Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বুধবার এসিএল টু-র কোয়ালিফায়ারে (East Bengal AFC) ঘরের মাঠে কুয়েত লিগের রানার্স দল আল-আরবির বিরুদ্ধে এক রূপকথার জয় ছিনিয়ে নিল ইস্টবেঙ্গল। পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত লড়াই করে কুয়েতের এই শক্তিশালী দলকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিল লাল-হলুদ ব্রিগেড। ম্যাচের আগে দলের সব বিদেশিদের না পাওয়া নিয়ে কোচ আন্তেনিও লোপেজ হাবাসের কপালে চিন্তার ভাঁজ থাকলেও, মাঠে নামার পর সেই সমস্ত সমস্যাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জয় তুলে নিল দল।
গ্যালারির উন্মাদনা (East Bengal AFC)
এএফসি-র মঞ্চে পুরুষ ও মহিলা দলের লড়াইকে সামনে রেখে এ দিন এক বিশেষ ব্যানার নিয়ে মাঠে এসেছিলেন ইস্টবেঙ্গল সমর্থকেরা। প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার লাল-হলুদ সমর্থকের গ্যালারির টিফো এবং হাতে থাকা জাতীয় পতাকা ম্যাচের উত্তাপ বহু বাড়িয়ে দিয়েছিল।
ম্যাচের প্রথমার্ধ (East Bengal AFC)
খেলা শুরু হতেই চাপে পড়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। পাঁচ বিদেশিকে প্রথম একাদশে রেখে শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজ নেয় আল-আরবি। কেনিয়ান মালেকো, লিওনার্দো মার্টিন্স শেলডন, আনায়ো ইউয়ালা, জোহের রশুল এবং জাইদ কুনবারদের নিয়ে গড়া কুয়েতের দলটির বিরুদ্ধে রক্ষণ সামলাতে হয় হাবাসের দলকে। বিদেশি ডিফেন্ডার নাচো না থাকায় চার ভারতীয়—আনোয়ার আলি, জয় গুপ্তা, হার্দিক ভাট ও সন্দীপ মাণ্ডির উপরই রক্ষণভাগের ভরসা রেখেছিলেন কোচ।

ম্যাচের ৬ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে রশিদের জোরালো শট রুখে দেন আল-আরবির গোলকিপার আবদুলওয়াহাব। ১১ মিনিটে জেসিন টিকে গোল লক্ষ্য করে শট নিলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। ২৩ মিনিটে বাঁদিক দিয়ে উঠে আসা মালেকোর শট ধরতে গোলকিপার প্রভসুখন সিং গিল প্রথম দফায় ভুল করলেও শেষ পর্যন্ত গোললাইন সেভ হয়। ২৮ মিনিটে ভালো জায়গায় পৌঁছেও সুযোগ হাতছাড়া করেন এডমুন্ড। বাঁ-প্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকে শট না নিয়ে ব্যাক পাস বাড়ালেও সেখানে কেউ উপস্থিত ছিলেন না। প্রথমার্ধে দুই দলই গোলের দেখা পায়নি এবং খেলার ফল ছিল গোলশূন্য।
দ্বিতীয়ার্ধের নাটকীয় মোড় (East Bengal AFC)
আরও পড়ুন: Hardik Pandya: হার্দিক পান্ডিয়ার ঘর ওয়াপসি ড্রামা, ক্যাপ্টেন্সি নাকি প্যাক আপ!
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আক্রমণে ধার বাড়ায় ইস্টবেঙ্গল। ৫০ মিনিটে দানি র্যামিরেজের পাস ধরে জেসিন টিকে ফাঁকায় বল বাড়ান বিপিনকে। কিন্তু দুরন্ত গতিতে বক্সে ঢুকেও তিনি গোল করতে ব্যর্থ হন। ৭০ মিনিটের পর বদলি হিসাবে মাঠে নামেন পিভি বিষ্ণু। তবে ম্যাচের বড় টার্নিং পয়েন্ট আসে ৭৫ মিনিটে। নিজেদের বক্সে আল-আরবির মালেকোকে ফাউল করে বসেন সন্দীপ মাণ্ডি।

পেনাল্টি পায় কুয়েতের দল আল-আরবি। স্পট কিক থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন নাইজিরিয়ান উইঙ্গার আনায়ো ইউয়ালা। পিছিয়ে পড়ে তেড়েফুঁড়ে ওঠে লাল-হলুদ বাহিনী। কোচ হাবাস ক্রিস ইকোনোমিডিসকে মাঠে নামালে খেলায় জাদুর ছোঁয়া লাগে। একের পর এক আক্রমণে প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে ফেলে ইস্টবেঙ্গল। ৮৯ মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত সেই মুহূর্ত। সেটপিস থেকে নিখুঁত ক্রস বাড়ান সতীর্থ, আর তাতে মাথা ছুঁইয়ে দুর্দান্ত গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে সমতায় ফেরান ডিফেন্ডার জয় গুপ্তা। নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অসাধারণ ফিনিশ (East Bengal AFC)
আর সেখানেই আল-আরবির (East Bengal AFC) রক্ষণ ভেঙে চুরমার করে দিয়ে একে একে আরও গোল তুলে নিয়ে ৪-১ ব্যবধানের বিশাল ও ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে ইস্টবেঙ্গল।



