসাধারণের আস্থা কমতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশ্নপত্র প্রস্তুতি থেকে শুরু করে ডিজিটাল নিরাপত্তা, এনক্রিপশন, প্রশ্ন বিতরণ এবং পরীক্ষাকেন্দ্র পর্যায় পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে আরও শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।



